যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের ভরাডুবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ওবামার ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে৻
তবে উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টি কিছু আসন হারালেও সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে৻ গভর্নর নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বিরোধী রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে দশটি রাজ্য ছিনিয়ে নিয়েছে৻
সংবাদদাতারা বলছেন এটি প্রেসিডেন্ট ওবামার জন্য একটি বড় আঘাত, কারণ মধ্যবর্তী এই নির্বাচনকে প্রেসিডেন্টের ওপর একটি রেফারেন্ডাম বা গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছিলো৻
যে আশঙ্কা ডেমোক্র্যাটিক পার্টি করছিলো ফলাফল সেটাই হয়েছে৻
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ম্যাপের চেহারা রাতারাতি বদলে গেছে৻ বহু জায়গায় ডেমোক্র্যাটদের নীল রং মুছে গিয়ে লাল হয়ে গেছে, অর্থাৎ রক্ষণশীল রিপাবলিকান পার্টির রং ধারন করেছে৻

সংসদের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যেখানে ২১৮ টি আসন হলেই চলে, সেখানে রিপাবলিকানদের আসন এখন ২৩৯ টি৻
ন্যান্সি পেলোসিকে হটিয়ে এখন যিনি সম্ভবত স্পীকার হতে চলেছেন, ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জন বেহনার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যেভাবে সরকার চলছে, সেভাবে তারা চলতে দেবেন না৻
তিনি বলেন, `এটা ঠিক প্রেসিডেন্টই সরকারের এজেন্ডা ঠিক করেন৻ তবে মার্কিনীরা প্রেসিডেন্টকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে তারা কি চায় ৻ জনগণের সেই বার্তা হলো – যেভাবে সরকার চালানো হচ্ছে তা বদলাতে হবে৻`
প্রেসিডেন্টকে যেহেতু কংগ্রেসের দুকক্ষেরই অনুমোদন নিতে হবে, তাই এখন রিপাবলিকানদের সাথে তাকে সমঝোতা করতেই হবে৻
কেন দু বছর আগে বিপুল জনসমর্থন পেয়ে জেতার পর মিঃ ওবামা এভাবে জনপ্রিয়তা হারালেন? পর্যবেক্ষরা বলছেন, বেকারত্ব আর অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারনে সরকারের প্রতি ক্রোধের এই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ব্যালট বাক্সে৻
জনগণের এই হতাশা আর ক্রোধকে কাজে লাগিয়েছে টি পার্টি আন্দোলন নামে রিপাবলিকানদের কট্টর অংশটি৻

মূলধারার রিপাবলিকান প্রার্থীদের হটিয়ে তাদের অনেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন৻ আর তথাকথিত সেই টি পার্টির অনেকেই এবার সংসদের দু কক্ষেই ঢুকছেন৻ ধারণা করা হচ্ছে, এরা প্রেসিডেন্টের জন্য বড় মাথাব্যাথার কারন হবেন৻
টি পার্টি অন্দোলনের মূল কথা – কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা এবং আয়তন কমাতে হবে৻ সরকারের খরচ এবং ঋন কমাতে হবে৻
আমেরিকায় ক্ষমতাসীন দলের কর্তৃত্ব খর্ব হওয়ায় বহিঃবিশ্বও কিছুটা অনিশ্চিয়তায় এবং উদ্বেগে৻ ইউরোপীয় সংসদের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির প্রধান এলমার ব্রুক বিবিসিকে বলেন জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানী নীতি বা বিশ্ব বানিজ্য নিয়ে আলোচনার মত ইস্যুগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে৻
সামনে খারাপ সময় আসছে প্রেসিডেন্ট ওবামাও নিশ্চয়ই তা বুঝতে পারছেন৻ প্রেসিডেন্ট ওবামা কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নেতা জন বোহনারকে ফোন করে বলেছেন তিনি দু দলের মধ্যে অভিন্ন জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে চান৻








