কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী হত্যা

    • Author, ওয়ালিউর রহমান মিরাজ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীরা বলেছেন যে উত্তরাঞ্চলীয় কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী সীমান্তে একজন কিশোরীকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ নিয়ে গেছে।

কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে গুলি করে এবং মেয়েটির মরদেহ দীর্ঘসময় বেড়ার সঙ্গে ঝুলে থাকে বলে বিডিআর জানিয়েছে।

বিডিআরের সাবেক একজন মহাপরিচালক বলছেন যে বিএসএফ মাঠ-পর্যায়ের নিয়ম-নীতি মানছে না বলে যে অভিযোগ রয়েছে, সর্বশেষ এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তা আরো একবার প্রমাণিত হলো।

কুড়িগ্রামে একজন কিশোরীকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ নিয়ে গিয়েছে বিএসএফ।
ছবির ক্যাপশান, কুড়িগ্রামে একজন কিশোরীকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ নিয়ে গিয়েছে বিএসএফ।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হলো ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে পুলিশ জানিয়েছে যে ঘটনার সময় ফেলানী নামের মেয়েটির পিতা তাঁর সঙ্গে ছিল এবং এরা প্রায় বছর দশেক আগে কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়েছিল।

বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিডিআরের কর্মকর্তারা বলছেন যে ঐ দু’জন সকাল ছয়টার দিকে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায়।

অনন্তপুর বিডিআর সীমান্ত ফাঁড়ীর নায়েক সুবেদার আবদুল জব্বার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন যে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেছেন মৃত অবস্থায় মেয়েটি কাঁটাতারের বেড়ার সঙ্গে ঝুলে রয়েছে।

তিনি বলেন, বিডিআর যখন এ ব্যাপারে প্রতিবাদলিপি লিখছিল, তখন বিএসএফ লোকজনের সহায়তায় মৃতদেহটি নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়না তদন্তের জন্যে নিয়ে যায়।

বিডিআর জানিয়েছে যে মেয়েটির মরদেহ ফেরত চেয়ে বিএসএফ’কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে যে সীমান্তে হত্যা বন্ধে দুই দেশের উচ্চ-পর্যায়ে অনেকবার আলোচনা হলেও পরিস্থিতির কোনই উন্নতি ঘটে নি।

বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান বলছেন যে মাঠ-পর্যায়ের নিয়ম-নীতি বা গ্রাউন্ড রুলস বিএসএফ বারবার ভঙ্গ করে চলছে।

তিনি বলেন, যখন এই ধরনের অনুপ্রবেশ হয়, তখন কোন অবস্থাতেই গুলি ছোড়ার কথা গ্রাউন্ড রুলসে লেখা নেই।

এর আগে হওয়া বিডিআর-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সীমান্তে গুলিবর্ষনের ঘটনা আর ঘটবে না।

জেনারেল আজিজুর রহমান বলেন, বছর খানেক আগে ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বলা হয়েছিল যে আর কোন গুলি হবে না। কিন্তু ঐদিনই গুলি হয়েছে, তারপরও হয়েছে, বারবার হয়েছে।

“দে আর ভেরী ট্রিগার হ্যাপি।“

কেবলমাত্র গত বছরেই ৭৪ জন বাংলাদেশী বেসামরিক নাগরিক বিএসএফ-এর হাতে নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক সংগঠন হিউমান রাইটস ওয়াচ মনে করেছে যে এসব হত্যাকাণ্ডের জন্যে দায়ী বিএসএফ সদস্যদের বিচার হওয়া উচিত।

জেনারেল আজিজুর রহমান এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন বলেন যে শুধু বিএসএফ নয়, বিডিআর-এর কেউ এমনটা করলেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

পৃথিবীর কোন আইন এধরনের হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না, একথা উল্লেখ করে বলেন, আমি যদি কাউকে হত্যা করতে চাই, তাহলে ঐ হত্যাকাণ্ড ঘটনোর আগে আপনি হয়তো গুলি করে আমাকে নিবৃত করতে পারেন।

“কিন্তু একটি বাচ্চা মেয়ে – কী অপরাধ তার হতে পারে যে তাকে গুলি করার প্রয়োজন হলো?”

জেনারেল আজিজুর রহমান মনে করেন যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ হয়তো গুলি করার বিষয়টি উৎসাহিত করে থাকে। তিনি বলেন, যদি এসব ঘটনার বিচার হতো, সেক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটানোর আগে বিএসএফ সদস্যরা দ্বিতীয়বার চিন্তা করতো।

বিডিআরের সাবেক এই মহাপরিচালক অনেকটা হতাশ কণ্ঠেই বলেন যে এত চেষ্টার পরও যখন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না, তখন কীভাবে এটা বন্ধ করা যায়, তা ঠিক তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।