ঔপনিবেশিক ব্রিটেনের বিরুদ্ধে মামলা

পঞ্চাশের দশকে আটককৃত মাউ মাউ গেরিলা
ছবির ক্যাপশান, পঞ্চাশের দশকে আটককৃত মাউ মাউ গেরিলা
Published

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমন অভিযোগে কেনিয়ার চারজন নাগরিক বৃহস্পতিবার লন্ডনে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে এক মামলা করেছেন৻

১৯৫০ এর দশকে কেনিয়ায় যে মাউ মাউ নামে যে গণবিদ্রোহ হয়েছিল, তা দমনের সময় এই চার প্রবীণ কেনিয় নাগরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন৻

ব্রিটিশ সরকার বলছে, এসব ঘটনার জন্য এখন আর তাদের দায়ী করা যাবে না, কারণ ১৯৬৩ সালে কেনিয়া যখন স্বাধীন হয়, এসবের আইনী দায় তখন কেনিয়ার কাঁধে বর্তেছে৻

মাউ মাউ বিদ্রোহের ইতিহাস

কেনিয়াতে মাও মাও নামে একটি গেরিলা গোষ্ঠি তাদের তৎপরতা শুরু করেছিলো ১৯৫২ সালের দিকে৻ তখন কেনিয়া ছিলো ব্রিটিশ উপনিবেশ৻ কেনিয়ার মধ্যাঞ্চলে শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা জমি জবরদখলের ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিলো এই সশস্ত্র গেরিলা আন্দোলন৻

পরবর্তী আট বছর ধরে কড়া হাতে এই আন্দোলন দমন করেছিলো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা৻ এবং সে সময় অত্যাচার, নির্যাতনের বহু অভিযোগ রয়েছে৻

কেনিয়া মানবাধিকার কমিশনের এক হিসেবে মাউ মাউ বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা ৯০,০০০ হাজার মানুষকে হয় হত্যা করেছে, নয় চরম নির্যাতন করেছে৻

kenya compensation
ছবির ক্যাপশান, ক্ষতিপূরণ চাইছেন চার কেনিয় নাগরিক

পুরুষদের ধরে খোজা করা হত

ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যে চারজন বর্ষীয়ান কেনিয় মামলা করেছেন তাদের একজন এনদিকু মুতুয়া৻ তার অভিযোগ মাউ মাউ গেরিলা সন্দেহে তাকে ধরে খোজা করে দেয়া হয়েছিলো৻

“আমি মানসিকভাবে একজন বিপর্যস্ত মানুষ৻ আমি একজন পুরুষ, অথচ আমার কোনো পরিবার নেই, স্ত্রী সন্তান নেই৻ মানুষের কাছে আমি লজ্জায় মুখ দেখাতে পারিনা৻“

সত্তরোর্ধ এনদিকু মুতুয়া বলেন তিনি চান ব্রিটিশ সরকার তার সে দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করুক এবং তাকে ক্ষতিপূরণ দিক৻

“ব্রিটিশ সরকার যদি দুঃখ প্রকাশ করে, স্বীকার করে সে সময় কি হয়েছিলো, তাহলে আমি খুশি৻ যে ক্ষতিপূরণই তারা দিক, আমি খুশি৻ কিন্তু তারা রাজী না হলে, আমি প্রতিজ্ঞা করছি আমি ব্রিটেন ছেড়ে নড়বো না৻“

১৯৬১ তে এক সরকারি হিসেবে, বিদ্রোহের ঐ বছরগুলোতে নিহতের সংখ্যা ১১ হাজারেরও বেশি বলা হয়েছিলো৻ পুরুষদের ধরে ধরে খোজা করে দেয়া বা পঙ্গু করে দেয়ার বহু অভিযোগ রয়েছে৻

ব্রিটিশ সরকার বলছে সে সময় যা ঘটেছিলো তা দুঃখজনক কিন্তু তার জন্য তাদেরকে দায়ী করা যায়না৻

সরকারের যুক্তি ১৯৬৩ তে স্বাধীনতা অর্জনের সময় থেকে ঔপনিবেশিক সময়কালীন সমস্ত কিছুর দায় তৎকালীন কেনিয়ার সরকারের ওপর বর্তায়৻

ব্রিটেন দায় এড়াতে পারে না :কৌশুলী

তবে অভিযোগকারী ঐ চার কেনিয় নাগরিকের কৌঁসুলি মার্টিন ডে বলেন এভাবে দায়িত্ব এড়ানো সম্ভব নয়৻

তিনি দাবি করেন আইন তাদের পক্ষে৻ “সরকার দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছে৻ কিন্তু অমি শুধু আইনের কথাই বলছি না, রাজনৈতিক এবং নৈতিক দিক থেকেও সরকার দায় এড়াতে পারে না৻ দায়টা কেনিয়দের ওপর ঠেলে দেয়ার চেষ্টা হাস্যকর“৻

কৌশুলী ডে মার্টিন বলেন, সে সময় সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছিলো বলে নির্যাতন বৈধ হতে পারে না৻

“যাই ঘটুক, আপনি কাউকে ধরে খোজা করে দিতে পারেন না৻ যৌন নির্যাতন করতে পারেন না৻ যেটা আমার মক্কেলদের ক্ষেত্রে হয়েছে৻ ৫০ এর দশকে হোক, বা ৬০ এর দশকে হোক বা ২০১০ সালে হোক, নির্যাতন বেআইনি“৻

পর্যবেক্ষকদের ধারণা এই মামলায় ব্রিটিশ সরকার হারলে অন্যান্য সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকেও এ ধরণের নির্যাতনের মামলা করা হতে পারে৻