লিবিয়ায় আবার বিমান হামলা

Lib
ছবির ক্যাপশান, লিবিয়ায় অন্তত ২০টি বিমান বিধ্বংসী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
Published

লিবিয়া নতুন করে আবারো বিমান হামলা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলছেন, কর্নেল গাদ্দাফির অনুগত সৈন্য এবং বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত বেশ কিছু বিমান বিধ্বংসী স্থাপনার বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ অভিযানে তারা অন্তত ১৮ টি বিমান ব্যবহার করছেন।

এসব বিমানের ভেতরে রেডার ফাঁকি দিতে পারে এমন স্টেলথ বিমানও রয়েছে।

এদিকে লিবিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর বিমান হামলার প্রেক্ষিতে দেশটির নেতা কর্নেল গাদ্দাফি একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ঘোষনা দিয়েছেন।

সেদেশে বিদ্রোহীদের দখল করা এলাকাগুলোতে সরকারী বাহিনীর বিপক্ষে পশ্চিমা বিমান হামলার পর তিনি এ ঘোষণা দিলেন।

এদিকে শনিবারের বিমান হামলার একদিন পর পশ্চিমা সেনা কর্মকর্তারা আক্রমণের বিস্তারিত জানানো শুরু করেছেন।

একজন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন হামলায় তারা রেডার ফাঁকি দিতে পারে এমন অত্যাধুনিক বি-টু বিমান ব্যবহার করেছেন।

missile_atack
ছবির ক্যাপশান, লিবিয়ায় রাতে হামলার দৃশ্য

যেগুলো থেকে লিবিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় অন্তত চল্লিশটি বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

এছাড়াও মার্কিন এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনী লিবিয়ার বিমান হামলা প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।

হামলায় ফরাসী এবং ব্রিটিশ বিমানও ব্যবহার করা হয়।

শনিবারের ওই হামলাকে উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা কার্যকর করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলছেন, সেদেশ এবং যুক্তরাজ্যের বিমানগুলো আক্রমণের জন্য ১১০টির বেশি মিসাইল ব্যবহার করেছে।

এদিকে আক্রমণের উত্তরে কর্নেল গাদ্দাফি লিবিয়া রক্ষায় জনসাধারণের জন্য অস্ত্র-গুদাম উন্মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিভিশনে পশ্চিমা হামলার ছবি প্রচার করা হয়েছে।

তাতে দাবী করা হয়েছে ওই হামলায় অন্তত ৪৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেড়শ জনের মতো আহত হয়েছে।

তবে এসব ক্ষয়ক্ষতি নিরপেক্ষ কোন সূত্র নিশ্চিত করতে পারেনি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হচ্ছে হামলা ঠেকাতে কর্ণেল গাদ্দাফির শত শত অনুগত ওই হামলার সময় বাব আল-আজিজিয়া প্রাসাদ এবং বিমানবন্দর এলাকায় সমবেত হয়েছিলেন।

লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলছে বিমান হামলা ঠেকাতে মানব ঢাল হিসেবে তারা সেখানে গিয়েছিলেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে ওই প্রাসাদ এলাকার আশে পাশেও বোমা-হামলা চালানো হয়েছে।

ওই একই এলাকায় ১৯৮৬ সালেও মার্কিন বিমান হামলা চালিয়েছিল।

রবিবার সকালেও, ত্রিপলির আকাশে বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন শোনা গেছে।

ত্রিপলি থেকে বিভিন্ন সূত্র বিবিসির আরবি বিভাগকে জানিয়েছেন, ত্রিপলির পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা গুলোতেই মূলত হামলা চালানো হয়েছে।

ধারনা করা হচ্ছে ওইসব এলাকায় বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা রয়েছে।

এছাড়াও সেখানে বিমানবন্দর যাওয়ার রাস্তাও ছিল পশ্চিমা আক্রমণের লক্ষ্য।

লিবিয়ার সেনাবাহিনী বেনগাজিতে বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় আক্রমণ চালানোর পর পরই পশ্চিমা বিমানবাহিনী শনিবার থেকে আক্রমণ শুরু করে।

কর্নেল গাদ্দাফি অভিযোগ করেছেন বিদ্রোহীরা অস্ত্র-বিরতীর চুক্তি লঙ্ঘন করেছিল।