মাঠে ময়দানে

Published
test cricket

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাঠামোতে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনার জন্য আইসিসিতে নতুন যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে – তা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটের কাঠামোগত সংস্কার করার যে প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে বলা হচ্ছে, আইসিসির পূর্ণ সদস্যপদ ১০টি হলেও টেস্ট ক্রিকেট খেলবে মূলত আটটি দেশ। বাকি দুটি দেশ টেস্ট খেলতে পারবে তবে সে সুযোগ পেতে হলে তাকে সহযোগী সদস্য দেশগুলোর সাথে একটি চারদিনের ক্রিকেটের টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। বলা যায় টেস্ট ক্রিকেটে চালু হচ্ছে রেলিগেশন প্রথা ।

ফলে সংশয় দেখা দিয়েছে - নতুন ব্যবস্থা অনুমোদিত হলে র‍্যাংকিংএর ৯ আর ১০ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে আদৌ টেস্ট খেলতে পারবে কিনা।

test cricket

তবে ভারত, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া এই তিনটি দেশের টেস্ট মর্যাদা স্থায়ী থাকবে, তাদের কখনো রেলিগেশন হবে না। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নতুন ক্ষমতা কাঠামোতে এই তিনটি দেশের থাকবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ ক্ষমতা, কারণ তারাই ক্রিকেট থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ আয় করে।

এই তিনটির মধ্যেও মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট হলো সবচাইতে ধনশালী, ক্রিকেটের ৮০ শতাংশ আয়ই হয় ভারত থেকে। ফলে তারাই হবে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ক্রিকেট পরাশক্তি।

আইসিসির অর্থ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি ওয়ার্কিং গ্রুপের তৈরি এই প্রস্তাবগুলো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হবার পরই শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলংকা বেশ কিছু দেশ এসব প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে।

বাংলাদেশ বলছে, তারা টেস্ট ক্রিকেটে দুই স্তর চালুর প্রস্তাবের বিরোধিতা করবে, আইসিসির ২৮-২৯ জানুয়ারির বৈঠকে।

কি আছে এই আইসিসির পুনর্গঠনের প্রস্তাবে?

test cricket

প্রস্তাবগুলোর মূল কথা হলো, আইসিসির নতুন নির্বাহী কমিটির তিনটি স্থায়ী সদস্য হবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড। আইসিসির যে কোন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতাই হবে সবচাইতে বেশি। এই তিনটি দেশের থাকবে ভেটো ক্ষমতা এবং স্থায়ী টেস্ট মর্যাদা।

বাংলাদেশে আর জিম্বাবুয়ের মতো নিচের কাতারের দেশকে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে হলে সহয্গেী দেশগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

আন্তজাতিক কিকেট সিরিজগুলোর সময়সুচিও আর আইসিসি তৈরি করবে না। সময়সুচি ঠিত করবে দেশগুলো নিজেরাই, দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের সাথে অন্য কোন দেশ টেস্ট খেলতে না চাইলে তারা টেস্ট খেলার সুযোগ পাবে না। ৫০ ও ২০ ওভারের আন্তজাতিক ক্রিকেট খেলেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে তাদের।

এই যে নতুন পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে - তা নিয়ে আলোচনা হবে দুবাইতে আগামি ২৮ ও ২৯শে জানুয়ারি।

বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড এ ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছে তবে তাদের কি অবস্থান, তা এখনো স্পষ্টভাবে বলে নি। শোনা যাচ্ছে তারা এটা মেনেই নিয়েছে যে ক্রিকেট দুনিয়ায় এক বড় পরিবর্তন আসন্ন ।

test cricket

এ ব্যাপারে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কিছু তারা করবেন না। প্রস্তাবগুলোর কিছু দিক নিয়ে ব্যাখ্যা তারা চাইবেন - যা পেলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ঠিক কি ভাবনা থেকে আইসিসির মধ্যে এত ব্যাপক পরিবর্তন আনার কথা হলো, তা নিয়ে বাঙ্গালুরুতে উইজডেন ইন্ডিয়ার সিনিয়র সম্পাদক সাম্য দাশগুপ্ত বলছেন, ক্রিকেটের বাণিজ্যিক দিক এবং টেস্ট ক্রিকেটের পরিবর্তিত বাস্তবতা মাথায় রেখেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ প্রস্তাব পাস করাতে হলে এর পক্ষে ১০টি পূর্ণ সদস্যের মধ্যে অন্তত সাতটির ভোট লাগবে।

টেস্ট ক্রিকেটকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক রাখতে গিয়ে যদি দেশের সংখ্যা সীমিত করে ফেলা হয়, তাহলে টেস্ট ক্রিকেটই বা শেষ পর্যন্ত কতদিন টিকে থাকবে?

লন্ডনে ক্রীড়া ভাষ্যকার মিহির বোস বলছিলেন, টেস্ট ক্রিকেট হয়তো সীমিত আকারে টিকে থাকবে, কারণ এর দর্শক ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।

মিহির বোস বলেন, দ্বিতীয় সারির দলগুলোকে হয়তো ৫০ ওভার বা ২০ ওভারের ক্রিকেটেই বেশি মনোযোগ দিতে হবে - কারণ এতে শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে তাদের ভালো করার বা জেতার বেশি সম্ভাবনা থাকবে।