আলোচনা হবে, জোট এখনই সক্রিয় নয়

- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা
- Published
বাংলাদেশে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি হরতালসহ আন্দোলনের কর্মসূচিকে সামনে রেখে চার দলীয় জোটের শরীক দলগুলোর সঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে আলোচনা শুরু করেছে৻
তবে এখুনি এই জোটকে সক্রিয় করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে না বলে বিএনপি নেতারা বলছেন৻
বিএনপির ২৭শে জুন হরতাল এবং তার আগে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়ার প্রেক্ষাপটে দলের চেয়ারপরসন খালেদা জিয়া নিস্ক্রিয় চারদলীয় জোটের শরিকদলগুলোর সাথে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার তিনি বৈঠক করছেন ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট, এবং জাতীয় পার্টির একাংশের সাথে। জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সাথে ৫ই জুন খালেদা জিয়ার বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বৈঠকগুলো আলাদা আলাদাভাবে হলেও গত সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলছে বিএনপি।
তবে দলটির সিনিযর যুগ্ম মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেছেন, এসব বৈঠক চার দলীয় জোটকে এমুহুর্তে সক্রিয় করার কোন চিন্তা থেকে নয়।
মি: আলমগির উল্লেখ করেছেন, বিএনপি এককভাবে আন্দোলনের যে কর্মসূচি দিয়েছে, তার প্রতি নৈতিক সমর্থন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের সাথে বিএনপি নেত্রী মতবিনিময় করবেন। এর অংশ হিসেবেই চারদলীয় জোটের শরিকদের সাথে আলাদা আলাদাভাবে মতবিনিময করা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায খালেদা জিয়া জোটের শরিক দলের বাইরে সমমনা বিভিন্ন দলের সাথেই বৈঠক করবেন। যাতে সবাই বিএনপি কর্মসূচির প্রতি নৈতিক সমর্থন দেয়।
বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগিরের বক্তব্য হচ্ছে, চারদলীয় জোট ছিল নির্বাচনী জোট।
ভবিষ্যতে যদি এই জোটকে সক্রিয় করার প্রয়োজন হয়, তখন গিয়ে বিএনপি বিষয়টি বিবেচনা করবে। এখন বিএনপি তাদের কর্মসূচির প্রতি সবার নৈতিক সমর্থন চায় বলেই তিনি উল্লেখ করেছেন।
তবে বিএনপির একটি সূত্র বলছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি যখন এসেছে, সেসময় চারদলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ঐ জোটকে সক্রিয় করার ক্ষেত্রে বিএনপির মধ্যে অনেকেরই ভিন্ন মত রয়েছে।
ফলে কৌশল হিসেবে বিএনপি এমুহুর্তে কোন দায় নিতে চায় না বলেও ঐ সূত্রটি উল্লেখ করেছে।
এদিকে, চার দলীয জোটকে সক্রিয় করার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীও সতর্কতার সাথে বক্তব্য তুলে ধরছে।
সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো: মুজাহিদ বলেছেন, জোট সক্রিয় নেই। তবে জোটের শরিকদের মধ্যে যোগাযোগ সবসময়ই রয়েছে।
একইসাথে তিনি বলেছেন, জোটে কোন বিষয় একক কোন দলের সিদ্ধান্তে হয়না। সেখানে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া যে বৈঠক করতে চেয়েছেন, তাতে জামায়াতের নেতারা যাবেন।
বিএনপির বক্তব্য জেনে তারপর নিজেদের দলে আলোচনা করে করনীয় থাকলে তা ঠিক করবেন।
অন্যদিকে, চারদলীয় জোটের আরেক শরিক ইসলামী ঐক্য জোটের একাংশের নেতা ফজলুল হক আমিনী তাদের জোটকে এমুহুর্তেই সক্রিয় করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক যে মেরুকরন হয়েছে, তাতে যে যত বড় দলই হোক না কেন, জোটবদ্ধভাবেই আন্দোলন বা নির্বাচন করতে হবে বলে মি: আমিনী মন্তব্য করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর ভাষায় জোট ব্যর্থ হয়েছে, এটা বলা যাবে না।
তবে জোটের শরিক দলগুলোর এই নেতারা বলেছেন, বিএনপি আলাদা আলাদাভাবে এই বৈঠক করলেও তাদের মধ্যে দূরত্ব কমে আসবে বলে তারা মনে করেন।








