মাঠে ময়দানে

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে ক্রিকেট জগতে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা খানিকটা কেটে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
এক সময় সংশয় ছিল যে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শ্রীলংকা ক্রিকেট দলের সফর, এশিয়া কাপ এবং টি২০ বিশ্বকাপ - এই ইভেন্টগুলো আদৌ হতে পারবে কিনা।
তবে এখন মেটামুটি নিশ্চিত যে শ্রীলংকা দলের সফরটি হচ্ছে। এই সফরে শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের মধ্যে দুটি টেস্ট, তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক এবং দুটি টি২০ আন্তর্জাতিক হবে।
তবে রাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে ক্রিকেট মওসুমের ক্রীড়াসূচি বিঘ্নিত হবার ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজের জন্য কতটা তৈরি ?
বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকমন্ডলীর প্রধান ফারুক আহমেদ স্বীকার করছেন যে তাদের প্রস্তুতি বিঘ্নিত হয়েছে, কিন্তু তিনি এটাও বলছেন - সেই অভাবটা যতটা সম্ভব পুষিয়ে নেবার জন্য ক্রিকেট বোর্ড কিছু খেলার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে খেলোয়াড়দের জন্য।
ফারুক আহমেদ আরো বলছেন, দলে এখন বেশ কিছু তরুণ এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছেন এবং শ্রীলংকার বিরুদ্ধে সিরিজে বাংলাদেশ খুব খারাপ করবে না বলে তিনি আশাবাদী।
বিশ্বকাপ ২০২২ কখন হবে? এখনো নিশ্চিত নয় ফিফা।

এটা সবাই জানেন এবছর বিশ্বকাপ ফুটবল ব্রাজিলে, ২০১৮তে রাশিয়ায়, আর তার পর ২০২২ সালে হবে কাতারে ।
সমস্যা হচ্ছে বিশ্বকাপ যে সময়টা সাধারণত হয়, সেই জুন-জুলাই মাসে কাতারে প্রচন্ড গরম পড়ে, একেক সময় তাপমাত্রা উঠে যায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
ফলে - বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২২ কাতারে হবে এই কথা জানার পর থেকেই - সারা ফুটবল দুনিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে যে ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় খেলোয়াড়রা ফুটবল খেলবে কি করে ?
এ নিয়ে মাসের পর মাস বিতর্ক -সমালোচনার পর এখন ফিফার কর্মকর্তাদের মুখ থেকে নানা রকম কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে - যাতে ব্যাপারটা নিয়ে বিভ্রান্তি আরো বাড়ছে।
কিছুকাল আগে স্বয়ং ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার আভাস দিয়েছিলেন যে কাতার বিশ্বকাপ সময়র্সচিতে পরিবর্তন হতে পারে, যদিও এর জন্য তার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।

কিন্তু ব্যাপারটা থেমে থাকে নি, এবার মুখ খুলেছেন ফিফার মহাসচিব জেরোম ভাল্ক। তিনি বলছেন, তার মনে হচ্ছে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ হবে শীতকালে ।
তিনি বলছেন, "আমি খোলাখুলি বলছি, আমার মনে হয় ১৫ই নভেম্বর থেকে ১৫ই জানুয়ারির মধ্যে কোন এক সময় বিশ্বকাপ ফুটবল হবে। আপনি যদি ধরে নেন যে ১৫ই নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের শেষ - এই সময়টুকুর মধ্যে বিশ্বকাপ হয় - তাহলে তখনকার আবহাওয়া হবে সবচেয়ে অনুকুল, অনেকটা ইউরোপের বসন্তকালের হালকা গরমের মতো। তাপমাত্রা হবে গড়ে ২৫ ডিগ্রির মতো। সুতরাং সেটা ফুটবল খেলার জন্য একেবারে আদর্শ।"
কিন্তু মি. ভাল্কের এই মন্তব্য ফিফাকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। কারণ ফিফা যখন এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য অন্তত আট মাস সময় নিতে চাইছে। তখন ফিফার দু নম্বর ব্যক্তির এই কথায় অনেকেরই মনে হতে পারে যে আসলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে, আলোচনাটা লোক-দেখানো। ইউরোপের ফুটবল কর্তা মিশেল প্লাটিনি ঠিক এ জন্যই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্তি করেছেন।

তবে জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান উলফগাঙ্ নিয়ের্সবাখও মি. ভাল্কের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলছেন, গ্রীষ্মকালে কাতারে ফুটবল খেলা সম্ভব নয়। তিনি বলছেন, শীতকালীন অলিম্পিকের সময়সুচির সাথে সংঘর্ষ ঠেকাতে খুব সম্ভবত বিশ্বকাপ নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসেই হবে।
কিন্তু বিশেষ করে ইউরোপ এবং আমেরিকার ক্রীড়া কর্তৃপক্ষগুলো এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা বলছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ফুটবল লিগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএলের মতো টুনামেন্টগুলোর সময়সুচি, টিভি এবং খেলোয়াড়দের সাথে চুক্তি - এগুলোতে গুরুতর সমস্যা তৈরি করবে কাতারের বিশ্বকাপ।
কথা হচ্ছিল দি ডেইলি টেলিগ্রাফের ক্রীড়া সম্পাদক মিহির বোসের সাথে। মি. বোস অবশ্য বলছেন, জেরোম ভাল্ক যা বলছেন, তাতে তার মনে হচ্ছে যে শীতকালে বিশ্বকাপ ফুটবল হলে টিভি কোম্পানিগুলো আপত্তি করবে না - এমন ইঙ্গিত পেয়েই তিনি এ কথা বলেছেন।
মিহির বোস আরো বলেন, শীতকালে বিশ্বকাপ ফুটবল হলে ইউরোপের লিগগুলোর কিছু অসুবিধে অবশ্যই হবে, তবে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর।