বিজ্ঞানের আসর
সূর্যের হাই ডেফিনেশন ছবি
সূর্যের খুবই স্পষ্ট, নিখুঁত আর উজ্জ্বল অর্থাৎ হাই ডেফিনেশন কিছু ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- নাসা।
সংস্থাটির টেলিস্কোপ – সোলার ডায়নামিক্স অবজারভেটরি দিয়ে তোলা হয়েছে এসব ছবি, যাতে সূর্যের বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙ আর ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় একেক রকমের তাপমাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এসব ছবি পাশাপাশি রাখার পর দেখা গেছে, সৌরজগতের বৃহৎ এই তারকাটিতে কিছু সক্রিয় এলাকা কিভাবে সৌরঝড় বা সোলার স্টর্মের উৎস হিসেবে কাজ করছে।

ছবির উৎস, SDO Genna Duberstein e Scott Wiessinger
সৌরজগতের কেন্দ্রে থাকা এই সূর্যের দূরত্ব পৃথিবী থেকে প্রায় দেড়শো মিলিয়ন কিলোমিটার।
আমাদের এই গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য্য জ্বালানীর সবচে গুরুত্বপূর্ণ উৎসও এই তারকাটি- যা দেখতে উত্তপ্ত একটি প্লাজমা বলের মতো।
৯৮ শতাংশ হাইড্রোজেন আর বাকি ২ শতাংশ হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি এই সূর্য।
ধারণা করা হয় আজ থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন বছরেরও আগে এই তারকাটির সৃষ্টি হয়েছিলো।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, একেবারে শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত সূর্যের তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ধারণা করা হয়, আরো চার বিলিয়ন বছর এই তারকাটি এই একই রকমের থাকবে।
মহাকাশে ১৫ বছর
আমরা প্রায়শই শুনি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন বা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কথা।
এই স্টেশনটি ঘুরছে পৃথিবীর চারদিকে- গতি প্রতি সেকেন্ডে পাঁচ মাইল।
পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে আসতে এই স্টেশনের সময় লাগে ৯০ মিনিট। স্টেশনটি পৃথিবী থেকে চারশো কিলোমিটার ওপরে।
এই স্পেইস স্টেশনটি শুরুতে ছিলো খুব ছোট- মাত্র তিনটি মডিউল বা অংশ নিয়ে তৈরি হয়েছিলো ওই যান, যেখানে কোনো রকমে দু’একজন নভোচারী ঠাসাঠাসি করে বসতে পারতো- প্রথমে একজন অ্যামেরিকান আর দু’জন রুশ নভোচারী।
এরপর বহু দেশের আরো বহু নভোচারী ওই স্টেশনে গিয়েছেন।

ছবির উৎস, AP
মহাকাশে ভাসতে ভাসতে, যাকে বলা হয়, স্পেইস ওয়াক, ওই স্টেশনের সাথে আরো ১২টি অংশ যোগ করেছেন।
এখন ওই স্টেশনের আকার একটি ফুটবল মাঠের সমান।
এই মহাকাশ স্টেশনের ১৫ বছর পূর্তি হলো গত সপ্তাহে।
এ উপলক্ষে ওই স্টেশন থেকে নভোচারীরা এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। বর্তমান মিশনের প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী স্কট কেলি বলেন, মহাকাশের ওপর গবেষণার জন্যে এই স্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ল্যাবরেটরিতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, “সোজা কথায় এই স্টেশনটি একটি ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগার যা পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে, এটি বিশ্ব মানের গবেষণাগার। এই স্টেশনের লক্ষ্য মহাকাশের অজানা বিষয়ের রহস্য ভেদ করা। পৃথিবীর কক্ষপথের এতো কাছ দিয়ে পরিভ্রমণের কারণে এই স্টেশনের গবেষণা থেকে সৌরজগতের আরো অনেক বিষয়ে আমরা জানতে পারবো। ”

ছবির উৎস, Reuters
ওই স্টেশন থেকে মহাকাশের নানা বিষয়ের ওপর গবেষণা চালান বিজ্ঞানীরা। কাজের ফাঁকে ফাঁকে তারা মজাও করেন।
কানাডার একজন নভোচারী ক্রিস হেডফিল্ড, মহাকাশ স্টেশন থেকেই ডেভিড বোয়ির গানটি রেকর্ড করেছিলেন। ইউ টিউবে এই গানটি ২৭ মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে ।
ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনটি নিয়ে শুনুন নাসার বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষের সাক্ষাৎকার:
স্মার্ট বেঞ্চ
লন্ডনের রাস্তাঘাটে পথ চলতে চলতে দেখতে পাবেন শহরের বিভিন্ন জায়গায় পাঁচটি অভিনব বেঞ্চ পাতা হয়েছে যেখানে আপনি মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে পারেন।
সৌরশক্তি চালিত এসব বেঞ্চ স্মার্ট ফোনের মতো আরো অনেক কিছুই করতে পারে, তাই এগুলোকে বলা হচ্ছে স্মার্ট বেঞ্চ।
ইংরেজি ই অক্ষরের মতো দেখতে বেঞ্চের উপরের ছাদটা সোলার প্যানেল। আর নিচে যেখানে বসার জায়গা সেটা আসলে ব্যাটারি। ওখানেই চার্জিং পয়েন্ট।

ছবির উৎস, Getty
বিভিন্ন ধরনের স্মার্ট ফোনে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে এসব বেঞ্চে। নিজের চার্জার দিয়ে চার্জ দেওয়ারও পয়েন্ট আছে। আছে ওয়ারল্যাস চার্জিং পয়েন্ট।
চার্জ দেওয়া ছাড়াও এই বেঞ্চ সেখানকার তাপমাত্রা কতো, আশেপাশের শব্দের মাত্রা কি, এমনকি পরিবেশ কতোটা দূষণের শিকার হয়েছে সেটাও বলে দিতে পারে। ফলে আপনার মোবাইল ফোনে যদি এসব অ্যাপ্স না থাকে তাও কোনো সমস্যা নেই।
এই স্মার্ট বেঞ্চ আপনাকে সেসব তথ্য সরবরাহ করবে।
সার্বিয়ান একজন স্থপতি এই বেঞ্চের নকশা করেছেন। তার নিজের শহর বেলগ্রেডে বসানো হয়েছে তারই নকশা করা স্মার্ট গাছ যেখানে শুধু চার্জিং পয়েন্টই নয়, বরং ওই গাছটি ওয়াই ফাই হটস্পট হিসেবেও কাজ করছে।
বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান।