বলপ্রয়োগে সংকটের সমাধান হবেনা : বিএনপি

একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, একজন দর্শক
    • Author, রাকিব হাসনাত সুমন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা চলমান সন্ত্রাস সহিংসতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বলেছেন এসব মোকাবেলায় সরকার ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন আলোচনা চাইলে বিএনপিকে অবশ্যই এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।

তবে বিএনপির একজন নেতা চলমান সহিংসতার জন্য পাল্টা সরকারকেই দায়ী করে বলেছেন বলপ্রয়োগ করে চলমান সংকটের সমাধান হবেনা।

সন্ধ্যায় ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এ পর্বে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং জনগণ রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়ছে কি-না এমন বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

সংলাপের এ পর্বে আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড: শাহদীন মালিক।

একজন দর্শক জানতে চান চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার বিপরীতে অতিরিক্তে বলপ্রয়োগ কি কোন সমাধান বয়ে আনবে ?

আরেকজন দর্শক জানতে জান কঠোরভাবে দমনের মাধ্যমে বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলকে থামিয়ে দেয়া যাবে বলে কি আপনারা মনে করেন ?

জবাবে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত দেশে চলমান সন্ত্রাস ও নাশকতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বলেন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়েই ঠিক করতে হবে।

আরেকজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, আরেকজন দর্শক

তবে আলোচনা চাইলে বিএনপিকে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “সন্ত্রাস হলে তার উত্তর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বা যে সরকার থাকবে তাকে দিতে হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে হবে। আলোচনা চাইলে সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। এভাবে আলোচনা আদায় করা যায় এটা বিশ্বের ইতিহাসে নেই”।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন সরকার পদত্যাগ করে নির্বাচন দিলে চলমান সংকটের অবসান হবে। তিনি মনে করেন বলপ্রয়োগ করে এ সমস্যার কোন সমাধান করা যাবেনা।

তিনি বলেন, “রাজনীতি দিয়েই সমাধান করতে হবে। বলপ্রয়োগে সমাধান হবেনা। বাংলাদেশ এখন পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। তিন বারের প্রধানমন্ত্রী অথচ তার অফিসে তালা দেয়া হয়েছে, পিপার স্প্রে দেয়া হয়েছে, এখন বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয়া হয়েছে। এটা কোন সভ্য দেশ”?

আলোচনায় অংশ নিয়ে রওনক জাহান প্রধান দু দলের নেতারা যেসব উষ্কানিমূলক বক্তব্য বিবৃতি দিচ্ছেন আগে সেগুলো বন্ধ করতে হবে।

একি সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর কথায় কথায় রাজপথে নামা বা দলীয় লোক সমাগম ঘটানোর সংস্কৃতিও পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সাময়িকভাবে ধামাচাপা দেয়া যায়। কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান না হলে এমন পরিস্থিতির সামনে আবার পড়তে হবে। একবছর আগেও দেখেছি, এখন আবার দেখছি”।

অপর প্যানেল আলোচনা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড: শাহদীন মালিক বলেন শুধু মাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে চলমান সংকট উত্তরণের প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হবেনা।

চলমান পরিস্থিতির অবসানে একটি গ্রহণযোগ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

দর্শক
ছবির ক্যাপশান, দর্শক

তিনি বলেন, “আইন শৃঙ্খলার বিষয় আছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। কিন্তু পুরোটাই আইন শৃঙ্খলার বিষয় নয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সমাধান করা ফলপ্রসূ হবেনা”।

একজন দর্শক বলেন, “যেভাবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার হচ্ছে সেটি রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত”।

আরেকজন বলেন, “যারা হরতাল অবরোধে মৃত্যুবরণ করছে তারা কাদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিবে”?

আরেকজন দর্শক জানতে চান চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় যারা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, রাষ্ট্রের কি উচিত তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা ?

জবাবে হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন সরকারের উচিত ক্ষতিপূরণ দেয়া কারণ সরকারই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার বিষয়ে একজন দর্শকের এক প্রশ্নের জবাবে মিস্টার আহমেদ বলেন, "আগে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, তারপর পরীক্ষা নেয়া যাবে"।

তবে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন রাষ্ট্র সহায়তা করতে পারে তবে এমন আইন করা উচিত যাতে যাদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এগুলো হবে তারাই এসব কিছুর জন্য দায়ী থাকবেন।