ইভ টিজিং নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

বাংলাদেশে স্কুল-কলেজ গামী মেয়েদের উত্যক্ত করার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার পর সরকার এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে সাদা পোষাকে পুলিশ মোতায়েনের কথা ভাবছে৻
কিন্তু সরকারের এই উদ্যোগের পরও আশ্বস্ত হতে পারছেন না অভিভাবকরা৻
“কি নিশ্চয়তা আছে যে আমার মেয়েটি রাস্তায় কোন হয়রানির শিকার হবে না। আমার মেয়ে বাসা থেকে বের হলে সবসময় তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি,” বলছিলেন একজন অভিভাবক নাসরিন বেগম।
বেসরকারী সংস্থাগুলোর হিসেবে গত পাঁচ মাসে বাংলাদেশে অন্তত ১১ জন মেয়ে নিত্যদিন এরকম উত্যক্ত হওয়ার যন্ত্রণা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে৻
গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু করার পর সরকারও বিষয়টিকে বড়ো সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে নানা ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে৻
মূলত স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েরাই এরকম ঘটনার শিকার হচ্ছে৻ কলেজ ছাত্রী হ্যাপী বলছেন, রাস্তাঘাটে উত্যক্ত হওয়ার ভয়ে তিনি রীতিমতো আতঙ্কিত। হ্যাপি বলেন, “রাস্তায় চলাফেরার সময় সবসময় ভয়ে থাকি যদি কেউ আমাকে লক্ষ্য করে খারাপ মন্তব্য করে।”
আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী রাইসা হক নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলছিলেন, “একদিন বাসা থেকে বোরকা না পড়ে বের হয়েছিলাম তাতে কিছু ছেলে আমাকে উদ্দেশ্য করে খারাপ মন্তব্য করেছে।” এই যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে রাইস এখন নিয়মিত বোরকা পড়ে বাইরে যান৻
আরেক কলেজ ছাত্রী শ্রাবনী বলছিলেন তার এক বান্ধবীকে বখাটে তরুণরা নিয়মিত উত্যক্ত করতে থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়৻
“এটাই কি আমাদের পরিনতি যে উত্যক্তকারীদের কোন সাজা হবেনা আর মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে তাদের বিয়ে দেয়া হবে?” বলেন শ্রাবনী।
মেয়েদের উত্যক্তকারী তরুণদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার স্কুলের সামনে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন এবং স্কুলগুলোতে কমিটি গঠনের কথা বলছে৻
কলেজ ছাত্রী নাজমুন নাহার মনে করেন আইন কঠোর ভাবে প্রয়োগ করা হলে এদের দৌরাত্ম কিছুটা কমবে৻
“এমন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে করে সেটি দেখে অন্য অপরাধীরা কোন মেয়েকে উত্যক্ত করার সাহস না পায়।”
ঢাকার আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষা হোসনে আরা বেগমেরও একই মত৻
“কিন্তু শুধু সাদা পোশাকে নয় , ইউনিফর্ম পরা পুলিশও থাকা দরকার যাতে করে অপরাধীদের মনে আতঙ্ক তৈরী হয়৻”








