বিডিআর বিদ্রোহের বিচারে স্বচ্ছতার আহ্বান

Published

বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহের বিচার স্বচ্ছ ভাবে করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার বিচার স্বচ্ছভাবে না হলে ভবিষ্যতের জন্য তা মঙ্গলজনক হবে না বলে তিনি মনে করেন।

BDR, Bangladesh
ছবির ক্যাপশান, বিদ্রোহের অভিযোগে যেসব বিডিআর সদস্য আটক রয়েছেন তাদের অনেকেই মনে করছেন যে তারা ন্যয় বিচার পাচ্ছেন না।

মি রহমান পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে কারাগার পরিদর্শন করেছেন। ওই কারাগারে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় অভিযুক্ত জওয়ান যারা আটক রয়েছেন, তারা বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

মি রহমান মনে করেন, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ন্যয় বিচার পাওয়ার প্রশ্নে অভিযুক্তদের মধ্যে সন্দেহ কাজ করছে।

অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান না, এমন অভিযোগও তিনি পেয়েছেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান উল্লেখ করেছেন, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় অভিযুক্ত জওয়ানরা যেসব অভিযোগ তুলেছেন, সেগুলো নিয়ে তিনি বাহিনীটির মহাপরিচালকের সাথে আলোচনা করবেন।

বিডিআর-এর পুরোনো আইনে এই বিচার কার্যক্রম চলছে, যেখানে বিদ্রোহের ঘটনায় সর্বোচ্চ সাজা সাত বছরের কারাদন্ড।

আইন অনুয়ায়ী বাহিনীটির মহাপরিচালক এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে তিন সদস্যের কয়েকটি আদালত দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচার কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এই বিচার কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই বলে দাবী করেছেন বিডিআর এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, আইন অনুযায়ী অভিযুক্তরা বেসামরিক আইনজীবীর সহায়তা নিতে পারছেন।

কিন্তু সেই আইনজীবীর আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ আইনেই রাখা নেই।

তবে অভিযুক্তদের কোন অভিযোগ থাকলে সেটা তারা আদালতে সরাসরি তুলতে পারেন।

বিডিআর মহাপরিচালক উল্লেখ করেছেন সব নিয়ম মেনে স্বচ্ছভাবে বিচার কার্যক্রম চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের পক্ষে সচিব আব্দুস সোবহান শিকদারও একই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

২০০৯ সালের ২৫ এবং ২৬শে ফেব্রুয়ারী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছিলো।

বিদ্রোহে ঢাকায় সদর দফতরে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা সহ ৭৩ জনকে হত্যা করা হয়েছিলো।

হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিচার হবে ফৌজদারী আইনে সুনির্দিষ্ট মামলায়।