মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা দ্বিগুণ করা সম্ভব

Mobile user Bangladesh
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে ছয় কোটিরও বেশি মোবাইল ব্যবহারকারী আছেন
    • Author, ওয়ালিউর রহমান মিরাজ
    • Role, বিবিসি ঢাকা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৩ মিনিট

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের ওপর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে দেশটির মোবাইল টেলিফোন গ্রাহকের সংখ্যা আগামী পাঁচ বছরে দ্বিগুণ করা সম্ভব, তবে এক্ষেত্রে এই শিল্পটিকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

ঐ রিপোর্টে বলা হয়েছে যে লাইসেন্সের বিষয়টিতে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিতে পারার কারণে এ শিল্পে যে অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে, তা থেকে উত্তরণ এই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি।

মোবাইল কোম্পানিগুলো এই নিশ্চয়তা দূর করার পরামর্শ দিয়েছে, তবে সরকারী কর্মকর্তারা বলছেন যে এ ব্যাপারে কবে নাগাদ সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে, তা এখনো স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা শীর্ষক রিপোর্টটি মোবাইল টেলিফোন কোম্পানিগুলোর সমিতি অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ বা অ্যামটবের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয়।

এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ইফতি ইসলাম এটি উপস্থাপন করে বলেন যে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংখ্যা সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।

বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি।

আগামী পাঁচ বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুন করার বিষয়ে মিঃ ইসলাম বলেন, বর্তমানে চালু দ্বিতীয় প্রজন্ম আ টু জি লাইসেন্স নবায়ন এবং আধুনিক তৃতীয় প্রজন্ম বা থ্রি জি লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে হবে।

তিনি বলেন, এটা করতে হলে থ্রি জি নেটওয়ার্ক এবং টু জি নেটওয়ার্কের উন্নয়নের জন্যে আপনাকে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হবে।

একই সাথে মিঃ ইসলাম মনে করেন যে সিমের ওপরে আরোপ করা কর কমাতে হবে, কেননা বাংলাদেশ হলো বিশ্বে এমন একটি দেশ, যেখানে সিমের ওপর কর অত্যন্ত বেশী।

“সিমের ওপর কর কমানো হলে গ্রাহক সংখ্যা বাড়বে, ফলে সরকার আরো বেশি রাজস্ব পাবে।“

তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় হলো, দ্রুত থ্রি জি প্রযুক্তি চালুর বিষয়টি সুরাহা করা, যাতে মোবাইল কোম্পানিগুলো প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করতে পারে।

মোবাইল কোম্পানিগুলো বলছে যে বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করতে তাঁরা আগ্রহী।

কিন্তু সেক্ষেত্রে টু জি লাইসেন্স নবায়নের শর্তগুলো জানতে হবে, কেননা এখন থেকে ঠিক এক বছর পরে বেশ কয়েকটি কোম্পানির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হবে।

অন্যদিকে, থ্রি জি লাইসেন্স দেওয়া হবে বলা হলেও তা কবে দেওয়া হবে, এর জন্যে ফি কী হবে, থ্রি জি লাইসেন্স পেতে যোগ্যতা কী হবে – এসব বিষয় সরকার এখনো চুড়ান্ত করতে পারে নি।

ফলে সব মিলিয়ে একটি অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে, আর তাই এসব ব্যাপারে পরিস্কার না জেনে মোবাইল কোম্পানীগুলো বড় মাত্রায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয় বলে বলছেন সবচেয়ে বড় কোম্পানী গ্রামীনফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অডভার হেশজেডাল।

সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের দেরী হওয়ার বিষয়টি মোবাইল টেলিফোন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে কীনা, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন যে মোবাইল টেলিফোন শিল্পকে এই বিষয়টি খুব বেশী ক্ষতিগ্রস্থ করছে, তা তিনি মনে করেন না, কেননা এখানে এখনো বেশ ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

“তবে আমি বলব যে এটি দেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।“

তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে ঢোকার জন্যে এটাই সবচেয়ে ভালো সময়। আর দেরী করা উচিত হবে না, কারণ বিশ্বজুড়ে টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতির দাম এখন বেশ কম।

মিঃ হেশজেডাল মনে করেন যে আরো দু’বছর দেরী করলে পুরো বিশ্ব দু’বছর এগিয়ে যাবে।

Mobile User Bangladesh
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে সব বয়সীরাই মোবাইল ব্যবহার করেন

“আমরা যদি এখনই এটা করতে পারি, তাহলে তা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সাহায্য করবে।“

বিগত বছরগুলোতে মোবাইল ফোন গ্রাহক সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়লেও সম্প্রতি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে বলে কোম্পানীগুলো বলছে এবং এর জন্যে দায়ী করা হয়েছে সংযোগ বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুদিন আগে আরোপিত বিধি-নিষেধকে।

মোবাইল কোম্পানি রবি’র প্রধান বিপনন কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কুমার বসু বলছেন যে এই শিল্প নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশে নিয়ম-নীতি কী আছে, তা দেখা প্রয়োজন।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব সুনীল কান্তি বসু বলছেন যে ১৮ বছরের নীচে কারো কাছে সিম বিক্রি না করা কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে সিম কেনা – এ ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

সুনীল কান্তি বসু অবশ্য নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি যে টু জি’র লাইসেন্স নবায়ন এবং থ্রি জি লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টির সুরাহা ঠিক কবে নাগাদ করা যাবে।