নির্যাতনের ক্ষতিপূরণ দেবে ব্রিটেন

সন্ত্রাসের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, এরকম জনা ১২ লোককে লক্ষ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে ব্রিটিশ সরকার৻ এরা সবাই ব্রিটিশ নাগরিক৻
নির্যাতনের মামলা এড়াতেই এই ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে৻
সাবেক এই বন্দীদের মূল অভিযোগ, ব্রিটিশ গোয়েন্দারা দেশের বাইরে বিভিন্ন বন্দী শিবিরে তাদের ওপর নির্যাতনে সহায়তা করেছে৻
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গুরুতর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের সামনে বিকল্প ছিলো দুটো ৻ এক, মামলা চালিয়ে যাওয়া যাতে গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ৫ এবং এমআই ৬ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পেতে পারে৻ দুই, ক্ষতিপূরণ দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া৻
সরকার যে দ্বিতীয় পথটি নিচ্ছে তার কারণ কি হতে পারে?
ইউনিভার্সিটি অব ল্ন্ডনের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক ফিলিপ স্যান্ডস্, যিনি এই সন্দেহভাজন বন্দীদের ওপর নির্যাতন নিয়ে সম্প্রতি একটি বই লিখেছেন, বিবিসিকে বলেন, সরকার এই নির্যাতনের অভিযোগের বিস্তারিত তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে৻ মামলা চললে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত সম্ভব হত না৻
অবশ্য তার মতে, অন্য কিছু উদ্বেগও সরকারের রয়েছে ৻
তিনি বলেন, গত দু তিন বছরে নির্যাতন নিয়ে বেশ কটি মামলা হয়েছে, এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই আদালত সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছে৻ অনেক তথ্য প্রকাশ করতে আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যেটা সরকারকে বিব্রত বোধ করেছে এবং অন্য দেশের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরী করেছে৻
`সরকার হয়তো এরকম আরো অনেক মামলার আশঙ্কা করছিলো৻`
অধ্যাপক স্যান্ডেস্ আরো বলেন আরেকটি বিষয় হয়ত সরকার বিবেচনা করছে যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ইতিমধ্যেই এসব মামলা নিয়ে প্রচুর সময় দিতে হচ্ছিলো৻ `মামলা দীর্ঘ হলে প্রচুর পয়সাও যেত৻ ফলে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মিটিয়ে ফেলার পথেই গেছে সরকার৻‘
যে ১২ জন এই নির্যাতনের মামলা করেছেন তাদের মধ্যে বেশ কজন গুয়ানতানামো বন্দী শিবিরেও ছিলেন৻ কোথায় কোথায় তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিলো সে প্রসঙ্গে তারা মরোক্কো এবং পাকিস্তানের নামও উল্ল্যেখ করেছেন৻
একজন অভিযোগকারী বিনইয়াম মোহাম্মদ বলেন ২০০২ সালে প্রথমে তাকে পাকিস্তানে আটকে নির্যাতন করা হয়৻ সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় মরক্কো, তারপর আফগানিস্তানে৻
তার অভিযোগ, ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এম আই ফাইভ তার ওপর নির্যাতন তো বন্ধ করার চেষ্টা করেই নি, বরঞ্চ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারা নির্যাতনকারীদের প্রশ্ন সরবরাহ করেছে৻
ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব অন্যান্য দেশের সাথে ব্রিটেনের সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে কিনা? প্রফেসর স্যান্ডেস্ বললেন, ব্রিটিশ-মার্কিন সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে৻
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা এখনো পর্যন্ত এসব নির্যাতনের ব্যাপারে কোনো তদন্তের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাননি৻ সেখানে ব্রিটেন সাবেক বন্দীদের সাথে মীমাংসা করতে চাইছে যাদের অভিযোগের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে৻
`অর্থাৎ যে নির্যাতনের ক্ষতিপূরণ ব্রিটেন দিচ্ছে সেই নির্যাতনের অংশীদার শুধু ব্রিটেন নয়, যুক্তরাষ্ট্রও৻‘
অন্যান্য দেশের সাবেক বন্দীরা নির্যাতনের যে সব মামলা বা অভিযোগ এনেছেন তারাও নজর রাখছেন ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তের দিকে৻
গুয়ানতানামোর সাবেক বন্দী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক মামদু হাবিবও অষ্ট্রেলিয় সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি নির্যাতনের মামলা করেছেন৻ তার আইনজীবী ক্লাইভ এভাট বিবিসিকে বলছিলেন ব্রিটেনের এই ক্ষতিপুরণের সিদ্ধান্তের প্রভাব তার মক্কেলের মামলাতেও পড়তে পারে৻
`ব্রিটিশ সরকার যদি তাদের নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়, তাহলে তার মক্কেল মি হাবিবের মামলার ক্ষেত্রেও সেটা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক হবে৻ কারন তারও অভিযোগ একই ধরনের৻‘
ব্রিটিশ সরকারের এই ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত এবং টাকার পরিমাণ সম্পর্কে এমপিদের একটি কমিটি এবং সরকারি খরচ নজরদারি করে এরকম একটি সংস্থাকে জানানো হবে৻
ধারণা করা হচ্ছে বিষয়টি মিটে গেলে সরকার তাদের প্রতিশ্রুত তদন্ত শুরুর উদ্যোগ নেবে৻








