টেকনাফের বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে

বাংলাদেশের সৈকতশহর কক্সবাজারের প্রশাসন ঘূর্ণিঝড় গিরি আঘাত হানার আশংকায় সেখানকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাবার প্রস্তুতি নেবার পরামর্শ দিয়েছে৻ টেকনাফ উপজেলার সেন্ট মার্টিন ও শাহপুরি দ্বীপের বাসিন্দাদের নিরাপদস্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে৻
আবহাওয়া অফিস বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘গিরি’র কারণে কক্সবাজার উপকূলকে ৫ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলেছে ।
একই সঙ্গে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত এবং মংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
কক্সবাজার থেকে সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন যে জেলা প্রশাসন মাইকিং করে উপকূলীয় জেলাটির বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরে যেতে বলেছে৻ তবে, এখনও সেই আহ্বানে তেমন একটা সাড়া মেলেনি বলে সংবাদদাতারা জানান৻
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় গিরি আজ বিকেল পাঁচটায় টেকনাফ থেকে ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে , চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বে অবস্থান করছিল।
এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার রাত নাগাদ টেকনাফের দক্ষিণ দিক দিয়ে কক্সবাজার ও বার্মার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় গিরি উপকূল অতিক্রম করার সময় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল ও পটুয়াখালী—এসব জেলার দ্বীপ ও চরগুলোতে ঘূর্ণিঝড় এবং পূর্ণিমার প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ছয় থেকে আট ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গিরি নামে এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে।
মাছ ধরার নৌকাসহ সব নৌযানকে নিরাপদ স্থানে চলে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।








