পুঁজিবাজারে রেকর্ড দরপতন
- Author, ওয়ালিউর রহমান মিরাজ
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জ বা ডিএসই’তে রেকর্ড পরিমান দরপতন হয়েছে।
ডিএসই’র সাধারণ সূচক আজ ছয়শ’ পয়েন্ট বা পৌনে আট শতাংশ পড়েছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এটি একদিনে সূচকের সর্বোচ্চ পতন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপের পরও দরপতন বন্ধ হয় নি।

ৠাব-পুলিশের কড়া নিরাপত্তা থাকার কারণে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় বিক্ষোভ করতে পারেন নি, তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক দেখা গেছে।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক একচেঞ্জ বা ডিএসই’তে শেয়ারের লেনদেনের শুরুটা ভালো হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় দরপতন।
আগের সপ্তাহে বড় ধরনের দরপতনের পর সবার আশা ছিল যে বাজার ঘুরে দাড়াবে।
কিন্তু দরপতনের যে ধারা সকাল থেকে শুরু হয়, তা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ সময় পর্যন্ত।
ডিএসইর সূত্রগুলো বলছে যে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করেছেন।
আব্দুল হান্নান নামের একজন বিনিয়োগকারী এই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলছিলেন, এবছরের শুরু থেকেই শেয়ার বাজারের এ অবস্থা চলছে।
তিনি প্রশ্ন করেন, আর কতদিন মানুষ ধৈর্য ধরে থাকবে?
শেয়ার বাজারে সর্বোচ্চ পতন
ঢাকার শেয়ার বাজারে এর আগে সূচকের সর্বোচ্চ পতন হয়েছিল গত ১৯শে ডিসেম্বর, সেদিন সূচক পড়েছিল ৫৫১ পয়েন্ট।
তবে রোববার রেকর্ড ৬০০ পয়েন্ট পতনের পরও রাস্তায় বিক্ষোভ দেখা যায়নি, যেমনটা এর আগে দেখা গিয়েছিল।
এর কারণ ছিল মতিঝিল এলাকায় নেওয়া ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
লেনদেন শুরু হওয়ার আগে থেকেই সেখানে বিপুল পরিমান পুলিশ ও ৠাব মোতায়েন করা হয়।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন যে ৠাব-পুলিশের উপস্থিতিও তাদের আতঙ্কিত করে তোলে।
ঋণ সীমা তুলে দেওয়ার পরও পতন থামানো যায়নি
সকালে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন বা এসইসি বিনিয়োগকারীদের জন্যে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আগে আরোপ করা কড়াকড়ি তুলে নেওয়ার কথা ঘোষনা করে।
কিন্তু এরপরও দরপতন রোধ করা সম্ভব হয় নি।
কেন হয় নি, তা ব্যাখ্যা করে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানী এইমস বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াওয়ার সাঈদ বলছিলেন যে এমন একটি পড়তি বাজারে সাহস করে কেউ ঋণ নিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে সেটা আশা করা ঠিক না।
মি সাঈদ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান তারা যেন এই অবস্থায় ভয় পেয়ে ভালো শেয়ার বিক্রি না করেন।
এসইসি ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি শিথিল করার ফলে একজন বিনিয়োগকারী এখন যে কোন পরিমান টাকা ঋণ নিতে পারবেন, আগে এই সীমা ছিল দশ কোটি টাকা।
এছাড়া বিনিয়োগ হিসাব খোলার ১৫ দিনের মধ্যেই ঋণ নেওয়া যাবে।
শেয়ার বাজারে দরপতনের জন্যে বিনিয়োগকারীরা অনেকদিন ধরেই এসইসি’র ভূমিকার সমালোচনা করছেন।
দেখে-শুনে বিনিয়োগ করার পরামর্শ
তবে এসইসি’র চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার দেখে-শুনে বিনিয়োগ করার জন্যে পরামর্শ দেন।
মি খোন্দকার বলছিলেন, তাঁরা সব সময়ই চান বিনিয়োগকারীরা পরিনত আচরণ করবে।
এছাড়াও তিনি বিনিয়োগ করার আগে কোম্পানীর সার্বিক অবস্থা, ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসা দেখে নেওয়ার জন্যে পরামর্শ দেন।
শেয়ারের দরপতনে ঢাকায় বিক্ষোভ না হলেও বিক্ষোভ হয়েছে রাজশাহী এবং সিলেটে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ডিএসই’র বাইরে বিক্ষোভের ঘটনায় আটক ছয়জন বিনিয়োগকারীকে পুলিশ কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে।








