ব্যাংককে বিক্ষোভ দমনে গুলি

ব্যাংককের রাস্তায় সেনা টহল
ছবির ক্যাপশান, ব্যাংককের রাস্তায় সেনা টহল
Published

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান নেয়া সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে৻

বিক্ষোভকারীদের কাছাকাছি জায়গায় গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে এবং অনেক আহত মানুষকে জরুরী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে দেখা গেছে৻

সরকার আগেই বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল৻ এই সময়সীমা পার হওয়ার পর পরই সেনাবাহিনী ব্যাংককের রাস্তায় নামে৻

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনি দুশ সৈন্যকে সারিবদ্ধভাবে মার্চ করে বিক্ষোভকারীদের দিকে যেতে দেখেছেন৻

খবরে বলা হচ্ছে আহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের এক নেতাও রয়েছেন৻ কোন কোন সংবাদ সংস্থার খবরে বিক্ষোভকারীদের এই নেতাকে তাদের প্রধান সামরিক উপদেষ্টা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, যাকে থাই সরকার ইতোমধ্যে একজন সন্ত্রাসী বলে বর্ণনা করেছে৻

রাস্তায় রেডশার্টদের শিবির
ছবির ক্যাপশান, রাস্তায় রেডশার্টদের শিবির

ব্যাংককের বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ঢোকার পথগুলোতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পাহারা বসিয়েছে৻ সেখানের রাস্তার বাতিও নিভিয়ে দেয়া হয়েছে৻

বিক্ষোভকারীদের প্রতি সরকারের বেঁধে দেয়া সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছিল, ব্যাংককের মানুষের মধ্যে সংঘাতের আশংকা তত বাড়ছিল৻ অনেকেই গোলযোগ এড়ানোর জন্য সন্ধ্যের বেশ আগেই আজ দ্রুত বাড়ী ফিরে গেছেন৻

সরকার আগেই ব্যাংককের বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ব্যবসা বানিজ্য এবং অফিস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল৻ আরও সংঘাতের আশংকায় পুরো শহরের পরিস্থিতি এখন থমথমে৻ বিক্ষোভকারীরা অবশ্য আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে যে তারা রাস্তা ছাড়বে না৻ প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারীর জবাবে একজন বিক্ষোভকারী বলছিলেন যে তারা অহিংস পন্থায় প্রতিবাদ করছেন৻ এখন প্রধানমন্ত্রী যদি তাদের হত্যা করার জন্য সেনাবাহিনী পাঠান সেটা হবে অন্যায়৻

রেডশার্ট নামধারী বিক্ষোভকারীদের দমনের জন্য থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আভিসিত ওয়েচাচিয়ার ওপর চাপ বাড়ছে গত কয়েকদিন ধরেই৻ গত প্রায় দুমাস ধরে এই বিক্ষোভকারীরা যেভাবে ব্যাংককের বাণিজ্যিক কেন্দ্রে অস্থায়ী শিবির পেতে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে, তাতে দেশটির ব্যবসা বাণিজ্য, পর্যটন সব কিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে৻

বিক্ষোভকারীদের দাবী হচ্ছে পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে অবিলম্বে নতুন নির্বাচন৻ এরা মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন চিনাওয়াতের সমর্থক, তবে তার সঙ্গে অনেক বামপন্থী দল ও নাগরিক গোষ্ঠীও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে৻

বিক্ষোভকারীদের দাবীর মুখে প্রধানমন্ত্রী আভিসীত ওয়েচাচিয়া নভেম্বরের ১৪ তারিখ নির্বাচনের ঘোষণাও দিয়েছিলেন৻ কিন্তু তারপরও বিক্ষোভকারীরা আপোসে রাজী না হওয়ায় সরকার এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে৻ থাই প্রধানমন্ত্রী এখন বলছেন, নির্বাচন কখন হবে সেটা এখন সম্পূর্ণ তার এখতিয়ার৻