আব্দুল মতিন থেকে যেভাবে 'ভাষা মতিন'

ছবির উৎস, focus bangla
- Author, শারমিন রমা
- Role, বিবিসি বাংলার জন্য বিশেষ প্রতিবেদন
- Published
বাংলা ভাষার ইতিহাসের সঙ্গে যে নামগুলো জড়িয়ে আছে, তার অন্যতম ‘ভাষা মতিন’। বুধবার অবসান হল ভাষা আন্দোলনের সেই অন্যতম সংগঠক আব্দুল মতিনের ৮৮ বছরের বর্ণিল জীবনের। মস্তিষ্কে স্ট্রোক হওয়ায় গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত তেশরা অক্টোবর থেকেই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। বুধবার সকালে সেখানেই তাকে মৃত ঘোষনা করেন চিকিৎসকরা।
বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ধুবালীয়া গ্রামে ১৯২৬ সালের ৩রা ডিসেম্বর জন্ম নিলেও পরবর্তীতে বাবার কর্ম জীবনের সুবাদে এই কিংবদন্তীর ছেলেবেলা কেটেছে দার্জিলিং-এ। সেখানে স্কুল জীবন শেষ করে ১৯৪৩ সালে রাজশাহী গভর্মেন্ট কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন এবং পরে মাস্টার্স করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে। ১৯৫২ সালে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আব্দুল মতিন।
ভাষা আন্দোলনের পর তিনি ছাত্র ইউনিয়ন গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং পরে সংগঠনটির সভাপতিও হন। এরপর কমিউনিস্ট আন্দোলনে সক্রিয় হন তিনি। ১৯৫৪ সালে পাবনা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক হন মি. মতিন। মওলানা ভাসানী ‘ন্যাপ’ গঠন করলে তিনি ১৯৫৭ সালে তাতে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে মতিন ‘পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল ) গঠন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ২০০৬ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। পরবর্তীকালে ২০০৯ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি পুনর্গঠিত হলে আব্দুল মতিন আবারও এতে যোগ দেন।
ভাষা আন্দোলন বিষয়ে তার রচিত বিভিন্ন গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বাঙালী জাতির উৎস সন্ধান ও ভাষা আন্দোলন’, ‘ভাষা আন্দোলন কী এবং কেন’ এবং ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস’। এছাড়া প্রকাশিত হয়েছে তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘জীবন পথের বাঁকে বাঁকে’।
ঢাকার মোহাম্মদপুরে পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন দু'মেয়ের বাবা আব্দুল মতিন । মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই নিজের দেহ তিনি দান করে গেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য, আর চোখ দান করে গেছেন সন্ধানীকে।
সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে এই ভাষা সৈনিকের মরদেহ ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।




