চীন তাইওয়ান বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন

চীন ও তাইওয়ান একটি বাণিজ্যিক সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছে, যেটিকে তাইওয়ানের কর্মকর্তারা গত ষাট বছরের মধ্যে তাদের সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে বর্ণনা করেছেন৻
এই চুক্তি অনুসারে চীন ও তাইওয়ান তাদের পরস্পরের বাজারে বিক্রি করে, এমন আটশো পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো হবে৻
চীন, তাইওয়ান উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা চীনের চংকিং শহরে এই চুক্তি সম্পন্ন করেন৻
এই একই শহরে ষাট বছর আগে চীনা জাতীয়তাবাদী নেতা চিয়াং কাই শেখ, কম্যুনিস্ট নেতা মাও সেতুঙের সঙ্গে অস্ত্র বিরতি চুক্তির ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালান৻
ছয় দশক ধরে দুপক্ষের সম্পর্কে চলেছে নানান টানাপোড়েন৻
এই সমঝোতা সত্যিই কত বড় মাইলফলক?
চীনের বিষয়ে বিবিসির ভাষ্যকার শিরং চেনের মতে, একথা বলা যেতে পারে যে, এটা হলো চীন এবং তাইওয়ানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় প্রাথমিক পদক্ষেপ৻
তিনি আরো বলছেন মনে রাখতে হবে দু তরফের মধ্যে বিভেদ-বিরোধ বহু পুরোণ৻
এর সুত্রপাত ষাট বছর আগে চীনের গৃহযুদ্ধের সময় থেকে এবং দু তরফের মধ্যে আজ অবধি আনুষ্ঠানিক কোনো যুদ্ধ বিরতি চুক্তিও নেই৻
চীনের মুল ভুখন্ডের কর্তৃপক্ষ মনে করে তাইওয়ান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটা প্রদেশ মাত্র এবং তারা চায় মুল ভুখন্ডের সঙ্গে তাইওয়ানের একত্রীকরণ৻ প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বেইজিং এটা করতে চায়৻
সেই পটভুমিতে শিরং চেন মনে করছেন এই অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি হচ্ছে এমন একটা বিষয় যেটার দরুণ একটা শান্তিপুর্ণ পথে, উভয় পক্ষের জন্যে লাভজনক পথে, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে৻
চীনা কর্তৃপক্ষও, সামরিক পন্থা অবলম্বন না করে, এখন অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপরেই যে বেশী নির্ভর করছে, সেটা গুরুত্বপুর্ণ বলে মনে করছেন শিরং চেন৻
এই চুক্তির দরুন কোন তরফ কি পাচ্ছে?
মি.শিরং বলছেন তাইওয়ানের বিরোধী রাজনীতিকরা আশঙ্কা করছেন এই চুক্তির ফলে তাইওয়ান চীনের ওপর আরো বেশী করে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে৻

তবে তিনি বলছেন, আসলে তাইওয়ানের বহু ব্যবসায়ীরই মুল ভুখন্ডে বিনিয়োগ করে প্রচুর লাভ হচ্ছে৻
আর চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যেও তাইয়ানের বিনিয়োগটা যথেষ্ট দরকার৻
এটা ব্যবসা এবং অর্থনীতি সংক্রান্ত চুক্তি হলেও এর অবশ্যই একটা রাজনৈতিক মাত্রাও আছে৻
এর অর্থ কি এই যে চীন শেষ পর্যন্ত তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিতে চলেছে?
শিরং চেন বলছেন এটাকে বলা হচ্ছে অর্থনৈতিক সহযোগিতার কাঠামো সংক্রান্ত চুক্তি৻ চীন হং কং এবং ম্যাকাউয়ের সঙ্গেও এই চুক্তি সই করেছে৻ কাজেই বেইজিঙের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে এটা কখনোই তাইওয়ানকে স্বার্বভৌমত্ব দেবার সামিল নয়৻
তাঁর মতে অন্যদিক থেকে এটাও বলা যেতে পারে যে এটা একটা অবাধ বাণিজ্য চুক্তিরই মতো, যেটা সধারনত দু দেশের মধ্যে সই হয়৻
শিরং চেন এটাও মনে কেন যে বেইজিং তাইওয়ানের জনগনকে বোঝাতে চেষ্টা করছে যে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল তারাও পাচ্ছে কারন সাধারনত এধরনের চুক্তিতে শুল্ক মু্ক্ত পণ্যের যে তালিকা থাকে, এটাতে সেই তালিকাটা তুলনামুলকভাবে অনেক দীর্ঘ৻ তাই এটা অবশ্যই একটা অনেকাংশেই একটা ব্যতিক্রমী চুক্তি যেটা দু তরফের জন্যেই গুরুত্বপুর্ণ৻
শিরং চেন বলছেন দু তরফেই অনেকে আশা করছেন, এটা হচ্ছে চীন-তাইওয়ানের মধ্যে এধরনের বহু চুক্তির প্রথমটা, এবং সহযোগিতার এসব সমঝোতার মাধ্যমেই শেষ পর্যন্ত একত্রীকরণ না হলেও, অন্তত একটা শান্তি চুক্তি হবে৻








