দুর্নীতি দমন কমিশন আইন

acc
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
Published

বাংলাদেশে মন্ত্রিসভা দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশোধিত খসড়া অনুমোদন করেছে।

সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত বা মামলা করার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত থাকছে।

দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের সময়সীমা আগে ছিল ৯০ দিন।

এখন তা বৃদ্ধি করে ছয় মাস করার প্রস্তাব আনা হয়েছে।

একই সাথে এই সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে না পারলে দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষ আদালতের আশ্রয় নিলে অনেক সময়ই কমিশনকে পক্ষ করা হয় না।

এই বিষয়টিতে অর্থাৎ কমিশনকেও পক্ষ করার জন্য সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছে।

acc
ছবির ক্যাপশান, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০১০ এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রীসভা

দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল।

যেখানে সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোন অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রেই অনুমতি নেওয়ার বিষয় এসেছিল।

যা নিয়ে কমিশনও আপত্তি তুলেছিল।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই শর্ত কিছুটা শিথিল করা হলেও অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি রাখা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ জানিয়েছেন কোন সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে বা দুর্নীতি করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগ উঠলে, তাতে তদন্ত বা মামলা করার ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে হবে না।

তবে কোন সরকারী কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান না হলেও তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের কোন কাজ করার জন্য দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে, তখন তদন্ত বা মামলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনকে তাদের কর্মকান্ডের সব বিষয় নিয়মিত ভাবে রাষ্ট্রপতিকে জানানো হবে।

সরসরি জবাবদিহিতার এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক চলেছে।

সে সময় কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমানও বলেছিলেন তাঁদের ক্ষমতার খর্ব করা হচ্ছে।

কিন্তু এখন মন্ত্রিসভা আইনের যে সংশোধিত খসড়া অনুমোদন করেছে, তাতে ওই ধরনের কোন প্রস্তাব রাখা হয়নি বলে দাবী করেছেন আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ।

তিনি বলেছেন, অন্যান্য কমিশন যেমন রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের বার্ষিক রিপোর্ট তুলে ধরে দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিষয় এসেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের এই সংশোধিত খসড়া এখন পাশের জন্য সংসদের আসন্ন অধিবেশনে উত্থাপিত হতে পারে বলে সরকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।