ইউনুস প্রশ্নে আপোষের সুর

অধ্যাপক ইউনুস
ছবির ক্যাপশান, অধ্যাপক ইউনুস
    • Author, ওয়ালিউর রহমান মিরাজ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের অপসারনের বিষয়টি নিয়ে যে সমস্যা তৈরী হয়েছে, সরকার তার একটি সম্মানজনক সমাধানের পথ এখনো খুঁজছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ করে অর্থ মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মিঃ মুহিত এ মন্তব্য করেন।

তবে এক্ষেত্রে অধ্যাপক ইউনুসকে এগিয়ে আসতে হবে বলেও অর্থমন্ত্রী শর্ত দিয়েছেন।

মঙ্গলবার মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক বলেন যে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অধ্যাপক ইউনুসকে অপসারনের ইস্যুতে যদি গ্রহনযোগ্য কোন সমাধান না হয় তাহলে সেটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে।

এর একদিন পরে এবিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া গেল।

অধ্যাপক ইউনুসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অপসারণ প্রসঙ্গে মিঃ ব্লেক বেশ কঠোর মন্তব্য করেন তাঁর বাংলাদেশ সফরের শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে।

ঐ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিষয়টিতে সন্তোষজনক একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সম্ভব এবং এক্ষেত্রে কোন সমাধান না হলে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে।

একজন ব্যক্তির পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে, বিষয়টিকে অনেকেই এভাবে দেখছেন।

কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, মার্কিনীরা বিষয়টিকে ঠিক সেভাবে দেখছে না এবং তাঁরা এটিকে ব্যক্তিগত বিষয় বলেও মনে করে না।

অধ্যাপক ইউনুসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের পদক্ষেপ নেওয়ার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টি বলেছিলেন যে তাঁরা এতে বিচলিত বোধ করছেন।

ঠিক একই রকম কথা বলেছেন মিঃ ব্লেক।

এই বিষয়টিকেও অনেকে দেখছেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে।

রাজনৈতিক ভাষ্যকার ডঃ মিজানুর রহমান শেলী অবশ্য বলছেন যে বিশ্বায়নের যুগে এখন অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সংজ্ঞাই অনেকটা বদলে গেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এখন বলা হচ্ছে যে শুরু থেকেই অধ্যাপক ইউনূসের বিষয়ে একটি সম্মানজনক সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছিল এবং এখনও সরকার সেই সুযোগ খুঁজছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সমঝোতার প্রস্তাব সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল, একথা উল্লেখ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে এটি এখনও বহাল রয়েছে৻

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন শিক্ষক, তিনি মনে করেন যে খুব সহজেই দুই পক্ষ একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে সমঝোতা করার জন্যে সরকার প্রস্তুত, তবে এক্ষেত্রে ডঃ ইউনূসকেই এগিয়ে আসতে হবে।