কুয়াশার কম্বলের নিচে বাংলাদেশ

- Author, আকবর হোসেন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশে গত কয়েকদিন ধরেই তীব্র শীতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ।
শুক্রবার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতে এখনও দেশের অনেক জায়গায় মানুষের স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যহত হচ্ছে ।
অন্যদিকে ঘন কুয়াশার কারনে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর মারাত্নক প্রভাব পড়েছে ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা কিছুটা কমলেও সেটি শনিবারেও থাকবে।
এরপর থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন সহকারী আবহাওয়াবিদ বেলাল উদ্দিন ।
শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল শ্রীমঙ্গলে ৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস । অনেক জায়গায় তাপমাত্রা এখনও ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও অনেক নিচে ।
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুর রহিম বলেন তীব্র শীতের কারনে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সেখানকার মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেনা ।

মি: রহিম বলেন , “প্রচন্ড ঠান্ডা। আজ তিনদিন ধরে আমরা সূর্য দেখছিনা । ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল-কলেজে যাচ্ছেনা ।”
তিনি বলেন একদিকে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে অন্যদিকে শিরশিরে বাতাস।
তীব্র শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারনে সড়ক , নৌ ও বিমান চলাচলের উপর মারাত্নক প্রভাব পড়েছে ।
দিনের অধিকাংশ সময় ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পথে যানবাহন চলছে।
অন্যদিকে কুয়াশার কারনে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান অবতরন বিলম্বিত হচ্ছে ।
এছাড়াও নৌপথে চলাচলের কারনে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ।
দেশের অন্যতম প্রধান ফেরীঘাট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় গত কয়েকদিন ধরেই প্রতিদিন আট থেকে দশ ঘন্টা যানবাহন পারাপার বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
ফলে নদীর উভয় পাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়েছে ।
আরিচা ঘাটে বিআইডব্লিউটিসি-র একজন কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কুমার সাহা বলেন , “কুয়াশার কারনে গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত তের ঘন্টা ফেরী চলাচল বন্ধ ছিল।”
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে শীতের প্রকোপ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কমলেও ঘন কুয়াশা থাকবে ।
তীব্র শীত মোকাবেলায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে দরিদ্রদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরন করা হচ্ছে ।
তবে চাহিদার তুলনায় সেটি খুবই কম বলে উল্লেখ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।








