মহাস্থানগড় বিষয়ে মামলার নির্দেশ

mohastan_archaeology
ছবির ক্যাপশান, মহাস্থানগড়ের একাংশ, এগুলো প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার নিদর্শন।
Published

মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নষ্ট করেছে যারা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষার জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটি জানাতে সোমবার বগুড়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং মহাস্থানগড় মাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আদালতে সশরীরে হাজির হন।

গত বৃহস্পতিবার আদালতের এক আদেশে তাদের হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছিল।

জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার আদালতকে জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে মহাস্থানগড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

একই সাথে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ির সাথে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুরাকীর্তি সংরক্ষন আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলেও তাঁরা আদালতকে জানান।

তবে আদালত এসময় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনে মামলা করার নির্দেশ দেয়।

এসময় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারকে আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা দেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ওই রিট আবেদনের আইনজীবী মনজিল মোর্শেদ বিবিসিকে জানান, আদালতে তাঁরা যুক্তি দেখান, যেহেতু খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মাজার কমিটির পক্ষে ওই কাজ করা হচ্ছিল, সেহেতু মাজার কমিটির ইন্ধন সেখানে রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।

এরপর মাজার উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যানকে আগামীকাল মঙ্গলবারও আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয় আদালত।

মঙ্গলবার আদালত বলেছে, এর পর এসব পুরাকীর্তি নষ্ট করার ঘটনা ঘটলে ঘটনার সাথে জড়িতদের সাথে সাথেই যেন গ্রেফতার করা হয়।

এক্ষেত্রে ক্ষমতাধর কারো প্রতি নমনীয় না হওয়ার জন্যও বলে আদালত।

এর আগে বৃহস্পতিবার মহাস্থানগড় রক্ষায় পুলিশ এবং প্রয়োজনে র‍্যাব মোতায়েনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদালতের পক্ষ থেকে আদেশ দেয়া হয়।

এছাড়া বৃহস্পতিবারই, পুরাকীর্তি রক্ষায় মহাস্থানগড়ের মাজারের যেখানে মসজিদ রয়েছে সেই মসজিদ আরো ভালো কোন জায়গায় সরানো যায় কি না সে বিষয়েও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মতামত চায় আদালত।

যেটি ওই দিন থেকে ১০ দিনের মধ্যে পেশ করার জন্য বলা হয়।

'মহাস্থানে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে মাজার এলাকায় খোঁড়াখুড়ি চলছে', বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে এ ধরনের খবর প্রচার হয়।

সেই খবরের প্রেক্ষিতে আদালত বৃহস্পতিবার ওই সব নির্দেশ দিয়েছিল।

এর আগেও সেখানকার প্রত্নসম্পদ রক্ষায় করনী ঠিক করতে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছিল।

পরিবেশবাদী একটি সংগঠনের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত গতবছর ডিসেম্বর মাসে ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় মহাস্থানগড় এবং এর আশেপাশে সব ধরনের নির্মান কাজ বন্ধের জন্য আদেশ দিয়েছিল।

এর পরও সেখানে দুই দফা খোঁড়াখুঁড়ির ঘটনা ঘটে।

মহাস্থান গড় প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলেন যে এটি প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো ঐতিহাসিক নিদর্শন, যেটি পৃথিবীর অনেক পুরনো সভ্যতার চাইতেও প্রাচীন।

প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের দিক থেকে মহাস্থান গড়ের মাজার এলাকাকেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারনা করা হয়।

মহাস্থান এবং এর আশে পাশের এলাকাগুলোতে প্রচুর সংরক্ষিত পুরাকীর্তি রয়েছে।

সেখানে ছোট ট্যাংরার ধাপ নামে এমন একটি এলাকা ছিল, যা ১৯৯০ এর দশকের প্রথম দিকেই মাটি কেটে, ইট সরিয়ে একেবারেই নষ্ট করে ফেলেছে স্থানীয়রা।

এছাড়াও মহাস্থানে প্রাচীর বেষ্টিত যে জায়গা রয়েছে তার ভেতরে সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদ করা হয়ে থাকে।

একেবারে সাম্প্রতিক সময়ে নিতাই ধোপানীর ঘাট বলে পরিচিত একটি নিদর্শন এলাকা ধ্বংসের শুরুতেই আদালতের নির্দেশনা আসে।

এর কারণে সেটি রক্ষা পেল বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাজার এলাকায় মসজিদ সম্প্রসারণের কাজের চেষ্টাতেও বেশ কিছু প্রত্ন নিদর্শন ধ্বংস হয়েছে।