মাঠে ময়দানে

Published

ইউরোপের ফুটবলে - অন্তত ক্লাব টুর্নামেন্টগুলোয় তো বটেই - স্প্যানিশ ক্লাবগুলোর প্রাধান্য খুব স্পষ্ট।

১৯৯৯-২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭ বার কোন না কোন স্প্যানিশ ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা জিতেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি তারকারা খেলেন রেয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা বা এটলেটিকো মাদ্রিদের মতো এসব ক্লাবে।

চ্যাম্পিয়ন্স লীগে সবচেয়ে সফল ক্লাব স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ। সব মিলিয়ে ১০ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা । এবার সেটা ১১ হতে পারে, কারণ আর ক'দিন পরই চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে খেলবে দুই স্প্যানিশ ক্লাবই - রেয়াল মাদ্রিদ আর এটলেটিকো মাদ্রিদ।

তা ছাড়া আরও দেখুন, ক'দিন আগেই ইউরোপা লীগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেনের ক্লাব সেভিয়া - যারা পর পর তিনবার এ টুর্নামেন্ট জিতলো। ২০১০ থেকে মোট পাঁচ বার ইউরোপা লীগ জিতেছে স্পেনেরই কোন না কোন ক্লাব।

barcelona
ছবির ক্যাপশান, বার্সেলোনায় আছে মেসি, সুয়ারেজ বা নেইমারের মতো তারকা

ইউরোপের ক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্টে স্পেনের এই যে আধিপত্য - এর কারণ কি?

মাদ্রিদে ফুটবল বিশ্লেষক ফিল মিনশুল বলছিলেন, "ক্লাব ফুটবলে স্পেন যে এখন প্রধানতম শক্তি। এর একটা প্রধান কারণ হচ্ছে স্পেনের বড় ক্লাবগুলোর অর্থনৈতিক শক্তি। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো বা লিওনেল মেসি তো বটেই - বার্সেলোনা এবং রেয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবগুলো সব সময়ই দুনিয়ার সেরা খেলোয়াড়দের কিনতে চায়। গত কয়েক বছরে গ্যারেথ বেল, নেইমার, লুইস সুয়ারেস - এদের মতো বড় তারকাদের কিনতে এসব ক্লাব বিশাল অংকের টাকা খরচ করেছে।"

"পৃথিবীর সব শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়রা এখন স্পেনে খেলতে আসছে। তাদের একেকজনের বেতন প্রতি সপ্তাহে প্রায় পাঁচ লাখ ডলার। এরকম অবিশ্বাস্য অংকের বেতন দেবার ক্ষমতা এইসব ক্লাবগুলোরই আছে। তার পর এই তারকাদের ইমেজ এবং বিপণন থেকে পাওয়া আয় তো আছেই।"

রেয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার ম্যাচ
ছবির ক্যাপশান, রেয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার ম্যাচ

ফিল মিনষুল বলছিলেন, বাস্তবতা হচ্ছে, স্পেনের বড় ক্লাবগুলো ৫০/৬০ বছর ধরেই ফুটবল দুনিয়ার শীর্ষ কাতারে আছে। ক্লাব ফুটবল লীগ হিসেবে এক সময় স্পেনের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ইতালিয়ান লিগ। কিন্তু এখন আর তা নেই, একমাত্র ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগই স্পেনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

"প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি, আর্সেনাল বা টটেনহ্যাম - যারা অত্যন্ত ধনী ক্লাব। কিন্তু সাফল্যের দিক থেকে স্পেনের দলগুলোকে পেচনে ফেলতে হলে তাদের আরো ভালো খেলতে হবে।"

সম্প্রতি স্পেনের ফুটবলেও দেখা যাচ্ছে যে বিদেশী ধনীরা স্পেনের ক্লাব কিনে নিচ্ছেন। একটি হচ্ছে ভ্যালেন্সিয়া, একটি চীনা গোষ্ঠী তাদের নতুন মালিক হয়েছে। এ ছাড়া আছে মালাগা, আলাভেস, সানটানডার - ইত্যাদি আরো কিছু ক্লাব, এরাও বিদেশী মালিকানায় চলে গেছে। এটলেটিকোর মালিকানার একাংশ একটি চীনা গোষ্ঠী কিনেছে।

sevilla
ছবির ক্যাপশান, স্পেনের ক্লাব সেভিয়া এবার পরপর তৃতীয়বারের মতো ইউরোপা লীগ জিতেছে

স্পেনের লীগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। এ কথাটা কতটা সঠিক? এর জবাবে ফিল মিনশুল বলছিলেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও এবার লেস্টারের চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়া, শিরোপা বরাবরই জিতেছে হাতে গোণা কয়েকটি ক্লাব।

স্প্যানিশ লিগে ভিলারিয়েল এবং সেল্টা ভিগোর মতো দল - যারা এবার চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থান পেয়েছে - তাদের দলেও কিন্তু ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে, জাতীয় দলের খেলোয়াড় আছে। তারা ২০০৭ সালে লা লিগায় বড় দুই ক্লাবের আধিপত্য ভেঙে দ্বিতীয় স্থানও পেয়েছিল।

তবে স্পেনে রিয়াল বা বার্সেলোনা যখন ছোট দলকে হারায়, ৬-৭ গোলে হারায় - যেটা প্রিমিয়ার লিগে খুব একটা হয় না।

এ কারণেই এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে স্পেনের লীগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত তীব্র না - যা পুরোপুরি ঠিক নয়।

south africa
ছবির ক্যাপশান, দক্ষিণ আফ্রিকা দলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় এখনো কম

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনের অবসানের পর এর জাতীয় ক্রিকেট দলে বেশ কিছু কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পেয়েছেন।

সেখানে ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কৃষ্ণাঙ্গ বা মিশ্র বর্ণের খেলোযাড়দের সুযোগ দিতে কোটা প্রথা চালু আছে।

কিন্তু এই কোটার লক্ষ্যমাত্রা অনেক সময়ই পুরণ করা যাচ্ছে না, কারণ যথেষ্ট সংখ্যক উচ্চ মানসম্পন্ন অশ্বেতাঙ্গ খেলোয়াড় পাওয়া যাচ্ছে না ।

এর ফলে দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী ফিকিলে এমবালুলা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন যে - এক বছরের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিকেট বিশ্বকাপ বা বিশ্ব টি২০র মতো বড় আন্তর্জাতিক টুনামেন্ট আয়োজন হতে পারবে না।

দক্ষিণ আফ্রিকা হাশিম আমলা
ছবির ক্যাপশান, দক্ষিণ আফ্রিকা হাশিম আমলা

দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গরা ক্রিকেট খেলছে ১৮৮০র দশক থেকেই - কিন্তু জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছে ১৯৯২ সালের পর থেকে।

২৪ বছর আগে এখানে বর্ণবৈষম্য উঠে যাবার পর যে ৯১ জন ক্রিকেটার জাতীয় দলে খেলেছেন - তার মধ্যে মাত্র ৭ জন কৃষ্ণাঙ্গ। এর মধ্যে শুধু মাখায়া এনটিনি একশ'র বেশিবার জাতীয় দলে খেলেছেন । কাজেই সর্বোচ্চ স্তরে কৃষ্ণাঙ্গদের যথেষ্ট সুযোগ দেয়া হচ্ছে কি?

আরো একটি প্রশ্ন, কোটা ব্যবস্থার ফলে কি দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের কোন উপকার হচ্ছে? নাকি ক্ষতি হচ্ছে?

এ নিয়েই মাঠে ময়দানেতে শুনবেন বিবিসির মোমেদ আলির প্রতিবেদন।