মিশরে আলোচনা শুরু

Published

মিশরে প্রায় দুই সপ্তাহের সরকার বিরোধী আন্দোলনের পর, দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সোলেইমান,

tahrir
ছবির ক্যাপশান, কায়রোর তাহরীর স্কয়ারে রোববারের জমায়েত

বিরোধী পক্ষগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করেছেন।

তবে মিশরে রাজনৈতিক এ অচলাবস্থা নিরসনে এ আলোচনা চলা সত্ত্বেও কায়রোর বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীরা সরছেন না।

রবিবারের আলোচনায় সরকার পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা বলছেন সেগুলো যথেষ্ট নয়।

গত প্রায় দুই সপ্তাহ জুড়ে এসব জায়গায় যেসব বিক্ষোভকারীরা রয়েছেন তাদের এখন একটাই দাবী-প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ।

প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে গণবিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর, নানা অনিশ্চয়তা ও সংশয়ের মধ্যে রবিবার এই সংলাপ শুরু হয়েছে৻

মিশরে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন মুখপাত্র বলেছেন, কর্তৃপক্ষের তরফে তাদের কিছু দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার প্রেক্ষিতে তারা এই আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন৻

মি: সোলেইমানের সাথে আলোচনায় মুসলিম ব্রাদারহুড ছাড়াও অংশ নিচ্ছে ওয়াফদ এবং তাগাম্মুল দল দুটো সহ অন্য বিরোধীরা৻

তরুণ আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরাও ওই আলোচনায় উপস্থিত আছেন৻

আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধী ব্যাক্তিত্ব মোহাম্মদ আল বারেদাই এবং কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি যারা সংকট সমাধানের চেষ্টায় মধ্যস্থতা করছেন৻

ক্ষমতা হস্তান্তর

মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রোববারই বলা হয়, ঐ আলোচনায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচকরা একমত হয়েছেন।

বৈঠকে যারা অংশ নেন তারা জানিয়েছেন মি: সোলেইমান দুটো কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেন -- এর একটি সংবিধান পর্যালোচনা করার জন্য আর অন্যটি বিভিন্ন পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য৻

এর জবাবে বিরোধীরা আস্থা বাড়ানোর জন্য এখনই কিছু পদক্ষেপ নিতে বলে৻ এর মধ্যে রয়েছে জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার৻

মুসলিম ব্রাদারহুডের উপ-প্রধান রাশাদ মোহাম্মদ আল বাইউমি বলেছেন তাদের কিছু সুনির্দিষ্ট দাবী রয়েছে৻ আর যদি সেগুলো মানা হয় বা তারা যদি মনে করেন যে সেগুলো মানার ক্ষেত্রে সত্যি সত্যি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তবেই আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে৻

তিনি বলেন এসব দাবী হচ্ছে: ক্ষমতাসীনদের অপসারণ, আর এর শুরু হতে হবে মি: মোবারককে দিয়ে; ৩০ বছর ধরে চলা

জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করতে হবে: সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে েএবং সব রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিতে হবে৻

মিশরে বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলছেন বৈঠকে অংশ নেয়া বিরোধী প্রতিনিধিরা তাকে বলেছেন তাদের মনে হয়

সংকট সমাধানের জন্য এটা গুরুতর পদক্ষেপ ছিল বলে মনে হয় না৻

নাজুক অর্থনীতি

এদিকে মিশরে এক সপ্তাহের বেশি সময় পর রবিবার ব্যাংকগুলো খোলে।

এ ক'দিনের অচলাবস্থার কারনে দেশটির অর্থনীতি নাজুক অবস্থায় গিয়ে পৌছেছে।

এখন সেখানে সরকার দ্রুত স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে চায়।

এর আগে শনিবার দেশটির বানিজ্য মন্ত্রী জানিয়েছেন বিক্ষোভের কারনে গত জানুয়ারী মাসে তাদের রফতানি ছয় শতাংশের মতো কমেছে।