মাঠে ময়দানে
সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড টি২০-র সময় যে দু'জন বাংলাদেশের বোলার অবৈধ বোলিং এ্যাকশনের জন্য সাসপেন্ড হয়েছিলেন। একজন ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ, তবে দ্বিতীয়জন স্পিনার আরাফাত সানি।
এর আগে গত দেড় দশকের মধ্যে বাংলাদেশের যে সব বোলার সন্দেহজনক বোলিং এ্যাকশনের জন্য সাসপেন্ড বা রিপোর্টেড হয়েছিলেন তারা হলেন: আবদুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজী, আল-আমিন হোসেন, নাইমুর রহমান এবং মোহাম্মদ রফিক। এদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই স্পিনার ।
এর পর ঢাকার প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটে এবার এক মওসুমেই পাঁচজন বোলার সন্দেহজনক বোলিং একশনের জন রিপোর্টেড হয়েছে। লক্ষ্য করার মতো বিষয় যে এরা প্রায় সবাই স্পিনার।
প্রশ্ন উঠতেই পারে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে থেকে এক বছরে এতগুলো ক্রটিপূর্ণ বোলিং এ্যাকশনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যাচ্ছে কেন? এমন হতেই পারে যে বাংলাদেশের অনেক তরুণ বোলারই এমন কোন প্রশিক্ষকের সহায়তা পান নি - যিনি কম বয়েসেই তা এ্যাকশনে ত্রুটি থাকলে তা ধরিয়ে দেবেন, বা সংশোধন করে দেবেন।
ফলে অনেকে হয়তো এসব ত্রুটির ব্যাপারে সচেতন হবার আগেই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলা সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন।

২০০৮ সালে প্রায় পাঁচ মাসের জন্য সাসপেন্ড ছিলেন বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। তার বোলিং এ্যাকশনে ক্রটির জন্য সাসপেন্ড হবার পর তিনি তা সংশোধন করে পাঁচ মাসের মধ্যেই আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে এসেছিলেন।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ১২টি টেস্ট ১৫৩টি ওডিআই এবং ৩৪টি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আড়াইশ'র বেশি উইকেট পেয়েছেন।
তিনি এবারের মাঠে ময়দানেতে বলছেন, কেন একজন তরুণ ক্রিকেটারের ত্রুটিপূর্ণ বোলিং এ্যাকশন অনেক সময়ই শুরুতেই ধরা পড়ে না।
বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলছেন, পৃথিবীর সব দেশেই ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলারদের এ্যাকশনের ত্রুটি ধরা পড়ে, এতে অস্বাভাবিক কিছুই নেই। বাংলাদেশের তরুণ বোলাররা যেন শুরু থেকেই তাদের বোলিং এ্যাকশন শুদ্ধভাবে গড়ে নিতে পারে - সে জন্য বিসিবি এক বড় পরিকল্পনা নিয়েছে, বলছিলেন এই কর্মকর্তা।

ছবির উৎস, Getty
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফুটবলে এবার শিরোপা জিতে নিয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ। এটলেটিকো মাদ্রিদকে মিলানের ফাইনাল পেনাল্টিতে হারিয়েছে তারা।
ইউরোপের চ্যাম্পিয়নস লিগ হচ্ছে ক্লাব ফুটবলের সবচাইতে বড় টুর্নামেন্ট - যার জনপ্রিয়তা সারা বিশ্ব জুড়ে। ফুটবল নিয়ে যে কোটি কোটি ডলারের বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য - তাতেও এই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বিরাট গুরুত্ব আছে।
ফুটবল বিশ্লেষক ফিল মিনশুল বলছেন, এই বিজয় শুধু রেয়াল মাদ্রিদের জন্যই যে বাড়তি অর্থ উপার্জনের পথ খুলে দেবে তাই নয়, খুলে দেবে অন্যান্য স্প্যানিশ ক্লাবের জন্যও।
তিনি বলছিলেন, "রিয়াল মাদ্রিদের কোষাগারে যোগ হচ্ছে দেড় কোটি ডলারের প্রাইজ মানি। তবে এর চাইতেও বেশি অর্থ তারা আয় করবে বাণিজ্য থেকে। গত অর্থ বছরে ফুটবল-কেন্দ্রিক নানা বিপণন ও বাণিজ্যিক কর্মকান্ড থেকে রেয়াল মাদ্রিদ আয় করেছে প্রায় ৭০ কোটি ডলার। তাদের ক্লাবের জার্সির একটা বিরাট অংশ বিক্রি হয়েছে এশিয়ায়।"

ছবির উৎস, Getty
"আসছে মওসুম নাগাদ হয়তো রেয়াল মাদ্রিদের আয় ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি চলে যাবে। ফলে তারা যেমন আরো ধনী হবে, তেমনি আরো দামী দামী খেলোয়াড়দের কেনার ক্ষমতাও তাদের বেড়ে যাবে। তা ছাড়া সম্প্রচার কোম্পানিগুলোর সাথে তাদের দীর্ঘমেয়াদি যেসব চুক্তি আছে তার পরিমাণ ১২৫ কোটি ডলারের মতো, এবার হয়তো তা-ও বেড়ে যাবে।"
"শুধু রেয়াল মাদ্রিদই নয়, স্প্যানিশ ফুটবলের আকর্ষণও এখন হয়তো বিশ্বব্যাপি আরো বেড়ে যাবে। লা লিগার খেলা দেখাতে এখন টিভি কোম্পানিগুলোও আরো বেশি আগ্রহী হবে এবং তা থেকে বার্সেলোনা এবং এটলেটিকোর মতো ক্লাবগুলো – যদিও তারা এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারে নি – তারাও লাভবান হবে।"
অনেক বিশ্লেষকই বলতে শুরু করেছেন যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ যদিও এখনো সার্বিকভাবে টিভি কোমপানিগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছে – কিন্ত আগামিতে এর আকর্ষণ হয়তো কমে যেতে পারে। দেখা যাক - ম্যানচেস্টার সিটিতে পেপ গার্দিওলা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে জোসে মুরিনিও এবং চেলসিতে এ্যান্টোনিও কন্টের মতো ম্যানেজাররদের আবির্ভাব এতে কোন পরিবর্তন আনতে পারে কিনা।