ইভ টিজিং মোকাবেলায় শিক্ষা কর্মসূচি

- Author, ওয়ালিউর রহমান মিরাজ
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলীয় জেলা ফরিদপুরের মধুখালীতে মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদকারী একজন মায়ের মৃত্যুর পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শনিবার ঐ এলাকা সফর করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, উত্যক্তকারীরা চাঁপা রানী ভৌমিককে মোটর সাইকেল চাপা দিয়ে হত্যা করেছে এবং এর প্রতিবাদে আরো সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন যে এই ধরনের বখাটে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় শিক্ষকদের কাজে লাগানো হবে এবং সে লক্ষ্যে শিক্ষকদের জন্যে একটি ম্যানুয়াল বা নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে।
মধুখালীর একটি চিনিকলের কর্মচারী চাঁপা রানী ভৌমিক মাত্র কয়েকদিন আগে নিহত হন।
ঘটনার পর এলাকাবাসী রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে, ক্ষোভে-বিক্ষোভে নানারকম কর্মসূচিও পালন করেছে।
মধুখালীর বাসিন্দা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উপজেলা কমিটির সভাপতি মালেক শিকদার বলছেন যে এলাকাবাসী এখন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাইছেন।
“কিন্তু মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে – আশঙ্কাও রয়েছে যে বিচারটা হবে তো?”
মিঃ শিকদার বলেন, ঘটনার পরপরই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা যেতো। কিন্তু কেন গেল না, এ নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্নও আছে।
চাঁপা রানী ভৌমিকের মৃত্যুর ঘটনায় যে হত্যামামলা দায়ের হয়েছে, তাতে ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কিন্তু মূল অভিযুক্তকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।
এই পরিস্থিতিতে সেখানে যান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, যিনি এই তথাকথিত ইভটিজিং বন্ধের লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রী থেকে একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছেন।
মিঃ নাহিদ পরে বিবিসিকে বলেন যে মধুখালীর মানুষের মধ্যে তিনি বেদনা ও ক্ষোভ দেখতে পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘‘আমি সেখানে বলেছি যে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন এ সংক্রান্ত আইন আরো কঠোর করা হবে, যাতে ঘটনার সাথে সাথে বিচার করা যায়।‘‘
“আরেকটা দিক হলো, আমরা আমাদের আন্দোলন আরো জোরদার করবো, যাতে আর কোন মা-বোন এধরনের ঘটনার শিকার না হন।“
ইভটিজিং-এর মতো বিষয়গুলো যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, তা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করার ব্যাপারে এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তবে নতুন এই পাঠ্যপুস্তক তৈরি হতে বছর দুয়েক সময় লাগবে।
তার আগেই শিক্ষকদের জন্যে একটি অরিয়েন্টেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
তিনি বলেন যে একটি পুস্তিকা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষকদের জন্যে পাঠদানের কিছু নির্দেশনা থাকবে।
তিনি বলেন, ছেলে মেয়ের সম্পর্ক, মেয়েদের সম্পর্কে ছেলেদের অতীতের দৃষ্টিভঙ্গী যেমন মেয়েরা দূর্বল এবং ভোগের বস্তু, এগুলো পরিবর্তন করা, একত্রে চলার পরিবেশ উন্নত করা – এসব বিষয়ে শিক্ষকরা ছেলেদের শিক্ষা দেবেন।
মিঃ নাহিদ বলেন যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেসব ব্যবস্থা নিচ্ছে, তার একটি লক্ষ্য হলো হয়রাণির হাত থেকে মেয়েদের রক্ষা করা।
একই সাথে বিপথগামী তরুনদেরকেও ঠিক পথে ফিরিয়ে আনাও হবে এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে তিনি জানান।








