আশুলিয়ায় ফের শ্রমিক অসন্তোষ

শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আজ (মঙ্গলবার) ঢাকার কাছে আশুলিয়া আবার বিক্ষুব্ধ রূপ নেয়৻
অনেকটা রণক্ষেত্রে পরিণত আশুলিয়ায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে প্রায় ১০০ জন আহত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ ভাঙচুরের ঘটনায় মালিকদের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ সেখানে সব কারখানা বন্ধ ছিল।
তবে, বাংলাদেশে সরকার বলছে আশুলিয়ায় যে আড়াইশোর মতো পোশাক কারখানা মালিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ করে দিয়েছিল, সেগুলো বুধবার থেকে খুলে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৻
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করার পর বাংলাদেশের শ্রম মন্ত্রী খোন্দকার মোশাররফ হোসেইন এ কথা জানান এবং আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘পোষাক শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরী রমজান মাস শুরু হবার আগেই ঘোষণা করা হবে৻`
পুলিশ বলছে কারখানা বন্ধের এ ঘোষণা মঙ্গলবার অনেক শ্রমিকই জানতেন না। ফলে সকালে কর্মস্থলে এসে কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং রাস্তায় এসে গাড়ি ভাঙচুর করে। এসময় শ্রমিকরা রাস্তায় গাড়ি চলাচলের প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করে।
পুলিশ বলছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এক পর্যায়ে রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ইপিজেড-এর দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শ্রমিকক-পুলিশ সংঘর্ষ সকাল আটটা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে। এসময় দীর্ঘ আট কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ বলছে সংঘর্ষ চলাকালে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী শত শত যানবাহন আটকা পড়লে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলছেন, ‘মালিকদের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে সে এলাকায় কারখানা বন্ধ থাকার জন্য শ্রমিক বিক্ষোভের আশংকায় আগে থেকেই এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।`
মঙ্গলবার বেলা এগারোটার পর পরিস্থিতি শান্ত হলেও সন্ধ্যার পরেও আশুলিয়া এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়।
আশুলিয়া এলাকায় বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবীতে তৈরী পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা গত সপ্তাহখানেক ধরে বিক্ষোভ করছে। শ্রমিক বিক্ষোভ মাঝে মধ্যেই সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। দাবী দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভের সময় শ্রমিকরা গত কয়েকদিনে একাধিকবার কারখানা ভাঙচুর এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
কারখানায় নিরাপত্তার দাবী তুলে তৈরী পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বা বিজিএমইএ আজ থেকে আশুলিয়া এলাকায় তৈরী পোশাকের সব কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় গতকাল।
বিজিএমইএ বলে গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে তাঁরা সেখানে আরো অরাজকতার আশংকা করছেন৻ বিজিএমইএ-র সভাপতি বিবিসিকে বলেন সরকার যতক্ষণ না নিরাপত্তার জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে ততক্ষণ তারা এসব কারখানা বন্ধ রাখবেন৻
পুলিশ বলছে নূন্যতম মজুরী পাঁচ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর দাবীতে শ্রমিকরা আশুলিয়া এলাকায় বিক্ষোভ করছে গত সপ্তাহখানেক ধরে।
তবে মঙ্গলবারের বিক্ষোভই সবচেয়ে বড় আকার নিয়েছিল বলে পুলিশ বলছে।
বিজিএমইএ বলছে আশুলিয়া এলাকায় প্রায় ২৫০ টির মতো তৈরী পোশাক কারখানা আছে।








