বিজ্ঞানের আসর

Published

নিরাপত্তা এলার্মের শব্দ মনিটার ক্ষমতা

অনেক ভবনেই ইদানিং নিরাপত্তা রক্ষায় ফায়ার এলার্ম থেকে শুরু করে স্মোক ডিটেকটর, চুরি থেকে রক্ষা করতে মোশন সেন্সর ইত্যদি বিভিন্ন আয়োজন থাকে। আবার ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরার ব্যাপক ব্যবহারও রয়েছে। অফিস-আদালতে কিংবা শপিং মলগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারীর জন্য নিরাপত্তা বাহিনী এগুলো ব্যবহার করে।

এসব দিয়ে তারা মূলত একটি জায়গার ছবি এবং ভিডিও দেখতে পেলেও শব্দ পায় না। যদি কখনো কেউ সাহায্যের জন্য চিৎকার করে তাহলে নিরাপত্তা রক্ষীর কান পর্যন্ত সেটি সাধারণত পৌছায় না। এমন অনেক ঘটনা ঘটতে পারে যেখানে ছবি বা ভিডিও থেকে হয়ত কোন দুর্ঘটনার প্রমাণ আগাম পাওয়া সম্ভব না। সেখানে হয়তো শব্দ দিয়ে বোঝা যায় কিছু একটা ঘটতে চলেছে।

কিন্তু এতো শব্দ মনিটর করবে কে? একজন মানুষ হয়তো অনেকগুলো ক্যামেরা মনিটর করতে পারে, কিন্তু অনেক শব্দ একসাথে শুনে তার পক্ষে কিছুই বোঝা সম্ভব না। শব্দ শুনে, বিশ্লেষণ করে কোন এক জায়গায় সম্ভাব্য বিপদ সনাক্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাজ্যের অডিও এনালিটিকস নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্র

পৃথিবী জুড়ে যে চুম্বক ক্ষেত্র আছে তার কথা আমরা সবাই কম বেশি জানি। কিন্তু এটি কি জানি যে, এই চুম্বক ক্ষেত্রই আমাদের রক্ষা কবচ? এই চুম্বক ক্ষেত্র না থাকলে পৃথিবীর বায়ুমন্ডল থাকত না এবং সুর্যের বিভিন্ন ধরনের রেডিয়েশনে মানুষ সহ সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যেতো। সেটি বিজ্ঞানীরা জানেন বলেই পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেত্র মাপার চেষ্টা গত একশ বছরে বিভিন্ন ভাবেই করেছে মানুষ।

তাছাড়া এই ক্ষেত্রের একটি মানচিত্র তৈরিরও চেষ্টা হয়েছে। কেন এই চুম্বক ক্ষেত্রের মানচিত্র দরকার? সমুদ্র স্রোতের গতিবিধি জানা, সারা পৃথিবীতে বেতার যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা অপসারণ করা সহ এমন আরো অনেক কাজেই লাগানো সম্ভব পৃথিবীর চুম্বকীয় ক্ষেত্রকে।

একশ বছর আগে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর ওই চুম্বক ক্ষেত্র মাপার কাজটি করতে চেষ্টা করেছিলেন, কাঠের তৈরি একটি জাহাজের সাহায্যে, সেই সময়কার সবচেয়ে ভালো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে। আর এখন বিজ্ঞানীরা একই কাজ করবেন বলে পরিকল্পনা নিয়েছেন।

এবার একাজে ব্যবহার করা হবে উচ্চ প্রযুক্তির তিনটি সোয়ার্ম স্যাটেলাইট। তবে ১৯১০ সালে এই কাজটি যতটা কঠিন ছিলো এখন ২০১০ সালে এসেও কাজটি একই পরিমাণ শক্ত আছে।