২০১২ সালে গঙ্গা ব্যারাজের নির্মাণ শুরু

প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারাজ এলাকার মানচিত্র
ছবির ক্যাপশান, প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারাজ এলাকার মানচিত্র
    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published
  • পড়ার সময়: ২ মিনিট

বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন জানিয়েছেন ২০১২ সালের ডিসেম্বরে সরকার বহুল আলোচিত গঙ্গা ব্যারাজ নির্মানের কাজ শুরু করবে।

মধ্যাঞ্চলীয় জেলা রাজবাড়ির পাংশা এই ব্যারাজ নির্মানের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারন করা হয়েছে।

এই ব্যারাজ নির্মানের জন্য সরকারের ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে বলে পানিসম্পদ মন্ত্রী জানিয়েছেন । তিনি বলছেন নির্মান কাজ শুরু হলে শেষ হতে পনের বছর পর্যন্ত সময় লাগবে ।

সরকার বলছে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর কৃষি ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষাই এ ব্যারাজের মূল উদ্দেশ্য ।

পানি সম্পদ মন্ত্রী বলছেন পদ্মা নদীতে ব্যারাজ হলে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯ লক্ষ হেক্টর কৃষি জমি সেচ সুবিধা পাবে এবং ফলন বৃদ্ধি পাবে ।

পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন
ছবির ক্যাপশান, পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন

এর পাশাপাশি এই ব্যারাজের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৬০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব হবে বলে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলছেন । দুই কিলোমিটারব্যাপী এই ব্যারাজ নির্মান করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন গঙ্গা ব্যারাজ নির্মানের প্রথম উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ৬০’র দশকে । ১৯৬৯ সালে তখন এর সম্ভাব্যতা যাচাইও করা হয়।

স্বাধীনতার পর বহুল আলোচিত গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে আরও কিছু স্টাডি হয়েছে বলে জানালেন যৌথ নদী কমিশনের সাবেক সদস্য ড: তৌহিদুল আনোয়ার খান । তিনি বলেন দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের জীব বৈচিত্র্য বাঁচাতে গঙ্গা ব্যারাজ অপরিহার্য বলেই বিভিন্ন গবেষনায় উঠে এসেছে ।

ড: খান বলেন দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে ২২ -২৫টি ছোট নদী আছে যেগুলোর পানি প্রবাহ পদ্মা নদীর উপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন , “ভারতে ফারাক্কা ব্যারাজের কারনে বাঙলাদেশে পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ শুষ্ক মৌসুমে কমে যাওয়ায় দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ কমে। এজন্য শুষ্ক মৌসুমে এসব নদী শুকিয়ে যায়। ”

তিনি বলেন যে গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ যদি প্রাপ্য পানি যথাযথ ব্যবহার করতে চায় তাহলে গঙ্গা ব্যারাজ অপরিহার্য। এই ব্যারাজ নির্মান করা হলে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে পানির হাহাকার কমবে বলে ড: খান মনে করেন ।

বাংলাদেশে বিভিন্ন মহলে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মানের দাবী দীর্ঘদিনের । ফারাক্কা ব্যারাজের কারনে বাংলাদেশে পদ্মা নদীতে শুষ্ক মওসুমে পানি অনেকটা শুকিয়ে যাওয়ায় গত কয়েক দশক ধরে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মানের দাবী জোরদার হয়।

তবে এর পরিবেশগত নেতিবাচক দিক নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে । অবশ্য, তৌহিদুল আনোয়ার খান এর কোন নেতিবাচক প্রভাব দেখছেন না ।

তিনি বলেন , “এটা বরং পরিবেশের উন্নতি করবে । যেখানে পানি নেই সেখানে পানি সরবরাহ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে।” গঙ্গা ব্যারাজ নির্মান করা হলে বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলেও এর কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে ড: খান মনে করেন ।

শুষ্ক মওসুমে সমগ্র বাংলাদেশে যে পরিমান নদীর পানি পাওয়া যায় তার পঁচাশি ভাগ আসে পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে ।

এর মধ্যে ব্রহ্মপ্রত্র থেকে আসে প্রায় ৬৭ ভাগ এবং পদ্মা থেকে ১৪ ভাগ পানি আসে ।

রাজবাড়ির পাংশায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মান হলে তার পরে ব্রহ্মপুত্র নদী নেমে আসছে । সেজন্য পদ্মার ভাটিতে পানির বড় প্রবাহ আসবে ব্রহ্মপুত্র থেকে । ড: খান মনে করেন এ কারনেই গঙ্গা ব্যারাজ কোন পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব তৈরী করবে না ।