আদালত অবমাননার মামলায় নৌ কতৃপক্ষ

bangladesh supreme court
    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published
  • পড়ার সময়: ২ মিনিট

ঢাকার চারটি নদী তীর থেকে স্থাপনা উচ্ছেদে আদালতের রায় বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে নৌ কতৃপক্ষ -বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারী করা হয়েছে।

আইনজীবিরা বলছেন আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারন দর্শানোর জবাব দিতে বলেছে আদালত।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবিরা বলছেন নদীতীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য সর্বোচ্চ আদালত থেকে নির্দেশনার পরও উচ্ছেদ কার্যক্রমে স্থবিরতা ও পরোক্ষ প্রতিবন্ধকতা আছে।

অবশ্য, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ অস্বীকার করছে।

ঢাকা ও তার আশপাশের চারটি নদী – বুড়িগঙগা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগের তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট গত বছরের জুন মাসে। উচ্ছেদ কাজ শুরু করার জন্য আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একমাসের সময়ও দিয়েছিল।

কিন্তু কয়েকটি বড় ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ নোটিস পাওয়ার পর আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করে আপীলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে উচ্ছেদ কাজ থেমে যায়। তারপর আদালত ব্যবসায়ীদের দায়ের করা আপীলের অনুমতি চেয়ে আবেদন বাতিল করে দেয় গত মাসে ।

এর পর উচ্ছেদ কাজ চালাতে আর কোন বাধা না থাকলেও রীট আবেদনকারী আইনজীবিরা কর্তৃপক্ষ ও দু’জন ব্যবসায়ী আদালতের রায় বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরীর অভিযোগ আনেন।

আবেদনকারী আইনজীবি মনজীল মোরশেদ জানাচ্ছেন আদালত বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ার‌ম্যানসহ চারজনকে কারন দর্শানোর নোটিশ জারী করেছে । আদালত অবমাননার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবেনা – তা আদালত জানতে চেয়েছে বলে আইনজীবিরা বলছেন।

নদী তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আদালতের রায় এসছিল একটি সংগঠনের দায়ের করা রট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ।

আবেদনকারী আইনজীবি মনজিল মোরশেদ বলছেন বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান একটি চিঠি লিখেছেন তার উধর্বতন কর্মকর্তাদের কাছে যেখানে বলা হয়েছে নদীর ভিতর বড় ব্যবসায়ীদের যেসব স্থাপনা আছে সেগুলো বৈধ অনুমতি নিয়ে করা হয়েছে।

এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা যাবেনা বা উচ্ছেদ করা ঠিক হবে কিনা সেজন্য মতামত চাওয়া হয়েছে চিঠিতে।

“আদালতের রায়ের পর তিনি এ ধরনের চিঠি লিখতে পারেন না,” বলেন আইনজীবি মি: মোরশেদ। এর পাশাপাশি নদীতে স্থাপনা আছে এমন দু’জন ব্যবসায়ী প্রধানমন্ত্রীর কাছে দু’টি চিঠিতে লিখেছেন তাদের যে স্থাপনা শীতলক্ষ্যা নদীর ভেতরে আছে সেগুলো যেন উচ্ছেদ করা না হয়। আদালতের রায়ের পর এ ধরনের চিঠি দেবার সুযোগ নেই বলে মি: মোরশেদ উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো: আব্দুল মালেক মিয়া চিঠি দেবার বিষয়ে বলছেন সে চিঠিতে তারা আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন মাত্র।

কারন দর্শানোর নোটিশের পর এখন তারা কি করবেন? সে বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান বলছেন, “আদালত থেকে আমাদের কাছে যদি এ ধরনের কোন রুলনিশি বা শোকজ আসে তখন আমরা আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করব যে আমরা কোন অবমাননা করিনি।”

মি: মিয়া বলেন যেসব প্রতিষ্ঠানকে বিআডব্লিউটিএ লাইসেন্স দিয়ে স্থাপনা তৈরীর অনুমতি দিয়েছে সেগুলো ভেঙ্গে দেয়া হবে কিনা সেটি নিয়ে হাইকোর্টের দিক নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে।

“আমাদের মন্ত্রনালয় থেকে সেটি (চিঠি) আইনমন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং আইনমন্ত্রনালয়ের সলিসিটর উইং সেটি হাইকোর্টে নির্দেশনার জন্য তুলে ধরবে সরকারের পক্ষ থেকে,” বলেন বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান।

বিআইডবিলউটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বদ্ধপরিকর। কর্মকর্তারা বলছেন যেসব স্থাপনা তৈরীতে বিআইডব্লিউটিএ অনুমতি দিয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রেই তারা কেবল অধিকতর মতামত বা নির্দেশনা চাইছেন।