মাঠে ময়দানে
শুরু হয়েছে এ বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম টেনিস টুর্নামেন্ট ফ্রেঞ্চ ওপেনের বাছাই পর্ব।
বলা যায়, এটি হচ্ছে ক্লে কোর্ট বা লাল মাটির তৈরি কোর্টের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট।
তিন রকম কোর্টে পেশাদার টেনিস খেলা হয়।
লন্ডনে ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট উইম্বলডন খেলা হয় ঘাসের কোর্টে। নিউইয়র্কের ইউএস ওপেন খেলা হয় সিনথেটিক কোর্টে। আর প্যারিসের রোলাঁ গারোসে ফ্রেঞ্চ ওপেন হয় ক্লে কোর্টে।
এই তিন ধরণের কোর্টে টেনিস খেলাটার চরিত্র অনেক বদলে যায়, অনেকটা ক্রিকেট খেলায় উইকেটের মতোই।

ছবির উৎস, Reuters
অনেক সময়ই দেখা গেছে যে - কোন কোন খেলোয়াড় আছেন, যারা ক্লে কোর্টে অন্যদের তুলনায় বেশি সফল। ফ্রেঞ্চ ওপেনে সিঙ্গেল ও ডাবলস মিলিয়ে সবচেয়ে বেশিবার জিতেছেন রাফায়েল নাদাল - যাকে বলা হয় ক্লে কোর্টের রাজা। অন্যদিকে ১৭টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী রজার ফেডেরার ফ্রেঞ্চ ওপেনে অনেকগুলো ফাইনাল খেললেও শিরোপা জিতেছেন মাত্র একবার।
এই ক্লে কোর্টের বৈশিষ্ট্য কি, এবং কেন সবাই এতে ভালো করতে পারেন না?
ভারতের ডেভিস কাপ টেনিস দলের সাবেক অধিনায়ক এবং এখন টেনিসের প্রশিক্ষক জয়দীপ মুখার্জী বলছিলেন, ক্লে কোর্টে বলটা আস্তে আসে, এক একটা র্যালি অনেক সময় ধরে চলে। কিন্তু ঘাসের কোর্টে বলটা জোরে আসে, বলে র্যাকেট লাগানো সহজতর। কিন্তু সিনথেটিক কোর্টে এ দিকে সুবিধা থাকলেও ইনজুরির ঝুঁকি বেশি।
তার কথায়, তুলনামূলকভাবে রাফায়েল নাদাল, নোভাক জোকোভিচ, এবং এন্ডি মারে ক্লে কোর্টে খেলতে বেশি অভ্যস্ত।
জয়দীপ মুখার্জী বলছিলেন, এবারের ফ্রেঞ্চ ওপেনেও তার মতো সম্ভাব্য জয়ীদের মধ্যে এক নম্বর হলেন নোভাক জোকোভিচ।

ছবির উৎস, BCCI
আইসিসির নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন শশাংক মনোহর, যিনি নির্বাচিত হবার আগে থেকেই বলছেন, আইসিসিতে পরিবর্তন আনতে চান তিনি।
কি ধরণের পরিবর্তন, এতে কি যাদের বলা হয় তিন মোড়ল - তাদের আধিপত্যের অবসান হবে?
বাংলাদেশের মতো দেশগুলোই বা সেসব পরিবর্তনে কতটা লাভবান হবে?
শশাংক মনোহরকে বলা হচ্ছে প্রথম স্বাধীন চেয়ারম্যান - যিনি ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের পদে ইস্তফা দিয়ে আইসিসির চেয়ারম্যান হয়েছেন।
তার পূর্বসূরী এন শ্রীনিবাসন ২০১৪ সালে আইসিসির গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনে যেভাবে বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া - এই তিন দেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন - তাকে বদলে দিতে চান তিনি।

ছবির উৎস, AFP
ওই পরিবর্তনগুলোর ফলে ভারত ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড আইসিসি এবং তার রাজস্বের বড় অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু মি. মনোহর বলছেন - এই পদ্ধতি মোড়লিপনা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং তিনি এর পরিবর্তন চান।
পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে - আইসিসির প্রেসিডেন্টর পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। হয়তো আরো কিছু পরিবর্তন জুনে আইসিসির সভায় হতে দেখা যাবে।
তা ছাড়া শশংক মনোহর চাইছেন আগে প্রতিটি দেশের জন্য যে একটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পূর্বনিধারিত সময়সুচি ছিল - যাকে বলা হতো এফটিপি - সেটা একটু ভিন্ন আকারে ফিরিয়ে আনতে।
কতটা পরিবর্তন আসতে পারে এবং কিভাবে, এবারের মাঠে ময়দানেতে তাই নিয়ে কথা বলেছেন ক্রিকিনফো ওয়েবসাইটের সাংবাদিক মোহাম্মদ ইসাম।
মোহাম্মদ ইসাম বলছিলেন, একটু ভিন্ন আকারেও যদি এফটিপি পুন:প্রবর্তিত হয়, তাহলে হয়তো বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য টেস্ট খেলার সুযোগ একটু বাড়তে পারে।