মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে একতরফা
- Author, আকবর হোসেন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
- পড়ার সময়: ২ মিনিট
বাংলাদেশে সরকারের একটি কমিটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনায় আরও চার শতাধিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অভিযোগ করছে যেসব মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হচ্ছে সেখানে তাদের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কোন মামলা নেই। যদিও সরকার বলছে বিচার বিশ্লেষণ করেই মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হচ্ছে।
সরকার গঠিত কমিটি এপর্যন্ত কমিটির সামনে আসা সাড়ে আট হাজারের বেশি মামলার মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে।
আইন প্রতিমন্ত্রী বলছেন যেসব মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে তার বেশিরভাগই বিগত বিএনপি সরকারের সময় দায়ের করা।
তিনি বলেছেন বাকি মামলাগুলোর মধ্যে কিছু মামলা কমিটি সুপারিশ করবে না বলে নামঞ্জুর করে দিয়েছে এবং কিছু মামলা সুপারিশের অপেক্ষায় আছে।

এদিকে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার সম্পর্কে সরকারের সমালোচনা করে বিরোধী দল বিএনপি বলছে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের নামে সরকার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকা মামলাও প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।
বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেছেন সরকারদলীয় নেতা কর্মীদের শত শত মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হলেও বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের মামলা আমলে নেয়া হচ্ছেনা ।
মওদুদ আহমদ বলেন, “রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের নামে সরকারদলীয় নেতা কর্মীদের নামে খুন , ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মতো মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ” তিনি বলছেন মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সরকারের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গীর নীতিতে তারা বিস্মিত হয়েছেন।
কিন্তু বিরোধী দলের এসব অভিযোগকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেনা সরকারপক্ষ। আইন প্রতিমন্ত্রী বলছেন চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে অন্য কিছু বিবেচনার সুযোগ সরকারের সামনে নেই বলেও উল্লেখ করেন আইন প্রতিমন্ত্রী।
সরকার বলছে বিগত বিএনপি জোট সরকারের সময় যেসব মামলা করা হয়েছে সেগুলোই রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা। তাছাড়া বিগত ত্বত্তাবধায়ক সরকারের সময় কিছু মামলা দায়ের করা হয়েছিল বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
আইন প্রতিমন্ত্রী মনে করছেন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে ‘এক কাতারে ’ দেখানোর জন্যই সেসব মামলা করা হয়েছিল। তাছাড়া ত্বত্তাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলাগুলোকে সরকার যথার্থ বলেই মনে করে বলে জানালেন আইন প্রতিমন্ত্রী৻ এসব মামলাকে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা বলে মনে করছেনা।

তবে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুযোগে অনেক গুরুতর অপরাধের মামলাও প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ এসেছে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে। গুরুতর অপরাধের সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকা অনেক মামলাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে চিহ্নিত করার অভিযোগও উঠেছে।
আইন প্রতিমন্ত্রী বলছেন সরকারের কমিটি মামলা প্রত্যাহারের যেসব সুপারিশ করছে সেখানে কিছু ভুল-ভ্রান্তি থাকা অস্বাভাবিক নয়।
তিনি বলেন, “যখন আমরা জানতে পারছি যে সুপারিশ করার ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে তাহলে আমরা অবশ্যই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছি।”
মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রথমে জেলা প্রশাসকদের কাছে আবেদন আসে। তারপর জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে যেসব কমিটি আছে তাদের কাছ থেকে সুপারিশ ঢাকায় আসলে তারপর সেটি বিবেচনা করা হয় বলে জানালেন আইন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের কমিটির সামনে এখনও যে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মামলা আছে সেগুলো পর্যালোচনা করে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও মাস দু’য়েক সময় লাগবে বলে আইনপ্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন।








