চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়া বিতর্ক: ২০ কোটি টাকা খরচের যে হিসাব দিচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ছবির ক্যাপশান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের খাবারের বিল নিয়ে বিতর্কের মুখে সরকার এসব বিল খতিয়ে দেখার আগে অর্থ পরিশোধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মাসে ২০কোটি টাকা খাবারের বিল এসেছে, সামাজিক মাধ্যম এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবর নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতালটির পরিচালক বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে এসব খবরকে ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যমূলক হিসাবে উল্লেখ করে তিনিও খরচের একটি তালিকা তুলে ধরেছেন।

এক মাসের খাবারের বিল ২০কোটি টাকা-এ ধরণের শিরোনামে প্রকাশিত খবর নিয়ে আলোচনা জাতীয় সংসদেও উঠেছিল। বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের তোপের মুখে পড়িছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে।

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, চিকিৎসক, নার্স এবং নিরাপত্তা কর্মী মিলিয়ে প্রায় ৩৭০০ জনের থাকা, খাওয়া এবং পরিবহন বাবদ দুই মাসে ২৬ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে।

সেখানে তারা ২০ কোটি টাকা চাইলে সরকার তা বরাদ্দ করেছে, কিন্তু সেই বরাদ্দ থেকে কোন বিল এখনও পরিশোধ করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

Banner image reading 'more about coronavirus'
Banner
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প
ছবির ক্যাপশান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন তাদের হিসাব যা তুলে ধরেছেন, তাতে বলা হয়েছে, "যে ২০কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, তা থাকা, খাওয়া এবং পরিবহন বাবদ দেয়া হয়েছে। হোটের ভাড়া বাবদ ১২কোটি ৮০ লক্ষ টাকা, খাওয়া বাবদ পাঁচ কোটি ৫০লক্ষ টাকা এবং পরিবহন খরচ বাবদ এক কোটি ৭০ লক্ষ টাকা এই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত এই ২০ কোটি টাকা থেকে এখনও কোন বিল পরিশোধ করা হয়নি।"

তিনি আরও বলেছেন, "এই বিষয়ে যে সকল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা একেবারে ভিত্তিহীন, মিথ্যা বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত।"

তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারিরা পুরো ঘাটনাটি তদন্তের দাবি তুলেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে মহামারি মোকাবেলায় চিকিৎসকদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলত পারে, সেজন্যও ঘটনার তদন্ত করা প্রয়োজন।

"মিডিয়ায় আমরা প্রথমে দেখেছি, ঢাকা মেডিকেলে ডাক্তারদের শুধু খাবারের খরচ এত। পরে দেখি শুধু খাওয়া নয়, থাকা, যাতায়াতসহ সব খরচ আছে। কেউ বলছে বেশি, আবার কেউ বলছে ঠিক আছে। আমরাও একটু কথা বলে বিষয়টা দেখার চেষ্টা করেছি। কোন কোন ডাক্তার বলেছেন, বিষয়য়টি নিয়ে আলোচনা দেখে তারা মর্মাহত হয়েছেন। আমার মনে হয়, বিষয়টি খতিয়ে দেখে কথা বলা উচিত।"

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

ঢাকায় একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হাজির এক ব্যক্তিকে পরীক্ষা করা হচ্ছে
ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হাজির এক ব্যক্তিকে পরীক্ষা করা হচ্ছে

বিরোধীদলের সদস্যরা গত মঙ্গলবার যখন সংসদে বিষয়টি তুলেছিলেন, তার জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক খবরটি সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন।

তবে দু'দিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছিলেন, এটি খতিয়ে দেখা হবে।

এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আব্দুল মান্নান বলেছেন, বিলগুলো খতিয়ে দেখে তারপর তা পরিশোধের প্রশ্ন আসবে।

"এটা আমরা দেখছি এবং যতটুকু র‍্যাশনাল ওয়েতে দেখা যায়, এটা আমরা করছি। অর্থ মন্ত্রণারয় থেকে এরকম একটা নির্দেশনা আমাদের দেয়া হয়েছে, আমরা যেনো পেমেন্টের আগে আরেকবার যেনো দেখি। এখন বিল খতিয়ে দেখার এই প্রক্রিয়ায় আমরা আছি।"

তিনি আরও বলেছেন, "একইসাথে ভবিষ্যতে যাতে এই পথে বা এরকমভাবে না হয়,সেদিকেও আমরা যাচ্ছি। এবং অবিলম্বেই আমরা একটা সরকারি আদেশ জারি করবো।"

"সেটা হতে পারে এরকম যে এখন যেভাবে বিলগুলো সাবমিট করা হয়েছে, ঠিক এভাবে করা যাবে না। সরকারি কর্মচারীদের যে পদ্ধতিতে বিল দাবি করতে হয়, সেভাবেই তা করতে হবে। সরকারি কর্মচারীরা কোনো জায়গা সফর করলে তারা টিএ ডিএ পায়, সেই পদ্ধতিতে আমরা যাবো।"

কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় স্বাস্থ্যখাতে যে ব্যয় হবে, তাতে স্বচ্ছ্বতা আনার জন্য আরও কিছু কঠোর নিয়ম করা হচ্ছে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: