দ্রুতগতিতে এগুচ্ছে বিদ্রোহীরা

লিবিয়ায় উল্লসিত বিদ্রোহীরা৻
ছবির ক্যাপশান, লিবিয়ায় উল্লসিত বিদ্রোহীরা৻
Published

লিবিয়া থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে পশ্চিমা কয়েকটি দেশের অব্যাহত বোমা হামলায় প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন শহর থেকে সরকারী সৈন্যরা পিছু হটছে, এবং বিদ্রোহীরা দ্রুত পশ্চিমের দিকে এগুচ্ছে৻

বিদ্রোহীরা দাবী করেছে, আজই তারা তেল সমৃদ্ধ শহর রাস লানুফ আবার দখল করেছে৻

এক বিদ্রোহী কমান্ডার বলেছেন তার বাহিনী এখন রাস লানুফে লিবিয়ার নেতা কর্নেল মোয়াম্মার গাদ্দাফির সমর্থক যোদ্ধাদের খুঁজে বের করছে৻

বিন জওয়াদ শহরও এখন বিদ্রোহীদের হাতে৻

রাস লানুফের আগে আজদাবিয়া, ব্রেগা এবং উকায়লা শহর তিনটিরও পতন ঘটে৻

তেল রফতানি

বিদ্রোহীরা দাবী করছে তারা এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তেল রফতানি করা শুরু করতে পারবে৻

আজদাবিয়াতে আন্তর্জাতিক বাহিনীর বিমান হামলার জেরে কর্নেল গদ্দাফির সেনারা শহরছাড়া হওয়ার পর বিদ্রোহীরা আবার সেই জায়গাটির দখল হাতে তুলে নিয়েছে৻

আজদাবিয়া পুনর্দখল করতে সক্ষম হওয়ার পর বিদ্রোহীরা বিরাট উল্লাসে মেতে ওঠেন – রাজপথে নেমে এসে তারা সজোরে গাড়ির হর্ন বাজাতে থাকেন, আকাশের দিকে লক্ষ্য করে বন্দুক চালাতে থাকেন৻

এর আগে রাতভর আন্তর্জাতিক বাহিনীর বিমানবহর আজদাবিয়াতে কর্নেল গদ্দাফির অনুগত সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে এই পুনর্দখলের পথ প্রশস্ত করে দেয়, তারপর শনিবার সকালে বেশ অনায়াসেই বিদ্রোহীরা আবার এই গুরুত্বপূর্ণ শহরটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান৻

উল্লসিত বিদ্রোহীরা বলতে থাকেন, আজদাবিয়া আবার মুক্ত হয়েছে – এবং লিবিয়ার পশ্চিমদিকে তাদের জয়যাত্রার সূচনা হবে এই শহর থেকেই৻

তারা আরও দাবি করছেন, কর্নেল গদ্দাফির অনুগত সেনারা সবাই হয় আজদাবিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন, নয়তো আন্তর্জাতিক বাহিনীর বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন৻

অবশ্য পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিবিয়াতে বেসামরিক মানুষের জীবনরক্ষার চেষ্টায় ভাল অগ্রগতি হলেও কর্নেল গদ্দাফির বাহিনী এখনও নিশ্চিহ্ন হয়নি, বরং তারা এখনও হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারে৻

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলছে, আজদাবিয়ার মতো পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলোয় তারা এখনও হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে, পাঠাতে পারে নতুন সেনা ও রসদপত্রও৻

এদিকে লিবিয়া সরকারের একজন মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম বলেছেন, আন্তর্জাতিক জোটের বিমান হামলা লিবিয়াতে বিদ্রোহীদের অন্যায় সুবিধা করে দিচ্ছে৻

ঐ মুখপাত্র বলেন এই বিমান হামলার সুযোগ নিয়ে, তার আড়ালে বিদ্রোহীরা দক্ষিণ দিকে আজদাবিয়ার অভিমুখে এগোতে পেরছে৻ এটা অনৈতিক, এটা অবৈধ – নিরাপত্তা পরিষদ আদৌ এধরনের কাজের অনুমতি দেয়নি৻

তিনি আরও বলেন - অথচ নেটো এটা ভাল করেই জানে, পশ্চিমী দেশগুলোও জানে – কোনও সন্দেহ নেই৻ কিন্তু এভাবেই বিদ্রোহীরা আজদাবিয়ার দিকে এগোতে পারছে৻

এদিকে আজদাবিয়া থেকে বিবিসির সংবাদদাতা বেন ব্রাউন জানাচ্ছেন, ঐ শহরেই সরকারি বাহিনীর প্রায় গোটা কুড়ি ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া গাড়ি বা কামান তাদের চোখে পড়েছে, যেগুলো হয় ধ্বংস হয়ে গেছে, কিংবা পরিত্যক্ত অবস্থায় সেগুলো ফেলে সেনারা পালিয়েছেন৻

আর বিদ্রোহী নেতারা দাবি করছেন, কর্নেল গদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে অপসারিত করার জন্য তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে৻