ভারতে টেস্ট খেলতে কেন ১৬ বছর লাগলো বাংলাদেশের ?
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিষেক দু হাজার সালের নভেম্বরে অর্থাৎ ১৬ বছরেরও বেশি সময় আগে, এবং এটা মোটামুটি ওপেন সিক্রেট ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই সুযোগ মিলেছিল বাংলাদেশের। বাংলাদেশ তাদের প্রথম টেস্টও খেলেছিল ভারতের সাথেই, ঢাকায়।
কিন্তু এরপর বাংলাদেশ আইসিসির পূর্ণ সদস্য সবগুলো দেশে গিয়েই সিরিজ খেলেছে, কিন্তু পাশের দেশ ভারতে তারা কখনো ডাক পায়নি। এত বছর ধরে অনেক অনুরোধ উপরোধের পর সেই আমন্ত্রণ তাদের মিলেছে। তাও সিরিজ নয়, এ মাসের নয় তারিখ থেকে হায়দ্রাবাদে মাত্র একটি টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য ভারতের এই আমন্ত্রণ।
বাংলাদেশের সাথে নিজের দেশে ক্রিকেট সিরিজে ভারতের এই অনীহা ঠিক কেন?
কলকাতার ক্রিকেট ভাষ্যকার বরিয়া মজুমদার বলছিলেন, বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য যুক্তি ছিলো - শিডিউলে এতটাই চাপাচাপি যে বাংলাদেশকে জায়গা দেওয়া যায়নি। যদিও বাংলাদেশে গিয়ে ভারত একাধিকবার সিরিজ খেলে এসেছে।
"আবার ভেতরে যদি আপনি কান পাতেন তাহলে শুনবেন বাংলাদেশকে নিয়ে এসে খেললে স্পন্সরদের কাছ থেকে টাকা পাওয়া যাবেনা।"
মি মজুমদার বলছেন এমন ভয় এখনও ভারতের বোর্ডের মধ্যে আছে। কারণ, তার মতে, চাইলেই অস্ট্রেলিয়ার সিরিজটি দুদিন পিছিয়ে এবং দুই টেস্টের মাঝখানে বিরতি কমিয়ে বাংলাদেশের সাথে দুটো টেস্ট সহজেই করা যেত। কিন্তু বিসিসিআই তারা করেনি।
লড়াই কেমন হবে - এই প্রশ্নে বরিয়া মজুমদার বলেন, টার্নিং উইকেট হলে সাকিব আল হাসান এবং মেহেদি হাসান মিরাজ বিপদে ফেলবেন। "ভারতকে খুব সতর্ক হয়ে পুরো শক্তি নিয়ে খেলতে হবে।"

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
'বাংলাদেশকে অমর্যাদা করা হয়েছে'
বহুদিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন কমিটিতে রয়েছেন বিশ্বরূপ দে। বর্তমানে বিবিসিসিআই'এর আম্পায়ারিং কমিটিতে রয়েছেন। শেষবার ভারত যখন বাংলাদেশ সফর করে দলের ম্যানেজার ছিলেন তিনি।
বরিয়া মজুমদারের মত তিনিও একটি মাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য বাংলাদেশেকে আনার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করলেন।
"আমি বুঝতে পারছি না কেন বাংলাদেশে এত রাজী হলো.. একটি ম্যাচ দিয়ে কোনো সিরিজ হয়না।"
বিশ্বরূপ দে মনে করেন ১৬ বছরে বাংলাদেশকে সিরিজ খেলতে আমন্ত্রণ না জানিয়ে ভারতীয় বোর্ড বাংলাদেশেকে অমর্যাদা করেছে।
"বোর্ডের ওপরতলার কর্মকর্তারা খোঁজ রাখেন না যে তারা (বাংলাদেশ) কতটা উন্নতি করেছে.. গতবার বাংলাদেশ সফরের সময় আমি বুঝতে পেরেছি তারা এখন ভারতের সাথে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে পারে।"
কেন ১৬ বছরেও তারা ভারতে একটি সিরিজ খেলার সুযোগ পাননি ? বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা সরাসরি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজী হননি। একজন বললেন, ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি, সব কথা এখন বলা যাবেনা।
কেন মাত্র একটি টেস্ট ম্যাচে তারা রাজী হলেন? - এই প্রশ্নেও বিসিবির একজন কর্মকর্তা বললেন, শুরুটাতো হোক। পরে দেখা যাবে। স্পষ্টতই ভারতীয় বোর্ডকে তারা এখন চটাতে চাইছেন না।

ছবির উৎস, STR
ইউরোপের ফুটবলে চীনা ভীতি
ইংলিশ ফুটবলে ট্রান্সফার মৌসুম অর্থাৎ খেলোয়াড় অদল-বদলের মৌসুম শেষ হলো গত সপ্তাহে। এই মৌসুমে বার্সিলোনা, রিয়েল মাদ্রিদ বা প্যারী স জার্মান নয় ইংলিশ প্রিমিয়িারশীপ ক্লাবগুলোর সবচেয়ে বড় শঙ্কা ছিল চীনের সুপার লীগ বা সিএসএলের ক্লাবগুলো -- তারা পয়সা ছড়িয়ে তারকা ভাগিয়ে নেয় কিনা।
চীনা সুপার লীগে এখন বিদেশী ফুটবলারদের ছড়াছড়ি । তবে এখন ক্রমে তারা ইউরোপীয় লীগের তারকাদের টার্গেট করছে।
গত ট্রান্সফার মৌসুমে কজনকে আটকানো যায়নি যাদের মধ্যে রয়েছেন চেলসির ব্রাজিলীয় তারকা অস্কার, যাকে ৫২ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে কিনেছে সাংহাই এসআইপিজি। চেলসির সম্ভবত সবচেয়ে বড় তারকা ডিয়েগো কস্টাও চলে যাবেন বলে কথা ছড়িয়ে পড়েছিল। জানা গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওয়েন রুনীকে টানার চেষ্টা করছে সিএসএল। পত্র পত্রিকায় এমন খবরও বেরিয়েছে রিয়েলের ক্রিস্টিয়ানোর রোনালদোকে কিনতে চীনা একটি ক্লাব ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতেও প্রস্তুত।
পরিস্থিতি এমনটাই দাঁড়িয়েছে যে চেলসির ম্যানেজার আন্টোনিও কন্টে এবং আর্সেনালের ম্যানেজার আর্সেন ওয়েঙ্গার খোলাখুলি স্বীকার করেছেন চীনের পয়সায় ফুটবলার ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়বে।
চীনের টাকা কি ইউরোপীয় লীগগুলোকে সত্যিই কি হুমকিতে ফেলেছে?
লন্ডনে ফুটবল ভাষ্যকার মিহির বোস বলেন, সিএসএলকে বিশ্বমানের একটি ফুটবল লীগ হিসাবে প্রতিষ্ঠার জন্য চীন প্রচুর পয়সা খরচ করছে, "তবে তাদের সময় লাগবে।"
মি বোস বলেন, ইউরোপের শীর্ষ তারকা ফুটবলাররা - যাদের বয়স বিশ পঁচিশের কোঠায়—তারা সেখানে যাবে কিনা তা নির্ভর করবে টিভিতে সারা বিশ্বের লোকজন সিএসএল দেখে কিনা।
"ফুটবলাররা পয়সা চায়, কিন্তু খ্যাতিও চায়"।