৭০ অনুচ্ছেদে সংশোধনের প্রস্তাব
- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা
- Published
বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে একটি সংসদীয় কমিটি৻
সংবিধানের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা তাদের দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন না৻

বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট না দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংবিধানের যে ৭০ অনুচ্ছেদ রয়েছে, তাতে কিছুটা সংস্কার আনার কথা বলছে সংসদের বিশেষ কমিটি।
তবে তরুণ সংসদ সদস্যদের অনেকেই মনে করেন, সংবিধানের এই ৭০ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। অনেক সংসদ সদস্য বলছেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় ওই নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন।
জাতীয় সংসদের সদস্যরা অনাস্থা ভোটসহ কোনো ক্ষেত্রেই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। দল থেকে নিজে পদত্যাগ করলেও সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। এ ধরনের বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে।
সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারেও বিশেষ কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, সংবিধানের এই ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল না করে তাতে কিছুটা সংস্কার আনার পক্ষে তাদের কমিটিতে আলোচনা হয়েছে।

ছবির উৎস, bd govt
মি: সেনগুপ্ত উল্লেখ করেছেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়া যাবে না-এই বিষয়ে কোন পরিবর্তন আনা হবে না। তবে সংসদে কোন আলোচনায় সংসদ সদস্য যাতে দলের বাইরে স্বাধীনভাবে মতামত তুলে ধরতে পারেন, সেজন্য বিভিন্ন বাধা দূর করার ব্যাপারে বিশেষ কমিটি চিন্তা করছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল বিএনপি-দুদলই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রাখার পক্ষে। দল দুটির সিনিয়ার নেতাদের সাথে কথা বলে এমন ধারণাই পাওয়া গেছে।
তবে তরুণ সংসদ সদস্যদের মধ্যে এ ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে।
১৯৯১ সালে যখন সংসদীয় গণতন্ত্র আবার ফেরত আনা হয়েছিল, তখনই দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই বিষয়গুলো কঠোর করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে যেকোনো ইস্যুতে ভোট দেওয়া এবং মতামত তুলে ধরার ক্ষেত্রে একজন সংসদ সদস্যের স্বাধীনতা থাকা উচিত। ফলে নিয়ন্ত্রণমূলক বিধান পুরোপুরি বাতিল করা উচিত বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন।
বিএনপির আরেকজন তরুণ সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইঞা বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে নিয়ন্ত্রণমূলক এই ব্যবস্থাগুলো থাকা প্রয়োজন। তা নাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অস্থিরতা দেখা দেবে এবং বাইরের কোনো শক্তি সংসদকে নিয়ে খেলার সুযোগ পাবে।
আওয়ামী লীগের একজন তরুণ সংসদ সদস্য জুনায়েদ আহমেদ পলকের বক্তব্যও অনেকটা একইরকম। তিনিও বলেছেন, ফ্লোর ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে বা ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হলে তাতে গণতন্ত্রে অস্থিরতা দেখা দেবে।
তিনি আরো বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সংস্কার আনা যেতে পারে, কিন্তু বড়ধরনের পরিবর্তন আনা উচিত নয়।
এদিকে, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদের বিশেষ কমিটি বলছে, তাদের মতামত বা প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত আসবে।








