শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বন্ধের নির্দেশ
- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা
- Published
বাংলাদেশের হাইকোর্ট প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
দুটি মানবাধিকার সংগঠনের রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেয়।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদ্রাসাতে শিক্ষার্থীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া বন্ধে হাইকোর্টের রায়ে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে এ রায়ে।
এ রিট মামলার পক্ষের আইনজীবী ব্যারিষ্টার সারাহ হোসেন বিবিসিকে বলেছেন, তারা মনে করেন হাইকোর্টের এ নির্দেশনাগুলো নীতিমালা তৈরীর কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।
গত বছর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া অথবা নির্যাতনের ১৪টি অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছিল। যেখানে একটি মাধ্যমিক স্কুলের দশ বছরের এক শিশু আত্মহত্যা করেছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল।
এই ঘটনাগুলোকে উল্লেখ করেই গত বছরের জুলাই মাসে আইন ও শালিস কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট বা ব্লাস্ট রিট মামলাটি করেছিল।
সেসময় আদালতের অন্তবর্তীকালীন আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা-মন্ত্রনালয় একটি পরিপত্র জারি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাস্তি বন্ধে কিছু নির্দেশনা দিয়েছিল। এখন বিষয়টিতে হাইকোর্ট থেকে চুড়ান্ত রায় এলো।
ব্যারিষ্টার সারাহ হোসেন বলেছেন, কোন ঘটনা ঘটলে তার তদন্ত করা এবং শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও এসেছে হাইকোর্টের রায়ে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, কোন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে কঠোর শাস্তি দিলে সেটাকে অসদাচরণ হিসেবে ধরা হবে। আর এই অসদাচরণের জন্য চাকরীর বিধিমালায় ব্যবস্থা নেওয়ার যে বিধান রয়েছে, সেগুলো প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।
এছাড়াও হাইকোর্ট জাতীয় পর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের কথা বলেছে, যে কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা প্রবাহের উপর নজর রাখবে।
জাতীয় কমিটির আওতায় জেলা পর্যায়েও ডিসিদের নিয়ে কমিটি গঠনের কথা এসেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপর শাস্তি বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ইতিমধ্যেই একটি নীতিমালা তৈরী করেছে। কিন্তু সেটি এখনও সরকার অনুমোদন করেনি।
হাইকোর্ট ওই নীতিমালা দ্রুত অনুমোদন করে তা বাস্তবায়নের কথাও বলেছে।








