এডিটার'স মেইলবক্স: রোহিঙ্গা থেকে কাশ্মীর নিয়ে প্রশ্ন

কাশ্মীরের রাজধানীতে সেনা বাহিনীর বহরের কাছে স্থানীয় নারী, ২৩-০৮-২০১৯।
ছবির ক্যাপশান, অবরুদ্ধ শ্রীনগর: কাশ্মীরের রাজধানীতে সেনা বাহিনীর বহরের কাছে স্থানীয় নারী।
Published

বেশ কয়েক মাস পরে আমি আবার আপনাদের চিঠি-পত্রের উত্তর দিতে অনুষ্ঠানে এসেছি। এপ্রিলের শেষ দিক থেকে গত সপ্তাহ পর্যন্ত আমি এশিয়া অঞ্চলেই অন্য একটি দায়িত্ব পালন করছিলাম, আর সে সময় বিবিসি বাংলার দায়িত্বে ছিলেন মানসী বড়ুয়া। এখন আর কালক্ষেপণ না করে চিঠি-পত্রের দিকে তাকানো যাক।

প্রথম চিঠিটি লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা থেকে মোহাম্মদ আব্দুল আলী:

''আমি বিবিসির বহু পুরনো শ্রোতা, আমি এখনো নিয়মিতভাবে বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান শুনে থাকি। যখন কোন দেশ সংবাদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে,তখন বিবিসি এখনো আমাদের একমাত্র ভরসা, যদিও আমার পক্ষে সব সময় চিঠি লেখা সম্ভব হয় না। সংবাদে ভারতের খবর বেশি পরিবেশন করলে ভালো হয়।''

বিবিসির ওপর আপনার ভরসা আছে জেনে খুশি হলাম মি: আলী। ভারতের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে, বিশেষ করে কাশ্মীরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সেখানকার খবরের একটি বড় চাহিদা আছে, এবং আশা করি সেই চাহিদা আমরা মেটাতে পারবো।

৩৭০ ধারা বিলোপের বিরুদ্ধে শ্রীনগরের উপকন্ঠে বিক্ষোভ। ২০শে আগস্ট, ২০১৯
ছবির ক্যাপশান, ৩৭০ ধারা বিলোপের বিরুদ্ধে শ্রীনগরের উপকন্ঠে বিক্ষোভ। ২০শে আগস্ট, ২০১৯

একই বিষয়ে পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে জহিন মমতাহিনাহ:

''গত ৯ই অগাস্ট কাশ্মীরে ঘটে যাওয়া বড় ধরণের বিক্ষোভের খবর বিবিসি ভিডিও ফুটেজসহ প্রচার করে। বিবিসির সংবাদদাতা রিয়াজ মাসরুর শ্রীনগর থেকে এ ভিডিও পাঠান। ভিডিও ফুটেজটি সারা বিশ্বে বেশ আলোড়ন ও চাঞ্চল্য তৈরি করে, যেটিকে ভারত সরকার শুরুতে ভুল তথ্য বলে দাবি করলেও পরে তার সত্যতা স্বীকার করে নেয়।

''বিবিসির এ সাহসী পদক্ষেপের জন্য আমরা শ্রোতারা সত্যিই অভিভূত ও গর্বিত। আমার প্রশ্ন, এক্ষেত্রে বিবিসিকে কী ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোন চাপ সহ্য বা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল?''

নতি যে স্বীকার করা হয়নি তা আপনি নিশ্চয়ই বুঝেছেন জহিন মমতাহিনাহ, কারণ এখানে ভারত সরকারই পরবর্তীতে স্বীকার করেছে বিক্ষোভের খবর সত্য ছিল। বিবিসি বরাবরই বলেছে, এই ভিডিওর সত্যতা সম্পর্কে আমাদের কোন সন্দেহ নেই, কারণ ভিডিও ফুটেজ যাচাই করেই প্রচার করা হয়েছিল। কাশ্মীরে কী ঘটছে, সেটা ভালভাবে প্রচার করার জন্য বিবিসি ইতোমধ্যেই সর্ট ওয়েভ রেডিওর জন্য ইংরেজি, হিন্দি এবং উর্দুতে তাদের অনুষ্ঠানের সময় বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাকে ধন্যবাদ।

সুদানের রাজধানী খার্তুমের এক সুফি সমাবেশে ধুপ জ্বালানো হচ্ছে, ১৫-০৩,২০১৩।
ছবির ক্যাপশান, খার্তুমের এক সুফি সমাবেশে ধুপ জ্বালানো হচ্ছে

এবারে আমাদের প্রশংসা করে ছোট একটি চিঠি, লিখেছেন রাজশাহীর কাটাখালী থেকে মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম:

''আমি বিবিসি বাংলার একজন নিয়মিত শ্রোতা। আপনাদের শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণে নিরপেক্ষ সংবাদ শুনতে ভালো লাগে। আশা করি ভবিষ্যতেও আপনাদের এই নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে।''

আপনাকে ধন্যবাদ মি: ইসলাম। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে বিবিসি কোনদিন আপোষ করবে না।

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। সুদানের খার্তুম থেকে লিখেছেন আব্দুল কাইয়ুম আল-হানাফি, যিনি ফেনী জেলার স্থায়ী বাসিন্দা:

''আমি দেখেছি সুদানের প্রত্যেকটি দোকান পাটে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, হাটে বাজারে, মসজিদে, মন্দিরে, বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে ধুপ ব্যবহার করা হয়। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটি ঘ্রাণের জন্য। কিন্তু আমি যখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তারা বললেন, মূলত মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য তারা ধুপ ব্যবহার করে।

''এরপর আবার প্রশ্ন করি, এতে মশা মরে কিনা? জবাবে তারা বললেন, ধুপের ধোঁয়া ও ঘ্রাণ যতটুকু পৌঁছায়, সেই এলাকায় মশা আসেনা। এখন আমার মতামত হলো, বাংলাদেশে যদি এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, তাহলে তারা মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে পারবেন বলে আমার মনে হয়।''

ভাল আইডিয়া দিয়েছেন মি: আল-হানাফি। ধুপের ধোঁয়া দিয়ে যদি মশা তাড়ানো যায়, তাহলে মন্দ কী? অনেক বসত-বাড়িতেই ঘ্রাণের জন্য ধুপ ব্যবহার করা হয়, এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা থেকে আরো একটি বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

ভিডিওর ক্যাপশান, বিভিন্ন দেশে কোরবানির ঈদ নিয়ে বিবিসির সাংবাদিকরা

ঈদ নিয়ে আমাদের একটি ভিডিও সম্পর্কে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি:

''গত ১২ই অগাস্ট বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায়'বিভিন্ন দেশে কোরবানির ঈদ নিয়ে বিবিসির সাংবাদিকরা' শীর্ষক একটি ভিডিও ক্লিপ চোখে পড়লো। সংবাদের পিছনের লোকগুলো কিভাবে ঈদ পালন করে, এ বিষয়ে কম-বেশি সকলের আগ্রহ থাকে।

''মাসুদ হাসান খান সে কথাই জানতে চেয়েছিলেন বিবিসির বিভিন্ন ভাষা বিভাগে কর্মরত ইন্দোনেশিয়া, কিরঘিস্তান, ইরান, সোমালিয়া এবং তুরস্কের সাংবাদিকদের কাছে। খুব অল্প কথায় খুব সুন্দরভাবে তাদের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। মাসুদ হাসান খানকে ব্যতিক্রমধর্মী এ ভিডিও ক্লিপটি প্রকাশ করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মিস ফেরদৌসী। আপনার অভিনন্দন আমি মাসুদের কাছে পৌঁছে দেব।

বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এগারো লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এগারো লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন নিয়ে একটি মন্তব্য দিয়ে, লিখেছেন টাঙ্গাইলের সরকারি ম্যাটস থেকে বিলকিস আক্তার:

''গত ২২শে অগাস্ট যখন বিবিসি'র ওয়েবসাইটে আবারও দেখলাম, 'রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহে শুরু করা গেল না প্রত্যাবাসন,' তখন অজান্তেই মনটা আবারও খারাপ হয়ে গেল। আমার কেন জানি মনে হয়, পিছন থেকে কেউ তাদের যাওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করছে।

''আপনাদের খবরের লিংকে তাদের হাতে যে ব্যানারের ছবি দেখলাম, এই লেখাগুলো তাদের লিখে দেয়া হয়েছে কিনা, তা যাচাই করে দেখা উচিৎ। যতটুকু জেনেছি, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। আর ইংরেজি শিক্ষার তো প্রশ্নই ওঠে না।

''তাহলে তারা কীভাবে এত নির্ভুল ইংরেজি লিখেছে? কে তাদের লিখে দিয়েছে? তাদের স্বার্থটা কি? বিষয়টি শীঘ্রই খতিয়ে দেখা দরকার।''

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ মিস আক্তার। পৃথিবীর যে কোন অঞ্চলে যখন এরকম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে, তখন জাতিসংঘ ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থা তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। শরণার্থীরা যে দেশ থেকে পালিয়ে এসেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনো নিরাপত্তার গ্যারান্টি ছাড়া তাদের সে দেশে ঠেলে পাঠাতে রাজি হবে না। সে জন্য তাদের অনেকে রোহিঙ্গাদের সাহায্য করবে যাতে তারা প্রত্যাবাসন প্রতিরোধ করতে পারে। এখানে ভুললে চলবে না, রোহিঙ্গারাই নির্যাতিত হয়েছে, এবং তাদের অধিকার রক্ষা করাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।

পশুর চামড়া
ছবির ক্যাপশান, কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারকে 'বিপর্যয়ের' সাথে তুলনা করছেন অনেকে।

ঈদ-উল আজহার পরপরই যে বিষয় নিয়ে অনেকে চিঠি লিখেছিলেন, তা হলো কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য। ঈদের পরে প্রীতিভাজনেষু না থাকায় বেশির ভাগ চিঠি নেয়া সম্ভব হয়নি। চামড়া নিয়ে পত্র-লেখকদের মধ্যে ছিলেন গোপালগঞ্জের ফয়সাল আহমেদ শিপন, খুলনার শিমুল বিল্লাল বাপ্পি এবং ঢাকার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।

আরো লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম:

''বাংলাদেশে বেশির ভাগ মানুষ কোরবানি ঈদের পশুর চামড়া এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দান করে দেন, ফলে এসব প্রতিষ্ঠান চামড়াগুলো বিক্রয় করে দরিদ্র ও এতিম শিশুদের কাজে ব্যয় করে। এসব চামড়াগুলো অতিতে ভালো দামে বিক্রয় করা গেছে, কিন্তু সম্প্রতি ২০১৮ ও ২০১৯ সালে চামড়ার দাম একেবারে কমে গেছে, যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চামড়া ব্যবসায়ীরা এবং একই সাথে এতিমখানা ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান গুলো।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি: ইসলাম। চামড়ার দাম এভাবে কমে যাবার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে তা নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে। অনেকে মনে করেন একটি সিন্ডিকেট মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। আবার কেউ বলেন বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে গেছে, এমনকি বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারীরাও নাকি বিদেশ থেকে চামড়া আমদানি করছে। কারণ যেটাই হোক, এখানে যে একটা বড় সংকট আছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই, এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই সরকারকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

মাদ্রাসা
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের অনেক মাদ্রাসা এবং এতিমখানা কোরবানির পশুর চামড়ার উপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশে চামড়া নিয়ে আরেকটি প্রতিক্রিয়া দিয়ে লিখেছেন ঢাকা থেকে মোহাম্মদ তাঞ্জিলুর রহমান:

''আমাদের দেশে চামড়ার দাম খুব কম যেখানে চামড়াজাত পণ্যের দাম অনেক বেশি। প্রশ্ন হল, এটা কিভাবে সম্ভব? এর পেছনে কাজ করছে বিশেষ সিন্ডিকেট যারা চামড়ার জন্য বেশি দাম দিতে চায় না আবার নিজেরা নাম মাত্র মূল্যে পুরো লাভের গুড় খেয়ে নিচ্ছে।

''২০০-৩০০ টাকা যদি পুরো চামড়ার দাম হয় তাহলে এই টাকা নিজ পকেট থেকে মাদ্রাসা বা গরীবদের দিয়ে চামড়া মাটিতে পুতে ফেলা উচিত। বাংলাদেশে গরীবদের হক মারা হয় বিভিন্নভাবে যেখানে সর্বশেষ যুক্ত হল চামড়া খাত।''

চামড়ার দামের পতনের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে মি: রহমান, সব দোষই কথিত সিন্ডিকেটের ঘাড়ে চাপানো ঠিক নাও হতে পারে। তবে এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় মাদ্রাসা এবং এতিমখানাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, চামড়া এবং চামড়াজাত দ্রব্যর মধ্যে দামের বড় তফাৎ থাকার কারণ অবশ্যই আছে।

একটি কাঁচা চামড়াকে জুতা বা ব্যাগে রূপান্তরিত করতে প্রচুর খরচ আছে - যেমন, কারখানা স্থাপন, কারখানার জন্য জমি ক্রয় বা ভাড়া, কারখানার যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ঋণ এবং তার সুদ, কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, পরিবহন, বিপণন, আর ঘুষ-চাঁদাবাজির কথা তো বাদই দিলাম। এই সব খরচের প্রতিফলন ঐ চামড়াজাত দ্রব্যে থাকবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের একটি বন্ধ বাজারের সামনের দৃশ্য
ছবির ক্যাপশান, শ্রীনগরের একটি বন্ধ বাজারের সামনের দৃশ্য

এবার, কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''সম্প্রতি কাশ্মীরে ভারতের নেওয়া পদক্ষেপ ভারত-পাকিস্তানের শীতল সম্পর্ককে আরও শীতল করেছে সন্দেহ নেই। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কাশ্মীরে নেওয়া পদক্ষেপের জন্য ভারতকে চরম মূল্য দিতে হবে। দেশ দুটির মধ্যে সংঘাত কি অনিবার্য হয়ে উঠছে? নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্যই কি কেবল মোদী সরকার কাশ্মীরে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে?''

ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা সব সময়ই আছে, মি: সরদার। এবং কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত যে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে, সেটা নিয়ে কারো সন্দেহ নেই। তবে সরাসরি যুদ্ধ বেঁধে যাবে, এটা ভাবার সময় এখনো আসে নাই। বিশেষ করে, পাকিস্তানের অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় থাকার ফলে ইমরান খানের সরকার ভারতকে কূটনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করতে চাইবে।

অন্যদিকে, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে তারা কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করবে। এটা তাদের সার্বিক হিন্দুত্ববাদী আদর্শের একটি অংশ। টানা দ্বিতীয়বার নির্বাচনে জয়লাভের পর তারা মনে করেছে এখনই সময়। আপনাকে ধন্যবাদ।

তবে বিষয়টি অন্যভাবে দেখছেন রতন মণ্ডল, যিনি কোথা থেকে লিখছেন তা বলেন নি:

''পশ্চিমা দুনিয়ার কোন দেশে কী ৩৭০ও ৩৫(ক) ধারার মত কালো কোন আইন আছে? ইউরোপ, আমেরিকায় কোটি কোটি অভিবাসী বাড়ী কিনছে, নাগরিকত্ব নিচ্ছে, বিয়ে করছে। কাশ্মীরে এই কালো আইন কী করে এত দিন থাকে? সেখানে ৩৭০,৩৫(ক) বাতিলের প্রতিক্রিয়া জানান।''

পশ্চিমা দুনিয়ার কোন কোন দেশে এ'ধরণের আইন থাকতে পারে মি: মণ্ডল, বিশেষ করে আদিবাসী বা পিছিয়ে পড়া কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছু এলাকা আছে যেগুলো আদিবাসী জাতীগুলোর জন্য সংরক্ষিত। কাশ্মীর যে পরিস্থিতিতে ভারতে যোগ দিয়েছিল, সেটা অন্যান্য রাজ্য থেকে ভিন্ন ছিল। সেকারণে এবং উপত্যকার সংখ্যাগুরু মুসলিমদের আশ্বস্ত করার জন্য ৩৭০ও ৩৫(ক) ধারা প্রণয়ন করা হয়েছিল।

আপনার কাছে যেটা কালো আইন, কাশ্মীরীদের কাছে সেটা ছিল এক ধরণের রক্ষাকবচ, যদিও সেটা ক্রমশ: অকার্যকর করে দেয়া হয়েছিল। আপনাকে ধন্যবাদ।

বিমান
ছবির ক্যাপশান, ভুট্টা ক্ষেতে জরুরী অবতরণের পর যাত্রীদের দ্রুত বের করে আনা হয়।

রাশিয়ায় সম্প্রতি যে বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে দুটো প্রশ্ন করে লিখেছেন পঞ্চগড় থেকে মোহাম্মদ উজ্জ্বল ইসলাম:

''গত ১৭ আগস্ট বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে পড়লাম রাশিয়ার একটি বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর ইঞ্জিনে পাখির আঘাত লাগার কারণে পাইলট বিমানটিকে শস্যখেতে জরুরী অবতরণ করিয়েছেন। আমার প্রশ্ন হলো বিমানের ইঞ্জিনে পাখির আঘাত লাগলে কেন ইঞ্জিনে বিকল হয়ে যায়? এবং শুকনো কোন কিছুর সাথে বিমানে আঘাত লাগলে তাতে কেন বিমানে আগুন লেগে যায়?''

শুধু পাখির আঘাত লাগলে ইঞ্জিনের কিছু হয় বলে আমার মনে হয় না, মি: ইসলাম। তবে যখন পাখি বাতাসের টানে ইঞ্জিনের ভেতরে চলে যায়, তখন ইঞ্জিনের ব্যাপক ক্ষতি হয়, যার ফলে সেটা অচল হয়ে যায়। আর বিমান শুকনো কিছুর সাথে আঘাত লাগলেই আগুন ধরে যায়, বিষয়টি তেমন না। রুশ বিমানটি ভুট্টা ক্ষেতে চাকা না নামিয়েই অবতরণ করেছিল কিন্তু আগুন লাগেনি।

তবে কোন কারণে বিমানের জ্বালানির ট্যাংক পাংচার হলে বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া, বিমানের সাথে অন্য কিছুর সংঘর্ষ হলে প্রচণ্ড গতিতে ঘর্ষণের ফলে আগুন ধরে যাবার সম্ভাবনাও থাকে। আপনাকে ধন্যবাদ।

আমাদের অনুষ্ঠানমালা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তিতে আছেন গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের আব্দুল হালিম সোহাগ চৌধুরী:

''আমি আজ হতে এক বছর আগে বিবিসি বাংলা রেডিও-র খবর নিয়মিত শুনতাম। ঐ সময়টাতে আমি নারায়ণগঞ্জ শহরে বসবাস করতাম। কিন্তু বর্তমানে শ্রীপুর থেকে আমি এফ এম ব্যান্ডে স্পষ্টভাবে আপনাদের বাংলা রেডিও নিউজগুলি শুনতে পাই না।

এই কারণে আমি আপনাদের ওয়েবসাইটে প্রভাতী শোনার জন্যে চেষ্টা করি কিন্তু পরবর্তীতে শুনতে পাই নাই। কিভাবে অনলাইনে আমার মিস হওয়া খবরগুলি আপনাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে শুনতে পারবো তা জানালে উপকৃত হতাম।''

আপনি প্রভাতীর কথা বলছেন মি: চৌধুরী। কিন্তু ভোরের ঐ অনুষ্ঠান গত বছর এপ্রিল মাসেই বন্ধ হয়ে গেছে। আর আপনি যে অনুষ্ঠানগুলো মিস করেছেন সেগুলো আমাদের ওয়েবসাইটে শোনার কোন ব্যবস্থা নেই, এখানে দিনের দুটি অধিবেশন শুধু ২৪ ঘণ্টার জন্য পাওয়া যায়। আপনাকে ধন্যবাদ।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মোহাম্মদ আব্দুল হক, বড়কমলাবাড়ী, লালমনিরহাট।

অরিক ইয়াসার, ঢাকা।

দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

মোহাম্মদ ফিরোজুল ইসলাম,বড়গ্রাম, ঠাকুরগাঁও।

শামীম কবির, নওগাঁ।

মুহাম্মদ শোয়েব হাসান শাকিল, রংপুর।

শফিকুল ইসলাম, সাতক্ষীরা।

পলাশ চন্দ্র রায়, জায়গীর পাড়া মাড়েয়া, পঞ্চগড়।

মোমিনুর রহমান, বামুন্ডি, মেহেরপুর।

শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

কাজী মাহমুদ হুসাইন রুমন, ঢাকা।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।