সুন্দরবনের কাছে বিদ্যুতকেন্দ্র চুক্তি সই

sundarbans
ছবির ক্যাপশান, পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা প্রস্তাবিত বিদ্যুত কেন্দ্রের ফলে সুন্দরবনের ক্ষতি হতে পারে
    • Author, মীর সাব্বির
    • Role, বিবিসি বাংলা
  • Published

বাংলাদেশে পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ সত্ত্বেও সুন্দরবনের কাছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

সুন্দরবনের কথা বিবেচনা করে পরিবেশবাদীরা এই কেন্দ্রটির স্থান পরিবর্তনের দাবী জানালেও বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ সচিব বলছেন, এই সম্ভাবনা এখন আর নেই।

প্রায় ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বাগেরহাটের রামপালে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি সুন্দরবনের কাছে হওয়ার কারণে তা পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ দাবি করছেন, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবনের খুব কাছে নয় এবং পরিবেশ দূষণ যাতে না হয় সে বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা তারা নেবেন।

তিনি বলেন, ‘এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবন থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে স্থাপন করা হবে। আমরা মনে করি এর ফলে সুন্দরবনের ওপর সরাসরি কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া হবে না। তারপরও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফলে যাতে নদীর পানির দূষণ না হয় এবং ছাইভষ্ম সংগ্রহ করাসহ ক্ষতি হ্রাস করার নানারকম ব্যবস্থা এখানে থাকবে।‘

সরকারের এই আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না পরিবেশবাদীরা। তারা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবনের কাছে এবং কয়লাভিত্তিক এই কেন্দ্রটি সেখানে স্থাপন করা হলে তা সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ড. এম এ মতিন বলছিলেন, সরকারের কথায় তারা আশ্বস্ত নন।

ড. মতিন বলেন, ‘সরকার যে যুক্তি দিচ্ছে তা ঠিক নয়। তারা নিজেদের মতো করে কিছু ব্যখ্যা তৈরি করে বলছেন যে আসল বন বেশ দূরে। কিন্তু আমরা দেখেছি বনের ৬ কিলোমিটারের মধ্যেই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তৈরি হচ্ছে। তারা কিভাবে ক্ষতি হ্রাস করবেন সেটাও আমরা জানি না। আমরা সরকারকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করবো। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফলে সুন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে।‘

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মান করা হবে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থা ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানী বা এনটিপিসির এবং বাংলাদেশের পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বা পিডিবির যৌথ উদ্যোগে।

বিদ্যুৎ সচিব বলছেন, ‘এ উদ্দেশ্যেই চুক্তিটিতে উভয় প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যৌথ একটি কোম্পানি গঠন করার কথা রয়েছে।

এই কোম্পানীর অধীনে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের আরো কিছু স্থানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে খরচ হবে প্রায় ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশ এবং ভারত যৌথভাবে অর্থায়ন করবে।

মি. আজাদ বলেন, উচ্চপ্রযুক্তির এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবধরনের ব্যবস্থা থাকবে। তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত নেই।

‘আমাদের বিবেচনায় মনে হয়েছে এতে সুন্দরবনের কোন ক্ষতি হবে না‘ বলেন মি. আজাদ।

তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কাজ শুরু করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটি চুড়ান্ত ছাড়পত্রের প্রয়োজন হবে।

১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে।

বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বন রয়েল বেঙ্গল টা‌ইগারসহ বিভিন্ন বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল এবং এ‌ বন আশেপাশের এলাকায় বসবাসরত লাখ লাখ মানুষকে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষা করে আসছে।