অপরাধ তদন্ত করবে আইসিসি

Luis Moreno Ocampo
ছবির ক্যাপশান, নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন আদালতের প্রধান কৌঁশুলি লুই মোরেনো ওকাম্পো
Published

লিবিয়ার নেতা কর্নেল গাদ্দাফি এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি৻

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁশুলি লুই মোরেনো ওকাম্পো তদন্ত শুরুর কথা জানিয়ে বলেছেন লিবিয়ায় সংঘটিত ঘটনার জন্য কারা দায়ী তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা হবে৻

তিনি এই অপরাধের জন্য দায়ী করে দেশটির প্রেসিডেন্ট কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি, তাঁর ছেলে এবং প্রধান ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীসহ বেশ কয়েকজনের নামের একটি তালিকাও পড়ে শোনান৻

এদিকে, কর্নেল গাদ্দাফির রণকৌশল, বিদ্রোহকে নিস্তেজ করে দেবার ক্ষেত্রে কিছুটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে বিবিসির সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন৻ অন্তত রাজধানী ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ এখনও কর্নেল গাদ্দাফি অনুগত সৈন্যদের হাতে রয়েছে বলে ত্রিপোলি থেকে বিবিসি সংবাদদাতা জেরেমি বোওয়েন জানাচ্ছেন৻

দেশের জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকেরই বাস ত্রিপোলিতে৻ সেখানে কর্নেল গাদ্দাফির নিরাপত্তা বাহিনী এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে বিদ্রোহীরা রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সাহস পাচ্ছে না এবং ফলে গণঅভ্যুত্থান রাজধানীতে সেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারছে না বলে সংবাদদাতা জানাচ্ছেন৻

তবে দেশের পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের অভ্যুত্থান দমানোর লড়াইয়ে এখনও তেমন সুবিধা করতে পারছে না কর্নেল গাদ্দাফির সেনা বাহিনী৻ পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ বন্দরনগরী ব্রেগার ওপর বিমানবাহিনীর জঙ্গী বিমান বৃহস্পতিবার আবার নতুন করে হামলা চালালেও বিরোধী পক্ষ দাবি করছে শহরের নিয়ন্ত্রণ এখনও তাদের হাতেই৻

গাড়ির হর্ন বাজিয়ে, বন্দুক থেকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে শহরের পথে তাদের বিজয়োল্লাস করতে দেখা যাচ্ছে৻ বিদ্রোহী খামিস যোয়াই বলছেন কর্নেল গাদ্দাফির সেখান থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া উচিত৻

‘আমরা চাই গাদ্দাফির অনুগত সৈন্যরা রক্তপাত বন্ধ করুক৻ আমরা মুসলমান, আমরা শান্তি চাই৻ গাদ্দাফি ভাড়াটে সৈন্য এনে নিজের দেশের মানুষকে মারছে৻ উনি এসব বন্ধ না করলে – ইনশাল্লা- আমরাও এর প্রতিশোধ নেব৻` বলছেন ব্রেগার বিদ্রোহী খামিস যোয়াই৻

তবে কর্নেল গাদ্দাফির সমর্থকরা বলছেন ব্রেগার নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে- এখবর সংবাদমাধ্যমের প্রচারণা৻ সরকারই গোটা দেশ নিয়ন্ত্রণ করছে৻ তারা বলছেন ত্রিপোলিতে সবকিছুই স্বাভাবিক- মানুষ কাজে যাচ্ছে, শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে৻

Bangladeshi workers in Libya border
ছবির ক্যাপশান, লিবিয়া তিউনিসিয়া সীমান্তে ভীড় করেছেন কয়েক হাজার বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিক

কিন্তু লিবিয়া থেকে মানুষের পালানো অব্যাহত রয়েছে৻ গত সপ্তাহখানেকের মধ্যে লিবিয়ার পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ৯০ হাজারের ওপর লোক তিউনিসিয়ায় ঢুকেছে৻ এদের মধ্যে কয়েক হাজার মিশর থেকে যাওয়া অভিবাসী শ্রমিক৻

এদের অনেকেই এখনও সীমান্ত এলাকায় আটকে রয়েছেন৻ সেখানকার শিবিরগুলোতে পরিস্থিতি দুবির্ষহ বলে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা৻

সেখানে ৫ হাজারের ওপর বাংলাদেশী আটকে রয়েছেন বলে সীমান্ত এলাকা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জিম মিউর জানাচ্ছেন৻ এই বাংলাদেশীদের একজন আসাদ বিবিসিকে বলেছেন,

‘আমি ৫ দিন ধরে এখানে বসে রয়েছি৻ বাংলাদেশ সরকার আমাদের জন্য কিছু করছে না৻ বাংলাদেশ সরকারের সাহায্য ছাড়া আমাদের এখান থেকে বেরন খুবই কঠিন৻`

ইতিমধ্যে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌশুলি লুই মোরেনো ওকাম্পো নিশ্চিত করেছেন লিবিয়ার বর্তমান অসন্তোষের সময় কর্নেল গাদ্দাফির সরকার এবং বিদ্রোহী দুতরফেই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কীনা তা তারা তদন্ত করে দেখবেন৻

‘বিরোধী কিছু দলও অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে৻ আমরা সব তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত চালাব৻ বিরোধী দলগুলো অপরাধ করলে তারাও পার পাবে না- আমরা নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে চাই৻‘ বলেছেন লুই মোরেনো ওকাম্পো৻

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিমধ্যেই কর্নেল গাদ্দাফির বিরুদ্ধে নানাধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৻ তাঁর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে৻ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং এখন আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চালানোর ঘোষণাও এসেছে৻

কিন্তু এসবের মধ্যেও লিবিয়ার গণঅভ্যুত্থান কোন্‌ দিকে মোড় নেয় সেটা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলেই সংবাদদাতারা বলছেন৻