লেবাননে হেযবোল্লাহ সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী

লেবাননে ইরান সমর্থিত শিয়া গোষ্ঠি হেযবোল্লার সমর্থনপুষ্ট রাজনীতিক নাজিব মিকাতিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেছেন প্রেসিডেন্ট মিশেল সুলেইমান৻
গতকাল (সোমবার) মি মিকাতি ১২৮ সদস্যের সংসদে ৬৫ জনের সমর্থন পেয়ে সরকার গঠনের ক্ষমতা অর্জন করেন৻ হেযবোল্লাহ তাকে সমর্থন করে৻
মিঃ মিকাতির বিরুদ্ধে সুন্নী অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চলীয় শহর ত্রিপোলীতে বিক্ষোভ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির সমর্থকরা৻
রাজধানী বৈরুতসহ আশেপাশের নানা জায়গা থেকে বাস, ট্রাক ভরে ভরে অনেকে এসেছেন এই বিক্ষোভে যোগ দিতে৻
সাদ হারিরির সমর্থকদের উদ্বেগ, লেবাননের সরকারে ইরান ও সিরিয়া সমর্থিত শিয়া গোষ্ঠি হেযবোল্লার নিয়ন্ত্রণ শক্ত হচ্ছে৻ যদিও নাজিব মিকাতি নিজে সুন্নী, যুক্তরাষ্ট্রে তার উচ্চশিক্ষা এবং অত্যন্ত্য ধনী একজন ব্যবসায়ী—তারপরও হেযবোল্লাহর সমর্থন পেয়েছেন তিনি৻

বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে নাজিব মিকাতি অবশ্য বলেছেন হেযবোল্লাহ তাকে সমর্থন করেছে, কিন্তু তার সাথে হেযবোল্লার কোনোই বোঝাপড়া নেই৻
`আমি প্রতিদ্বন্দিতা করেছি, সুতরাং জিততে আমার ভোট দরকার৻ হেযবোল্লার ভোটও আমার প্রয়োজন ছিল৻ কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমার সাথে হেযবোল্লার সম্পর্ক রয়েছে৻‘
নাজিব মিকাতির কথা, `সবাই জানে আমি একজন উদারপন্থি রাজনীতিক৻ আমার একমাত্র স্বার্থ লেবাননের কল্যাণ৻‘
তিনি বলেন তিনি আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান৻
লেবাননেরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরির হত্যাকান্ডের যে আর্ন্তজাতিক তদন্ত চলছে তা নিয়ে বিতর্কে গত ১২ জানুয়ারী লেবাননের জাতীয় ঐক্যের সরকারের পতন হয়৻ হেযবোল্লাকে দোষি সাব্যস্ত করা হতে পারে এবং সাদ হারিরির সরকার তাতে সমর্থন দিতে পারে এই ধারণায় হেযবোল্লাহ সরকার থেকে সমর্থন তুলে নিলে সরকারের পতন হয়৻
রফিক হারিরির বিচারের ট্রাইবুনাল সম্পর্কে তার কি অবস্থান, এ প্রশ্নে নাজিব মিকাতি বলেন এই ট্রাইবুনাল এখন বাস্তবতা, এ ব্যাপারে তার কিছু বলার বা করার নেই৻
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ অনেক পশ্চিমা দেশ হেযবোল্লাহকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠি হিসেবে বিবেচনা করে৻ হেযবোল্লার সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী সংসদে জেতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র৻
ইসরায়েলের উপপ্রধানমন্ত্রী সিলভান শালোম মন্তব্য করেছেন, লেবাননে এখন ইরানের কর্তৃত্ব স্থাপিত হবে৻ তবে এসব উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন লেবাননের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী৻নাজিব মিকাতি বিবিসিকে বলেন, লেবাননের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা নেই৻
তিনি বলেন চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি মন্ত্রীসভা গঠনের জন্য বিভিন্ন পক্ষের সাথে বসবেন৻ তার মন্তব্য ছিলো, মন্ত্রীসভার চেহারা দিয়েই তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বার্তা দিতে চান তিনি বা তা সরকার কেমন হবে৻








