মাহমুদুর রহমানের আরো আটদিনের রিমান্ড

বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়া আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ রহমানকে আজ (মঙ্গলবার) আরো দুটি মামলায় চারদিন করে আট দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত৻ এর ফলে তাঁকে মোট ১২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হল৻
মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় সোমবার রাতেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল৻
ঐ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুদ্দিন সালেহ আহমেদ চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে তিনি বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেছেন৻
ঐ মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছিল ২০০৬ সালে ২৪শে নভেম্বর উত্তরা এলাকায় মাহমুদুর রহমান তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন৻ সেটাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয় তাতে মাহমুদুর রহমানসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে৻
পাশাপাশি হিযবুত তাহেরীর পোষ্টার ও প্রচারপত্র ছাপানোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিঃ রহমানের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়৻
এই দুই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে দশদিনের রিমান্ডে নেবার অনুমতি চাওয়া হলে আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে৻
সোমবার মঞ্জুর হয়েছে চারদিনের রিমান্ড
সোমবার মাহমুদুর রহমানকে দুটি মামলায় আদালত মোট চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
মহানগর হাকিমের আদালত পৃথক দু’টি মামলায় ঐ রিমান্ড মঞ্জুর করে।
মিঃ রহমানের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেবার অভিযোগে তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে বলে সরকারী আইনজীবী আবু আবদুল্লা জানিয়েছেন।

এ মামলায় অভিযোগ করা হয় মাহমুদুর রহমানকে পুলিশ গ্রেফতার করতে গেলে সে সেসময় পুলিশের কাজে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়।
অন্যদিকে কোতয়ালী থানায় দায়ের করা আরেকটি মামলাতেও মিঃ রহমানকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
মিঃ রহমানের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
কোতয়ালী থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ সম্পর্কে আইনজীবী মিঃ তালুকদার বলেন বুধবার গ্রেপ্ততারের পর মাহমুদুর রহমানকে যখন আদালতে হাজির করা হয় তখন পুলিশ আইনজীবীদের সাথে ‘অন্যায়’ আচরণ করলে আইনজীবীরা এর প্রতিবাদ করে এবং পুলিশের সাথে কিছুটা উত্তেজনা তৈরী হয়।
মিঃ তালুকদার বলেন এর পর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। তিনি জানান মামলার অভিযোগে বলা হয় মাহমুদুর রহমান আইনজীবীদের সাথে উচ্ছৃঙ্খল আচরণে সহায়তা করেছেন এবং ইন্ধন যুগিয়েছেন।
পত্রিকা বন্ধের প্রেক্ষাপট
গত ১লা জুন আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশনার অনুমতি বা ডিক্লারেশন বাতিল করে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পয়লা জুন রাতে মি: রহমানকে পুলিশ গ্রেফতার করতে গেলে পত্রিকার কর্মীদের বাধার মুখে পড়ে তারা। পরে শেষ রাতে পুলিশ মি: রহমানকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দলটির অভিযোগ সরকাররের নানা ‘অনিয়ম’ পত্রিকাটিতে তুলে ধরায় সরকার সেটি বন্ধ করে দিয়েছে।








