মোঃ সাহেদের বিরুদ্ধে হটলাইনে কী ধরনের অভিযোগ পাচ্ছে পুলিশ

মো: সাহেদ
ছবির ক্যাপশান, হটলাইনে প্রথম দুই দিনে অভিযোগ জানিয়ে ১২০ টি ফোনকল
    • Author, শাহনাজ পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোঃ সাহেদের ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে পুলিশ একটি হটলাইন চালু করেছে।

কোন অপরাধের অভিযোগ জানাতে সম্ভবত এই প্রথম কোন হটলাইন চালু করা হল।

র‍্যাবের কর্মকর্তাদের ভাষায় এটি একটি অস্থায়ী সেবা সংযোগ লাইন। এ মাসের ১৭ তারিখে চালু হওয়া এই নাম্বারটিতে গত দুদিনে ১২০টি ফোন কল ও ২০টি ইমেইল এসেছে।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিষয়ক পরিচালক আশিক বিল্লাহ জানিয়েছেন, শুধু করোনাভাইরাসের ভুয়া রিপোর্টের বিষয়ে নয়, সারা দেশ থেকে আরও নানা ধরনের অভিযোগ এসেছে।

হাসপাতালে রোগী
ছবির ক্যাপশান, মহামারি শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে।

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোঃ সাহেদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে তার একটি বর্ণনা দিয়ে তিনি বলছেন, "করোনাভাইরাস সার্টিফিকেটের বিষয়ে অভিযোগই বেশি। হাসপাতাল থেকে বেশি ফি আদায় করেছেন, বালু ভরাটের কাজের জন্য পয়সা নিয়েছেন, চাকরি দেবে, বদলি করিয়ে দেবে বলে মানুষজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, কর্মচারীদের বেতন দেননি- এরকম নানা অভিযোগ এসেছে।"

বাংলাদেশে কোন ধরনের অপরাধের অভিযোগ জানাতে এধরনের হটলাইন চালু করার কথা এর আগে শোনা যায়নি।

আশিক বিল্লাহ বলছেন, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোঃ সাহেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপকতা ও তার ধরনের কারণে তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, "অন্য সব অপরাধের একটা কেন্দ্র থাকে। যেমন ধরুন যদি ক্যাসিনো, মাদক ব্যবসা- সবার একটা নির্দিষ্ট গণ্ডি থাকে। তারা একটা নির্দিষ্ট শহরকেন্দ্রিক। কিন্তু সাহেদের যে প্রতারণার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, বলতে গেলে সেটা দেশব্যাপী। সাতক্ষীরা, সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রাম - এরকম নানা জায়গা থেকে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এসেছে।"

তিনি বলছেন, ভুক্তভোগীরা যাতে আইনগত সহযোগিতা পেতে পারেন সেজন্যেই এই উদ্যোগ।

আরো পড়তে পারেন:

নমুনা সংগ্রহ
ছবির ক্যাপশান, বিশ্লেষকরা বলছেন স্বাস্থ্যখাত সম্পর্কে আস্থা তৈরিতে একটি প্রচেষ্টা এই হটলাইন।

শুধু একজনকে কেন্দ্র করে হটলাইন কেন?

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের মহামারি শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সেবার সাথে জড়িতদের জন্য সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতি, কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় বেশি অর্থ নেয়া, ভুয়া নেগেটিভ রিপোর্ট বিক্রির অভিযোগে অনেককে আটক করা হয়েছে।

তবে মোঃ সাহেদকে ঘিরে অনেক বেশি তোলপাড় হয়েছে। তাকে আটক করা থেকে শুরু করে নানা ধরনের নাটকীয় পরিস্থিতির অবতারণা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতির বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরিন বলছেন, "স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি অনিয়মে যে পরিমাণে অভিযোগ উঠেছে, সরকার এক্ষেত্রে একটি বার্তা দিতে চাইছে যে কেউই রেহাই পাবে না।"

"স্বাস্থ্য বিষয়ে মহামারি শুরুর পর থেকে জনগণ কোন ইতিবাচক বিষয় পায়নি। স্বাস্থ্যখাত নিয়ে মানুষের যে ক্ষোভ, হতাশা সেনিয়ে সরকার কিন্তু খুব চাপের মুখে রয়েছে। এটির মাধ্যমে সরকার একটা ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করতে চাইছে।"

তবে তিনি বলছেন, শুধু এরকম একটি নজিরই যথেষ্ট নয়। এমন উদ্যোগ চলমান থাকা উচিৎ।

ইতালিয়ান পত্রিকা
ছবির ক্যাপশান, করোনাভাইরাসের ভুয়া নেগেটিভ সার্টিফিকেট বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বেশ প্রচার পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ভুয়া নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেয়াকে ঘিরে তোলপাড় হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বেশ প্রচার পেয়েছে বিষয়টি।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ টেস্টের ফল নেগেটিভ হলেও বিদেশে যাওয়ার পর সেই ফল পজিটিভ হয়েছে এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি কয়েকটি দেশ বাংলাদেশ থেকে বিমান চলাচলের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

পুলিশের সাবেক প্রধান নুরুল হুদা বলছেন, "আমাদের নিজেদের জন্যেই এটা করতে হবে। এটা করলে একটা বার্তা বাইরে যাবে যে কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে সামাল দিতে সক্ষম এবং তারা তা করছেন। আমাদের লোকজনকে চাকরি, ব্যক্তিগত কারণ, চিকিৎসা, পড়াশোনা - নানা কারণে বিদেশে যেতে হয়। সেসব বড় রকমের সমস্যার সম্মুখীন হবে যদি আমরা বিদেশে আমাদের সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে না পারি।"

মি. হুদা আরও বলছেন, "সরকার যে এটা করতে চেষ্টা করছে, এতে সেটারও একটা ইঙ্গিত বহন করে বলে আমি মনে করি।"