শিক্ষিকাকে কুপিয়ে হত্যা

    • Author, রাসেল মাহমুদ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাবনা জেলায় এক স্কুল শিক্ষিকাকে ছাত্র-ছাত্রীর সামনেই কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।

নিহত আরিফা বেগম সেখানে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন।

pabna_map
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের পাবনায় শিক্ষার্থীদের সামনেই শিক্ষিকাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা।

পুলিশ জানিয়েছে আরিফা বেগমের আততায়ী স্কুলে ঢুকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

রবিবার দুপুরে পাবনার আতাইকুলা উপজেলার ওই স্কুল শিক্ষিকা যখন আততায়ীর আঘাতে জর্জরিত হচ্ছিলেন, তখন স্কুলের শিশুদের চিৎকারে বেরিয়ে আসেন প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম।

ওই সময় ভায়নাপাড়া সরকারী ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি এবং ওই শিক্ষিকা ছাড়া বড় কেউ ছিলেন না।

মি ইসলাম জানিয়েছেন, স্কুলের প্রথম শিফটের ক্লাস শেষে ২য় শিফট শুরুর আগে একটি শ্রেণী কক্ষে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন আরিফা বেগম।

তিনি গিয়ে আরিফা বেগমকে পড়ে থাকতে দেখেন।

সেসময় ভয়ে শিশুরা চারদিকে ছুটোছুটি করছিল।

পরে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে তারা সবাই মিলে আহত আরিফা বেগমকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই আরিফা বেগমের মৃত্যু ঘটে।

আরিফা বেগম ২০০৭ সালে ওই স্কুলে কাজ শুরু করেন।

এদিকে ঘটনার কিছু সময় পর সেখানে পৌঁছান পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর।

তিনি বলছিলেন পরিস্থিতি দেখে তাঁর মনে হয়েছে প্রাণে বাঁচতে ওই শিক্ষিকা অনেকটাই চেষ্টা করেছেন।

তাঁকে মারার পর ওই ঘাতক পালিয়ে যেতেও সক্ষম হয়।

মি মাতুব্বর আরও জানান শিক্ষিকাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যাকারী একটি চাপাতি নিয়ে আগে থেকে অপেক্ষা করে থাকা একটি করিমনে উঠে পালিয়ে যায়।

ভায়নাপাড়া সরকারী ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়িতে থাকতেন আরিফা বেগম।

স্কুলের কোমল মতি শিশুদের সামনে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড শিশুদের মনে প্রভাব ফেলবে কথা কথায় সেটাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা এতোটাই ভীত হয়ে পড়েছিল যে সাহায্য করার জন্য কাছে আসতেও ভয় পাচ্ছিল তারা।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খুনির চেহারার বর্ণনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং একই সাথে যে যন্ত্রচালিত ভ্যানে করে খুনি পালিয়েছে তার চালকে তারা আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

এ বিষয়ে যথাযথ প্রস্তুতি শেষে থানায় মামলা দায়ের করার কথাও জানান তিনি।