এইচএসসি পরীক্ষা, স্কুল খোলা আর পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন

পরীক্ষায় পাশের ফল পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের উৎসব, ঢাকা, ১৯-০৭-২০২০।
ছবির ক্যাপশান, এই দৃশ্য এ'বছর দেখা যাবে না: এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের ফল পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের উৎসব, ২০১৬ সাল থেকে।
    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

আমাদের পাঠকদের আগ্রহ যেমন আছে কক্সবাজারে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খানের হত্যার পরবর্তী ঘটনাবলীর দিকে, তেমনি উদ্বেগ বাড়ছে এইচএসসি পরীক্ষা আর স্কুল খোলার উদ্যোগ নিয়ে।

করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালে যাতে উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষা না হয়, সে দাবি জানিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ জারিফ জিহাদ:

''এইচএসসি অনিশ্চয়তা আমাদের কত কষ্ট দিচ্ছে সেটা শুধু আমরাই জানি। জানি না কী করবো। হুট করে পরীক্ষা শুরু হলে। মানসিক দুশ্চিন্তায় শুধু আমরা না, আমাদের পরিবারও ভুগছে। অনেক ক্যান্ডিডেট আমাদের থেকে শতগুণ খারাপ অবস্থায় আছে। মিডিয়া নিজেদের প্রচারের জন্য ভুয়া নিউজ করে আমাদের আরো চাপে ফেলে দিচ্ছে।

''আমরা অটো পাশ চাই না, আমরা পরীক্ষা দিব। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর। আমরা বাঁচতে চাই, আমাদের পরিবারকে বাঁচাতে চাই। শনাক্তের হার কত কমলে পরীক্ষা নেওয়া হবে, এরকম কিছু জানা থাকলে আমাদের জন্য খুব সুবিধা হতো। আমাদের পরীক্ষার চেয়ে আমাদের জীবন বড়। আমাদের বাসায় অসুস্থ মা, বাবা, দাদা, দাদি থাকেন। নিজেরা আক্রান্ত হইলেও যতটা না চিন্তা লাগবে তার থেকে শতগুণ বেশি খারাপ লাগবে আমার নিজের জন্য উনারা কেউ আক্রান্ত হয়ে পড়লে।''

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করার পর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ছাত্রীদের আনন্দ, ১৮-০৮-২০২০।
ছবির ক্যাপশান, পরীক্ষার ফল ভাল হলে সবাই মিলে আনন্দ উৎসব এখন শুধু মাত্র অতীতের স্মৃতি।

একই মতামত প্রকাশ করে লিখেছেন ইফ্ফাত সাজিদ:

''শিক্ষা মন্ত্রী বললেন, এতটা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাঝে কোনো ভাবেই এক্সাম নেওয়ার পরিস্থিতি নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এক্সাম নিবে। এখন কি স্বাভাবিক? সেপ্টেম্বর / অক্টোবর মাসে এখন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেয়া হয়? নাকি প্রধানমন্ত্রীর কথার সাথে তাল মিলিয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে?

''এক্সামটা মূল বিষয় না। আমারা না হয় এক্সাম দিলাম এবং করোনায় আক্রান্ত হলাম। তাতেও সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের বাসায় বাবা,মা, নানা নানী,দাদা দাদি আছেন। তারা কি প্রতিরোধ করেতে পারবেন? এমনও হতে পারে আমার পরীক্ষার জন্য আমি আমার বাবা মাকে হারাবো। এর দায় ভার নিবে কে?''

এই দুটো চিঠি ছাড়াও আরো অনেক মেইল এসেছে যেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা না নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সবারই আশঙ্কা, শত শত প্রার্থীকে এক সাথে হলে বসতে হবে। এর ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রবলভাবে বাড়বে। তারপর বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষা অনেক কমে যাওয়ায় কেউ ভরসা করে বলতে পারছে না পরিস্থিতি আসলে উন্নত হচ্ছে নাকি তার অবনতি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তার মাঝে কেউই পরীক্ষা নেবার ঝুঁকি নিতে চাইছে না। সরকারকে সব কিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বছরের শুরুতে শিশুরা নতুন বই পেলেও বেশি দিন স্কুলে যাবার সুযোগ হয়নি।
ছবির ক্যাপশান, বছরের শুরুতে শিশুরা নতুন বই পেলেও বেশি দিন স্কুলে যাবার সুযোগ হয়নি

তবে শুধু এইচএসসি পরীক্ষা না, স্কুল খোলা নিয়েও অনেকের মনে উদ্বেগ আছে, যেমন বলছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পি:

''আমি গণ মাধ্যমে দেখলাম দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলি চালু করার একটা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত সরকার নিতে যাচ্ছে। গণ মাধ্যমে দেখেছি আমেরিকাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেবার পর করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে গিয়েছে। আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতে এখনও স্কুল কলেজ বন্ধ। আমার জানা মতে বাংলাদেশে সরকারি বেসরকারি অনেক স্কুল কলেজে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ক্লাস করবার ব্যবস্থা নাই।

''আমি মনে করি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবার আগে সরকারি ভাবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে করোনা ঝুঁকিমুক্ত করা উচিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেশ কয়েক ঘণ্টা ছাত্র এবং শিক্ষকদের অবস্থান করতে হয়। সেখানে দূরত্ব বজায় রাখা কীভাবে সম্ভব? আমি মনে করি প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলিতে কীভাবে লেখাপড়া চলছে, সে বিষয়টি যদি আমরা অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ছাত্ররা উপকৃত হবে।''

স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত সরকার এখনো নেয়নি মি. বিল্লাল। তবে পর্যালোচনা চলছে এবং একটি সিদ্ধান্ত শীঘ্রই জানা যাবে বলে মনে হচ্ছে। তবে আপনি যে কথা বলছেন, সরকার নিশ্চয়ই সেসব কিছু বিবেচনা করেই তাদের সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আসল কথা হচ্ছে, মা-বাবারা যদি তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে না পাঠান, তখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ চলে আসবে। কাজেই, সরকার যে সিদ্ধান্তই নিবে, সেটা শুধু ছেলে-মেয়েদের নিরাপত্তা নয়, পরিবারের কথা মাথায় রেখেই নিতে হবে।

ঢাকায় লকডাউন নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে একজন পথচারীকে শাস্তি দিচ্ছে পুলিশ, ২০-০৪-২০২০।
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি এখন প্রবল সঙ্কটের মুখে।

সম্প্রতি কক্সবাজারে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের হত্যার পর বাংলাদেশ পুলিশ যে ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে, তা নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে মোহাম্মদ শাহিন আলম:

''গত সপ্তাহে বিবিসি বাংলা পুলিশের ভাবমূর্তি উন্নতির জন্য যে ফোন-ইন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করল এবং পরিক্রমা অনুষ্ঠানে যে বিশেষ আলোচনা হল তাতে এটা স্পষ্ট যে, পুলিশ রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার এবং তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জনগণের কাছে তাদের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও হারিয়ে ফেলে।

সত্যিকার অর্থে পুলিশকে যদি রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয় এবং তাদেরকে যদি স্বাধীন ও নিষ্ঠার সহিত নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তাহলে তারা দেশের আইন অনুযায়ী এদেশের জনগণের সেবা করতে পারবে এবং তাদেরও ভাবমূর্তি জনগণের কাছে অক্ষুণ্ণ থাকবে।''

ভিডিওর ক্যাপশান, কক্সবাজার: কেন এতো স্পর্শকাতর অঞ্চল হয়ে উঠছে?

একই বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''পনেরোই অগাস্টের পরিক্রমায় আকবর হোসেন-এর সঞ্চালনায় একটি বিশেষ আলোচনা শুনলাম। সেখানে জানার চেষ্টা করা হল, পুলিশ বাহিনীতে যে নানা অনিয়ম এবং ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে সেখান থেকে তাদের বের করে আনতে ঠিক কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। আমার মনে হয়, পুলিশ বাহিনীকে এসব অনিয়মের মধ্য থেকে বের করে আনার জন্য তাদের রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রাখাতে হবে। একই সাথে এ বাহিনীর আধুনিকায়ন করা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর যেসব সদস্য অনৈতিক কাজের সংগে জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।''

আপনারা দু'জনই যে কথা বলছেন মি. সরদার এবং মি. আলম, বিশেষ করে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেয়া ইত্যাদি, সেগুলো অনেক দিন ধরেই নানা সেমিনারে বক্তারা বলে আসছেন। কিন্তু আমার মনে হয় না এসব কথা কারো কানে পৌঁছেছে। যে যখন ক্ষমতায় থাকেন, তারা সবাই পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে থাকেন। কেউ এই সুবিধা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে চান না। এমনকি পুলিশের এই ক্রান্তিকালেও কিন্তু এ'ধরণের সংস্কারের কথা শোনা যাচ্ছে না। এখানে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব আছে।

ভিডিওর ক্যাপশান, কখন আসবে করোনা টিকা?

করোনাভাইরাস নিয়েই পরের চিঠি, লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''ভ্যাকসিন আসার আগে বাংলাদেশ থেকে করোনাভাইরাস চলে যেতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের এই মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছে দেবে না তো? এমনিতেই আমরা দেখতে পাচ্ছি মানুষ সামাজিক দূরত্ব মানছেনা বললেই চলে। এটা ঠিক যে, করোনাভাইরাস এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। কিন্তু এটা তো ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে শীত এলে বাড়তে পারে। তাছাড়া মানুষের হাসপাতালে না যাওয়াকে কীভাবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতির সূচক হিসেবে ধরা যায়, যেখানে শাহেদ সাবরিনা গ্যাং-রা রয়েছেন?''

ভাল পয়েন্ট তুলেছেন মি. সাঈদ। করোনাভাইরাস কবে চলে যাবে, সেটা স্বয়ং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো আস্থার সাথে বলতে পারছে না। বরং, অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন এই ভাইরাস কোন দিনও পুরোপুরি যাবে না। তাঁদের মতে, সংক্রমণ ঠেকানোর উপায় হচ্ছে কার্যকর ভ্যাক্সিন, না হয় কঠোর নিয়ম-নীতি প্রয়োগ। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে না যে, কোন কঠোর স্বাস্থ্য বিধি আরোপ করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা বাংলাদেশের সরকারের আছে। কাজেই, ভরসা এখন ভ্যাক্সিন।

স্যাটেলাইট-১ এর উৎক্ষেপণ
ছবির ক্যাপশান, গত বছরের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় বঙ্গবন্ধু -১ স্যাটেলাইট

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে লিখেছেন ইনাম আল-বাক্কী, তবে কোন দেশ থেকে লিখছেন সেটা বলেন নি:

''আমরা মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশিরা খুব সহজেই দেশের সব চ‌্যানেল দেখতে পেতাম। প্রবাসীরা দেশের টিভি দেখে মনে সান্ত্বনা পায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইট আকাশে উড়ানোর পর চার গুণ পয়সা খরচ করেও ৯০ শতাংশ লোকই তা ঠিকমত দেখতে পাচ্ছেনা। কেন হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে স্যাটেলাইট পাঠানো হল, কিন্তু আমাদেরকে বঞ্চিত করা হল?''

আমার যতদূর মনে পড়ে মি. বাক্কী, বঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইট প্রক্ষেপণের সময়ই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যখন জানা গিয়েছিল যে বাংলাদেশের সকল টেলিভিশন চ্যানেলকে এই স্যাটেলাইট ব্যবহার করেই তাদের অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করতে হবে, তখন অনেকেই বলেছিলেন যে এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য সহ অনেক জায়গায় সম্প্রচার ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশ নিজ খরচে তৈরি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে, তাই এই স্যাটেলাইট ব্যবহার করার জন্য দেশের টেলিভিশন কোম্পানিদের প্রতি অনুরোধ করেছিল সরকার। আমার ধারণা, যদি মধ্যপ্রাচ্যে চ্যানেলগুলো ভালমত দেখা না যায়, তাহলে টেলিভিশন কোম্পানিগুলো নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থেই এটা ঠিক করার ব্যবস্থা নেবে।

আসামের কোকরাঝাড় থেকে লিখেছেন ওসমান গনি শেখ:

''আমি সেই ছোটবেলা থেকেই বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান শুনে আসছি এবং একটি বিষয় লক্ষ্য করে আসছি যে এই চ্যানেলে ভারতবর্ষের খবর তেমন একটা প্রচার করা হয়না। অভিযোগ নয় আগ্রহ প্রকাশ করছি যে ভারতবর্ষের খবর বেশি বেশি প্রচার করা হয় যেন, ধন্যবাদ।''

আগ্রহ প্রকাশ করার জন্য ধন্যবাদ মি. শেখ। ভারতে আমাদের দু'জন সংবাদদাতা আছেন এবং প্রায় প্রতি অধিবেশনেই তাদের প্রতিবেদন থাকে। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের বিশ্লেষকদের সাক্ষাৎকারও নিয়ে থাকি। তবে হ্যাঁ, আমরাও চাই ভারত সংক্রান্ত খবর আরো বেশি করে দেবার।

সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্মদানের চেয়ে স্বাভাবিক প্রসবের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে অনেক সংস্থা
ছবির ক্যাপশান, সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্মদানের চেয়ে স্বাভাবিক প্রসবের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে অনেক সংস্থা

পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''মাসের ১৯ তারিখে রাকিব হাসনাতের "করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে সন্তান প্রসবে কমে এসেছে সিজারিয়ান, কারণ কী?" শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়ে খুব ভাল লাগলো। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে গত এক দশকে, সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে সিজারের সংখ্যা নানা অজুহাতে বেড়েই চলছিলো। স্বস্তির কথা হল, সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার নিরুৎসাহিত করতে কয়েক বছর আগে কয়েকটি সংস্থার সমন্বয়ে 'স্টপ আননেসেসারি সি-সেকশন' নামে একটি প্রচারণা গড়ে উঠে।

''আমি মনে করি, সরকারিভাবে এদের প্রচারণাকে পৃষ্ঠপোষকতা করা দরকার এবং করোনার সময়ে যেভাবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের হার কমেছে, সে হার ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা।''

অনেকেই আপনার সাথে একমত হবেন মি. রহমান। তবে বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত কারণে যে সি-সেকশনের ব্যবহার অব্যাহত থাকতে পারে তার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে আপনি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার যে কথা বলছেন সেটা অত্যন্ত জরুরী।

বাংলাদেশে বিবিসি বাংলার রেডিও অনুষ্ঠান সম্প্রচার নিয়ে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

''বিবিসি বাংলার মূল আয়োজন যেহেতু রেডিও সম্প্রচার, তাই বাংলাদেশ বেতারের সাথে তাদের চুক্তি। কিন্তু এটা নিরপেক্ষ সংবাদ মাধ্যম হিসাবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারণে বাংলাদেশে বেসরকারি বড় বড় রেডিও কোম্পানির সাথে চুক্তি করার জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি । তাছাড়া রেডিওতে বিবিসি বাংলা শোনার জন্য কত MHz ও কখন শোনা যায় এর একটা লিস্ট করে ফেসবুক পেজে আপলোড করার জন্য অনুরোধ করছি।''

আপনার প্রস্তাব অবশ্যই ভাল মি. ইসলাম, কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রচার নিয়মাবলী সেই রাস্তা অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছে। এই নিয়মাবলী অুনযায়ী বিদেশী সংবাদ ভিত্তিক অনুষ্ঠান যেগুলো সরাসরি প্রচার করা হয়, শুধুমাত্র বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমেই প্রচার করা যাবে। অর্থাৎ কোন বেসরকারি রেডিও সংস্থার এফ এম তরঙ্গে বিদেশী সংবাদ প্রচার করা যাবে না।

এবারে আমাদের সংবাদদাতা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন রাজশাহী থেকে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম:

''অমিতাভ ভট্টশালী কি আপনাদের সংবাদদাতা না বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সংবাদদাতা? আমি এই প্রশ্ন করলাম কারণ, বিবিসি হিন্দি সার্ভিস যখন অন্যান্য ভাষা বিভাগের সংবাদদাতাদের সাক্ষাৎকার নেয় তখন তারা সেই ভাষার সার্ভিসের সংবাদদাতা বলে পরিচয় দেয়, কিন্তু অমিতাভ ভট্টশালীর বেলায় তারা বিবিসি বাংলা বিভাগ না বলে বলে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের প্রতিনিধি।''

সেটা কেন করে তা আমি জানি না মি. ইসলাম। তবে সব ভাষা বিভাগের সকল সাংবাদিকই বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের কর্মী। কাজেই, ভাষা বিভাগের পরিচয় দিলেও তার কর্মসংস্থান ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সাথেই। বিবিসি হিন্দি বিভাগ যদি অমিতাভকে ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সংবাদদাতা বলে পরিচয় দেয়, তাহলে সেটা ভুল হচ্ছে না। আবার বিবিসি বাংলা বললেও ভুল হবে না।