যশোরে এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত

hartal
ছবির ক্যাপশান, নারী নীতি বাতিলের দাবীতে হরতালের সমর্থনে রাজধানী ঢাকাতে মিছিল।
    • Author, আহরার হোসেন
    • Role, বিবিসি ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর যশোরে পুলিশের সাথে মাদ্রাসা ছাত্রদের সংঘর্ষে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সংঘর্ষের সময় পুলিশ সহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

সম্প্রতি সরকার ঘোষিত নারীনীতি বাতিলের দাবিতে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি সোমবার যে হরতাল ডেকেছে তার সমর্থনে যশোরে আয়োজিত একটি সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় হোসাইন আহমেদ নামে এক মাদ্রাসা-ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

ঘটনার পর আঞ্জুমান হেফাজত নামে একটি সংগঠন সংবাদ সম্মেলন করে নিহত ওই ছাত্রকে তাদের দলের সদস্য বলে দাবি করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবী করা হয় পুলিশ ওই সংগঠনের শান্তিপূর্ণ মিছিলে আকস্মিক গুলি চালায়।

তবে যশোরের স্থানীয় পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে মিছিলে রাবার বুলেট ছোড়ার কথা স্বীকার করা হয়।

একই সাথে, পুলিশের গুলিতে ওই মাদ্রাসা ছাত্র মারা যাননি বলেও পুলিশ দাবী করে।

হরতাল প্রত্যাহারে সরকারের আহ্বান

সম্প্রতি সরকার যে নারী উন্নয়ন নীতিমালা ঘোষণা করেছে, তাতে ইসলামবিরোধী কয়েকটি ধারা রয়েছে এই দাবি করে ইসলামি আইন বাস্তবায়ন কমিটি নামে একটি সংগঠন মূলত এই হরতালের ডাক দিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয় রবিবার একটি সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটিকে হরতাল প্রত্যাহার করে সরকারের সাথে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শিরিন শারমীন চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের পরিপন্থী নয়।

তবে রাত পর্যন্ত হরতাল প্রত্যাহারের জন্য সরকারের আহ্বানে সাড়া দেয়নি ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি।

সংগঠনটির প্রধান ফজলুল হক আমিনী বলছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের আর পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই।

মিস্টার আমিনী বলছিলেন, এখন আপসের আর কোনও সুযোগ নেই। তার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার যে দুটি ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছে মিস্টার আমিনীর সংগঠন তার একটিতে ‘সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসাতে নারীকে সমান সুযোগ' দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অপর ধারাটিতে রয়েছে, উপার্জন, উত্তরাধিকার, ঋণ, ভূমি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদে নারীর পূর্ণ অধিকার দেয়ার কথা।