বাংলাদেশে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নে এতো ভুলের দায় কার?

- Author, রাকিব হাসনাত
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল নিয়ে তুমুল সমালোচনা আর অভিভাবকদের উদ্বেগের মধ্যে কর্তৃপক্ষ উপজেলা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এবার ভুল ধরা পড়ার পর প্রশ্ন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করা হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়িত্বে প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থীর জীবনে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা শেষে প্রথম যে পাবলিক পরীক্ষা তারই নাম প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, মাদ্রাসার ক্ষেত্রে এটি পরিচিত এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা হিসেবে। এবার এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে প্রায় ৩১ লাখ শিশু।
এবার শুরু থেকেই এই পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো মূলত প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের কারণে। কিন্তু পরীক্ষার মাঝামাঝি পর্যায়ে এসে এখন তুমুল আলোচনা হচ্ছে প্রশ্নপত্রে, বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যমে প্রশ্নপত্রে, ব্যাপক ভুল থাকার কারণে।

ছবির উৎস, focus bangla
আরও দেখুন:
ভুল প্রশ্নের ছবি বা স্ক্রিনশট তুলে দিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরাও।
তেমনি একজন অভিভাবক ফেরদৌস আরা রুমি। তিনি বলেন, "ছয়টা পরীক্ষার জন্য সব আনন্দ বাদ দিয়ে আমার ছেলে প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রথমদিকে ভালোই ছিলো। পরশু বাংলাদেশ ও গ্লোবাল স্টাডিজের পর তার চেহারা ছিলো বিভ্রান্তিকর। কারণ এতো কাছাকাছি উত্তর যে তা বিভ্রান্ত করেছে সবাইকে। আবার ভুল ছিলো অন্তত ২০টি। আজ বিজ্ঞান পরীক্ষায় দেখলাম ব্যাকরণগত ভুল আছে।"
অথচ এই প্রশ্নপত্র ঠিকভাবে প্রণয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেয়া আছে প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিকে।
একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম জানিয়েছেন, শুরুতে ৬৪ সেট প্রশ্ন তৈরি করে সেখান থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে বাছাই করা হয়। ইংরেজি মাধ্যমের জন্যও এই পর্যায়ে প্রশ্ন চূড়ান্ত করা হয়। এরপর এগুলো যায় শিক্ষা অধিদপ্তরে।। সেখান থেকে মুদ্রণের জন্য পাঠানো হয়।
প্রাথমিক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আকরাম আল হোসাইন বলছেন, প্রশ্ন চূড়ান্ত হওয়ার পর সেটি আর দেখতে পারেনা গোপনীয়তার স্বার্থেই।
একারণেই একাডেমি থেকে আসা প্রশ্নপত্রের ভুল সম্পর্কে কেউ জানতে পারেনি। তবে ভুলের জন্য একজন বরখাস্ত করা হয়েছে।
তা ছাড়া কীভাবে প্রশ্ন তৈরির পদ্ধতিকে আরও উন্নত করা যায় সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ছবির উৎস, focus bangla
তবে শিক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিতে শিক্ষা ও প্রশ্ন বিষয়ক অভিজ্ঞ লোক নেই বলেই প্রশ্ন প্রণয়ন বিশেষ করে ইংরেজিতে অনুবাদ নিয়ে এমন হযবরল অবস্থা তৈরি হয়েছে।
মি. রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়া এবং প্রশ্নপত্রে বিশেষ ইংরেজি মাধ্যমের প্রশ্নে এমন ভুল অমার্জনীয় অপরাধ, যার দায় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, প্রশ্নে ভুল তীব্র সমালোচনার মুখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করছেন।








