ফতোয়া নিয়ে আপিল

    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published
  • পড়ার সময়: ২ মিনিট

বাংলাদেশ ২০০১ সালে সব ধরনের ফতোয়া অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল তার বিরুদ্ধে নিয়মিত আপীলের শুনানি মঙ্গলবার প্রায় দশ বছর পরে শুরু হয়েছে।

high_court
ছবির ক্যাপশান, ২০০১ সালে বাংলাদেশে সব ধরনের ফতোয়া অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল।

আজ আদালতে ফতোয়ার পক্ষে বিপক্ষে আইনজীবীরা তাদের সূচনা বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

এ আপীলের শুনানি এমন এক সময়ে শুরু হল যখন সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কয়েকটি জায়গায় ফতোয়ার মাধ্যমে শাস্তি দেবার অভিযোগ ওঠে।

ফতোয়া অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের পর তার বিরুদ্ধে আপীল করেন ঢাকার লালবাগের একজন মাদ্রাসা শিক্ষক মুফতি তৈয়ব।

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর মঙ্গলবার এর শুনানি শুরু হল।

আপীল কারীর বক্তব্য হচ্ছে, ফতোয়া অবৈধ হতে পারে না।

কোন যুক্তিতে তাঁরা এটি বলছেন তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মি তৈয়বের আইনজীবী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফতোয়া ইসলামী জীবন বিধানের একটি বৈধ পন্থা।

তিনি আরও বলেন, ফতোয়া দেওয়া এক জিনিস আর ফতোয়ার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া আরেক জিনিস। এ দু'টি বিষয়কে আলাদা করে দেখলে আর সমস্যা হয় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০০০ সালে ফতোয়ার প্রেক্ষিতে একটি হিল্লা বিয়ের ঘটনা নজরে এনে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। এরপর আদালত সব ধরনের ফতোয়াকে অবৈধ বলে রায় দেয়।

তার পর পরই এর বিরুদ্ধে যখন আপীল করা হয় তখন ফতোয়ার বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্রও সে আপীলে নিজেদের পক্ষভুক্ত করে।

সংস্থাটির আইনজীবী ড. কামাল হোসেন মঙ্গলবার আদালতে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

ড. হোসেন আদালতে বলেন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কোন বিষয় দেশে থাকতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি বলে যে তাঁর ক্ষমতা আছে তখন তাকে দেখাতে হবে এর উৎস সংবিধানের মধ্যেই রয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে যে ধরনের ফতোয়া দেয়া হচ্ছে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য সংবিধানের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে বলেও তিনি মত দেন।

ড হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে বলা আছে বিচার করার এখতিয়ার আদালতের, এছাড়া পুলিশকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে অভিযোগ আনা এবং তদন্ত করার।

ফতোয়ার এই মামলায় রাষ্ট্রও পক্ষভুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় আইনের ঊর্ধ্বে অন্য ধরনের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার কারো নেই, কোথাও অপরাধ হয়ে থাকলে তার বিচার রাষ্ট্র করবে।

তিনি আরও জানান, ধর্মীয় ব্যাপারে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ধর্মীয় বিষয় নিয়েই তাদের মতামত দিতে পারেন, যেমন রোজা কখন ভঙ্গ হবে বা নামাজ কোন সময় সংক্ষিপ্ত করা যায় ইত্যাদি বিষয়, কিন্তু রাষ্ট্রীয় আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে ফতোয়ার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া সেটি রাষ্ট্র মানতে পারে না।

এদিকে এই আপীল শুনানির সময় আদালত ১০ জন আইনজীবীকে এমিকাস কিউরী বা আদালতের বন্ধু আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত করেছে।

চূড়ান্ত রায় দেওয়ার সময় এমিকাস কিউরীদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।