পথচারী শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের নীচে কাটা পড়লেন রেলকর্মী

বাংলাদেশে রেললাইন ধরে বিপজ্জনকভাবে হাঁটার কারণে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে রেললাইন ধরে বিপজ্জনকভাবে হাঁটার কারণে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে
Published

চলন্ত ট্রেনের নীচে কাটা পড়তে যাচ্ছিল এমন এক শিশুকে ছুটে গিয়ে উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন এক রেলকর্মী। শিশুটিকে বাঁচাতে পারলেও নিজে ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে মারা গেছেন এই রেলকর্মী।

মর্মান্তিক এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হামিদুল হক। বিবিসিকে তিনি জানান, রেলকর্মী মোহাম্মদ বাদলের (৫০) কারণেই প্রাণে বেঁচেছে শিশুটি।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোডের কাছে রেল লাইনে এই ঘটনাটি ঘটে।

মোহাম্মদ হামিদুল হক জানান, বেলা পৌণে একটার দিকে তিনি রেল লাইনের ঐ স্পটটিতে ছিলেন। সেখানে রেল লাইন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছিলেন রেল কর্মীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ বাদলও।

"বিমানবন্দর থেকে একটা ট্রেন ক্যান্টনমেন্টের দিকে যাচ্ছিল। সেই ট্রেনের আওয়াজ পেয়ে লোকজন সরে যেতে শুরু করে। এক মহিলা তার মেয়ে শিশুকে নিয়ে রেললাইন পেরুচ্ছিলেন বিপজ্জনকভাবে। তখন মহিলাটিকে সময়মতো রেললাইন থেকে সরানো সম্ভব হলেও সঙ্গের মেয়ে শিশুটি লাইনের ওপর থেকে যায়। তখন তাকে সরাতে ছুটে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ বাদল।"

হামিদুল হক জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনি মাত্র দুশো ফিট দূরে ছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন তাঁর রেলকর্মী মোহাম্মদ বাদল ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। কিন্তু মেয়েটি প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল।

মোহাম্মদ বাদল অনেকদিন ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করছিলেন। একটি মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে তার এই মৃত্যুর ঘটনা নাড়া দিয়েছে সেখানে উপস্থিত সবাইকে।

হামিদুল হক জানান, রেলকর্মী মোহাম্মদ বাদলের পরিবারকে সাহায্য করার চেষ্টা চলছে। রেলওয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এই ঘটনা জানানো হয়েছে।