বাংলাদেশে শেয়ার বাজারে দরপতন অব্যাহত

Published

বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে দরপতন অব্যাহত আছে।

ঢাকার পুঁজিবাজারে আজ (বুধবার) দিনশেষে লেনদেনের সূচক ১৪৯ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট কমে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করেন এবং পুঁজিবাজারে অস্থিরতা নিরসনে, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

share
ছবির ক্যাপশান, সূচক পতনের কারনে এ সপ্তাহে টানা তিন দিন বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করলেন। (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশের পুঁজি-বাজারে সাধারণ সূচকের পতনে আজ নিয়ে টানা চার দিন স্টক এক্সচেঞ্জ এলাকায় বিক্ষোভ চলছে৻

সূচকের উত্থান, পতন, বিক্ষোভ এবং শেষে আবার সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে ঢাকার শেয়ার বাজারে মঙ্গলবারের লেনদেন শেষ হয়।

মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ডিএসইর সাধারণ সূচক বাড়লেও কয়েক মিনিট পরেই এর নিম্নমুখী যাত্রা শুরু হয়।

দুপুর বারোটা নাগাদ শুরু হয়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ।

বিনিয়োগকারীদের একজন শাহ নেওয়াজ জুয়েল বলছিলেন, বাজারে বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছে। যাদের ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ ছিল তাদের অনেকেরই সেই টাকা এখন ৭০-৮০হাজার টাকা হয়ে গিয়েছে।

তিনি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে এখানে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন এরা এখানে বন্ধুর মতো আচরণ না করলে এদের চিরতরে বিতাড়িত করা উচিত।

এ সপ্তাহেই বাজার স্থিতিশীল হবে-অর্থমন্ত্রী

এদিকে মতিঝিলে যখন বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে তখন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সচিবালয়ে আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করার জন্যও বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেন।

মি মুহিত বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেন এই বলে যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কিনতে বলা হয়েছে।

তিনি বলছিলে, তারা দেখছেন ওই সব প্রতিষ্ঠান শেয়ার বাজারে আছে কি না সেটি তারা খেয়াল রাখছেন।

তিনি আরও জানান যে তিনি মনে করেন এ সপ্তাহের শেষের দিকে বাংলাদেশের পুঁজি-বাজার স্থিতিশীল হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

পুঁজি বাজারে অস্থিরতা

এদিকে অর্থমন্ত্রী যখন এসব কথা বলছেন, তখন ঢাকার শেয়ার বাজারে একবার দর উঠছে পরক্ষনেই দর পড়ছে।

সূচকের উত্থান, পতন, বিক্ষোভ এবং শেষে আবার সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ঢাকার শেয়ার বাজারের মঙ্গলবারের লেনদেন।

তবে একেবারে শেষ ঘণ্টায় চমক দেখায় ঢাকার শেয়ার বাজার।

দিন শেষে সূচক বাড়ে প্রায় ৪২৮ পয়েন্ট বা প্রায় ৬.৭ শতাংশ।

বিনিয়োগকারীরা এতে অবাক হয়েছেন।

তারা বলছেন, এ ধরনের 'খেলা' বন্ধ করে বাজারকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসা উচিত।

পুঁজি-বাজার সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এমস বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ইয়াওয়ার সাইদ মনে করেন পুঁজি বাজারে মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে হয়তো বিনিয়োগকারীরা হয়তো কিছুটা হতাশা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন।

তিনি মনে করেন আশংকার মাত্রা হয়তো কিছুটা কমেছে তরে এটি কতটা টেকসই হবে সেটি কয়েকদিন না গেলে বোঝা যাবে না।

তবে এমন নাটকীয় পরিস্থিতিতেও শেয়ার বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল কম।